শনিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ , ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২

ফিচার

শান্তি-সাম্য-ঐক্য ও কল্যাণের শুভ সংবাদ নিয়ে আসেন রাসুল (সা.)

নিউজজি ডেস্ক অক্টোবর ৩০, ২০২০, ১২:১৯:১৭

  • ছবি: ইন্টারনেট

আল্লাহর হাবিব প্রিয় রাসুল আখেরি নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এই ধরায় শুভাগমন করেন আজ থেকে প্রায় ১৪৫০ বছর আগে ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে। ভোরের সমীরণ নিয়ে তিনি এসেছিলেন স্নিগ্ধ প্রাতঃকালে। সপ্তাহের মধ্যদিবস বরকতময় সোমবারে পদার্পণ করেন এই জগতে। এক মোহনীয় প্রতিবেশে জগৎবাসীর জন্য মানবতার মুক্তির মহান বাণী নিয়ে আসেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ অবিসংবাদিত মহামানব হজরত মুহাম্মদ (সা.)। সঙ্গে নিয়ে আসেন শান্তি, সাম্য, ঐক্য, কল্যাণের শুভ সংবাদ।

তাইতো দিনটি গোটা বিশ্বের মুসলমানদের নিকট অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। রাসূল (সাঃ) এর জীবনী ঘিরে দুটি বিষয় আমরা পালন করে থাকি, ঈদে মিলাদুন্নবী ও সিরাতুন্নবী। মিলাদ ও সিরাত দুটি আরবি শব্দ। মিলাদ অর্থ জন্ম আর সিরাত শব্দের অর্থ জীবনচরিত।

সুতরাং- ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) অর্থ নবীজির জন্ম আর সিরাতুন্নবী (সা.) এর অর্থ নবীজির জীবনচরিত। মূলত নবীজির শুভ বেলাদাত বা জন্মকে স্মরণ করে যে অনুষ্ঠান হয় তাকে মিলাদুন্নবী (সা.) মাহফিল বলা হয়। আর নবীজির জীবনচরিত আলোচনার জন্য যে অনুষ্ঠান তাকে সিরাতুন্নবী (সা.) মাহফিল বলা হয়।

রাসূল (সাঃ) এমন একজন আদর্শিক মানুষ ছিলেন, যিনি শুধু মুসলমানদের নিকটই নয়, একজন বিশ্বস্ত মানুষ হিসেবে ভিন্ন ধর্মাবলম্বিরাও তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ থাকতো। কাফির, মুশরিক এমনকি জানের দুশমনরাও যার সত্যবাদির জন্য তাকে ‘আল আমিন’(বিশ্বস্ত) বলে ডাকতো।

অন্ধকার যুগের পশুসুলভ জীবনাচার ও জুলুম, নিপীড়ন–নির্যাতনের সামাজিক অন্যায়–অবিচার ও অত্যাচারের তমসা থেকে মানবতাকে সভ্যতার আলোর দিকে এগিয়ে নিতে; তিনি ভোরের সমীরণপ্রবাহ সঙ্গে নিয়ে, প্রভাত রবির রঙিন আলোয়, সকালের সূর্যের হাসি হয়ে উষার আকাশে উদিত হলেন মুক্তির দূতরূপে। তখন চলছিল আইয়ামে জাহেলিয়াত, মানে অন্ধকার যুগ। অজ্ঞানতা, মূর্খতা, কুসংস্কার ও পাপাচারে নিমজ্জিত ছিল জাজিরাতুল আরব বা আরব উপদ্বীপ। এ সময় জ্ঞানের আলো নিয়ে, মুক্তির বাণী নিয়ে পৃথিবীতে আসেন মানবতার মহান বন্ধু হজরত মুহাম্মদ (সা.)।

পৃথিবীর এই মহামানবের আগমনে কিসরা ও কাইজার গণচুম্বি প্রাসাদ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। অন্ধকার দূর হয়ে আলোর পথে আসে তৎকালীন জাহেলি সমাজ। পৃথিবী ধ্বংসের আগ পর্যন্ত তাকে বিশ্ববিবেক কখনো ভুলে যাবে না।

১২ রবিউল আউয়াল রাসূল (সা.) পৃথিবীতে আসেন ও একই দিনে আল্লাহর ডাকে সাড়া দেন। তিনি আজ পৃথিবীতে নেই, সেটিই ভাববার বিষয়। তবে তাঁর আগমন ও প্রস্থান নিয়ে শোক পালন বড় কথা নয়, তার জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে তাঁকে অনুসরণ করাই একজন প্রকৃত মুসলামানের কাজ। কোরআন ও সুন্নাহকে আকড়ে ধরে ইসলামকেই ইহকালীন ও পরকালীন মুক্তির পথ হিসেবে মানতে হবে। ঠিক যেভাবে তিনি করেছেন।

আজ আমাদের মাঝে তিনি নেই। তাতে কি হয়েছে? নবীর সিরাত (৬৩ বছরের জীবনী) তো আছে? নবীর সিরাত সম্পর্কে আল্লাহপাক কুরআনে ইরশাদ করেন, ‘তোমাদের মধ্যে রাসূলুল্লাহর জীবনে রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ। (সূরা-আহযাব: ২১)

সূরা নূরের ৫৪ নং আয়াতে বলা হয়েছে, ‘যদি তোমরা রাসূলকে অনুসরণ কর, তবেই তোমরা সত্যপথের সন্ধান পাবে’। জেনে রাখা দরকার যে, রাসূলের অনুসরণ ব্যতীত ইহ-পরকালে নাযাত পাওয়া নিতান্তই দূরূহ ব্যাপার। রাসূল্লাহর অনুসরণের মাঝেই সকল প্রকার সাফল্য নিহিত রয়েছে।

এ সর্ম্পকে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘যে কেউ আল্লাহর আনুগত্য করে এবং রাসুলের অনুসরণ করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করবে’। (সূরা আহযাব : ৭১)

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ মহামানব হজরত মুহাম্মদ (সা.)। ব্যক্তিজীবনে, সমাজ ও রাষ্ট্রে একমাত্র তাঁর অনুকরণ–অনুসরণই দিতে পারে মুক্তির দিশা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহর রাসুলের মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ।’ (সুরা-৩৩ আহজাব, আয়াত: ২১)। তিনি মানবজাতির সর্বোচ্চ পূর্ণতায় অধিষ্ঠিত একমাত্র ব্যক্তি। ‘(হে রাসুল!) নিশ্চয় আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী।’ (সুরা-৬৮ কলম, আয়াত: ৪)।

স্বমহিমায় উজ্জ্বল বিশ্বশান্তির রোল মডেল এই বিশ্বমানবের আগমন দিবসটি বিশ্বব্যাপী পালিত হয় ‘ফাতিহা ই ইয়াজদাহম’, ‘ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)’ ও ‘সিরাতুন্নবী (সা.)’ নামে। শুধু একটি দিবস নয়; মাসব্যাপী, বছরব্যাপীও পালিত হয় এই মহামানবের স্মরণ ও স্মৃতি। বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ প্রাত্যহিক জীবনে অনুকরণ–অনুসরণ করে চলছে তাঁর জীবনাচার ও অনুপম মহান আদর্শ। সব মানুষের হৃদয়ে তিনি জ্যোতির্ময় চিরভাস্বর হয়ে থাকবেন অনন্তকাল।

নিউজজি/ এসআই

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
        









copyright © 2020 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers