বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২১, ১৫ মাঘ ১৪২৭ , ১৩ জুমাদাউস সানি ১৪৪২

ফিচার

পুরো গ্রামকে আলোকিত করে অনন্য নজির স্থাপন বানঘর যুবসমাজের

সাদাত হোসাইন জানুয়ারী ১৩, ২০২১, ১৯:০৭:৪৩

  • ছবি: লেখক

দেশে যখন ধর্ষণ, সুদ, ঘুষ আর দুর্নীতি টাকার পাহাড় বানানোর খবর চড়াও, খারাপ মানুষ আর সাহেদ, সম্রাট, সাবরিনাদের দৌরাত্ম্য তখন এমন একটি অনন্য ঘটনা দেশের জন্য সুখবরই বয়ে আনে।

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের ছোট্ট গ্রাম। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে মিলেমিশে গেছে মানুষের ভালবাসার বুক ঘেঁষে। সেকারণে, এই গ্রামের প্রতিটি মানুষের গ্রামের সাথে সম্পর্ক যেন ভালোবাসার। তাই, সুদূর প্রবাসে থেকে একজন আলাউদ্দীন পাটোয়ারী গ্রামের কথা ভেবে দুচোখ ভরে স্বপ্ন দেখে। কীভাবে গ্রামের জন্য কিছু করা যায়- যেই ভাবনা সেই কাজ। ‘স্বপ্ন’ নামে একটি সামাজিক সংগঠন খোলেন এই করোনার সময়ে।

পৃথিবীর প্রত্যেকটা মানুষ যেখানে নিজের পকেট ভারী, নিজের আরাম আয়েশ আর ভবিষ্যৎ ভাবছে, সেখানে করোনার সময় তিনি লাখ লাখ টাকার সাহায্য পাঠিয়েছেন সুদূর কানাডা থেকে সবার অজান্তে। কখনো বন্ধুর মাধ্যমে, কখনো ছোট ভাইয়ের মাধ্যমে, কখনো কাছের মানুষের মাধ্যমে।

এবার গ্রামের জন্য কিছু করতে চান তিনি। তাই, আলোকিত বানঘর করার প্রত্যয় নিয়ে শুরু হয়ে গেল সংগঠন ‘স্বপ্ন’ । ফেসবুক, ইমোতে গ্রামের যুবসমাজ নিয়ে গ্রুপ খুললেন, গ্রামের আরো সম্মানিত মানুষদের এক করলেন, গ্রামের আরো যারা প্রবাসী আছে তাদের আহ্বান করলেন।

আহ্বায়ক করলেন মঞ্জুর রহমান নামে একজনকে। দূর প্রবাস থেকে দিক নির্দেশনা দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকলেন সংগঠন। এবার প্রথম উদ্যোগ হিসেবে গ্রামের অন্ধকার দূর করার মতো বড় স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে গেলেন। সবার সাথে গ্রামের মোড়ে মোড়ে সোলার ল্যাম্পপোস্ট লাগানোর কথা শেয়ার করলেন। খুব সহজ ছিল না তবু গ্রামের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই কাজটা খুব তাড়াতাড়ি হয়ে গেল। সোলারের স্ট্রিট লাইট সদূর চায়না থেকে আনার পরিকল্পনা করা হলো।

এবার টাকা সংগ্রহের কাজ চলতে থাকল৷ সবার ঠিকই মাতৃভূমি আর মায়ের প্রতি ভালোবাসার জন্য কমতি ছিল না। ভালোবাসার জলোচ্ছ্বাস বয়ে গেল আর অল্পদিনেই চোখের পলকে কাঙ্ক্ষিত তহবিল গঠন হয়ে গেল।

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের ‘বানঘর’ গ্রামের যুবকদের সংগঠনের পক্ষ থেকে এই গ্রামে টানা ৪ দিন নিজেরাই পরিশ্রম করে প্রায় ৫০টি সোলার ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন করা হলো। যা মনোহরগঞ্জ উপজেলায় বানঘর  প্রথম গ্রাম হিসেবে এমন অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। এখন বানঘরে রাতে অন্ধকার নামে না, জ্বলে ওঠে তরুণদের স্বপ্ন বেয়ে আলোর বন্যা।

আমি একজন দূর থেকে দেখা সেই মানুষ, যে স্বপ্ন দেখে এমন ভালো চিন্তার যুবসমাজ পুরো দেশে ছড়িয়ে থাকুক। যারা আলোকিত করবে পুরো দেশ, পৃথিবীর মানচিত্রে অনন্য নজির স্থাপনের সম্মান বয়ে আনবে যারা।

যদিও আমি অনেকের নাম উল্লেখ করতে পারি নাই। কেননা কারও সাথে কথা বলে এই ফিচার লিখি নাই। একজন দূরের শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে লিখেছি। আশা করছি পরের লেখায় যাদের অবদান আছে সবার নাম লিখব।

লেখক: গীতিকার ও কণ্ঠশিল্পী

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers