শনিবার, ১২ জুন ২০২১, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ , ১ জিলকদ ১৪৪২

ফিচার

স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ও প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার

শহীদুল্লাহ ফরায়জী এপ্রিল ১০, ২০২১, ১১:২৭:৩৯

  • ছবি: নিউজজি২৪

আজ ১০ই এপ্রিল। ১৯৭১ সালের এই দিনে মুজিবনগর সরকারের জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জাতিরাষ্ট্র গঠনের সকল আকাঙ্ক্ষার পূর্ণতা দিয়েছে, এবং এই ঘোষণাপত্রে জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের সকল উপাদান বিদ্যমান। নজিরবিহীন বর্বর গণহত্যাসহ অন্যায় যুদ্ধের পরিপেক্ষিতে বীরত্ব ও বিপ্লবী উদ্দীপনায় জনগণ বাংলাদেশের ভূখণ্ডের উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে ঘোষণাপত্র যা নিশ্চিত করে।

স্বাধীনতা ও আত্মবিকাশের প্রশ্নে এ ঘোষণা বাঙালির আন্দোলন সংগ্রামের ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ ঘোষণা। 

বাঙালির জীবনে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ গৌরবোজ্জ্বল ঘটনা আমাদের মুক্তিযুদ্ধ। এই মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমেই বাংলাদেশ ভূগোল এবং ইতিহাসে জাতিরাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। 

দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর অগ্নিঝরা মার্চে গণবিস্ফোরণ, গণঅভ্যুত্থান ও অসহযোগ আন্দোলনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে এবং নিউক্লিয়াসের পরিকল্পনায় জাতির রাজনৈতিক চেতনায়  বড় ধরনের মৌলিক রূপান্তর ঘটে। স্বাধীনতার লক্ষ্যে সশস্ত্র সংগ্রাম একমাত্র লক্ষ্য হয়ে ওঠে। 

 বঙ্গবন্ধুকে ২৫শে মার্চের গণহত্যার প্রথম প্রহরেই গ্রেপ্তার করা হয়। তারপর হানাদার বাহিনী গণহত্যা, ধ্বংসযজ্ঞ, লুণ্ঠন ও নারী নির্যাতনের ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি করে। একদিকে প্রাণ রক্ষার জন্য লক্ষ লক্ষ ভীতসন্ত্রস্ত ও অসহায় নারী পুরুষ প্রাণের চেয়ে আপন ভিটেমাটি ছেড়ে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে আশ্রয় গ্রহণ করে। অন্যদিকে শত্রুকে প্রতিরোধ করার জন্য  ঝাঁপিয়ে পড়েছিল ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও ইপিআরের বিদ্রোহী বাঙালি সৈনিকগণ এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর বীর জওয়ানরা।

পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধরত প্রতিরোধযোদ্ধাদের অধিনায়কেরা ৪ এপ্রিল হবিগঞ্জের মাধবপুরের তেলিয়াপাড়ায় এক বৈঠক করেন। বৈঠকে বাঙালি সেনা কর্মকর্তারা সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। 

এ অবস্থায় গণহত্যার শিকার বাঙালি জাতিকে হানাদার বাহিনী থেকে রক্ষা ও প্রতিরোধ করা এবং স্বাধীনতা অর্জনে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় যথাসম্ভব দ্রুত একটি সরকার গঠন অনিবার্য হয়ে পড়ে। এই  স্বীয় বিবেচনায় ভবিষ্যতের রূপরেখা প্রণয়নে তাজউদ্দীন আহমদ ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা হন। এ প্রসঙ্গে তাজউদ্দীন আহমদ স্মৃতিচারণে উল্লেখ করেছেন.. যাবার পথে এদেশের মানুষের স্বাধীনতা লাভের যে চেতনার উন্মেষ দেখে গিয়েছিলাম সেটাই আমাকে আমার ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নেয়ার পথে অনিবার্য সুযোগ করে দিয়েছিল। জীবননগরের কাছে সীমান্তবর্তী টঙ্গি নামক স্থানে একটি সেতুর নিচে ক্লান্ত দেহ এলিয়ে আমি সেদিন সাড়ে সাত কোটি বাঙালির স্বার্থে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম তা হল: একটি স্বাধীন সরকার প্রতিষ্ঠা করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম পরিচালনার জন্য কাজ শুরু করা। 

বলে রাখা প্রয়োজন প্রবাসী সরকার গঠনের এটাই প্রথম কার্যকর উদ্যোগ। তখন বৃহত্তর পরিসরে প্রবাসী সরকার গঠনে আলোচনারও কোনো সুযোগ ছিল না।

ভয়ঙ্কর বিপদসংকুল ও সংকটপূর্ণ পরিবেশে, বঙ্গবন্ধুর অনুপুস্থিতিতে এবং অভাবনীয় পরিস্থিতিতে বাঙালি জাতিকে নেতৃত্ব দেওয়ার ঐতিহাসিক দায়িত্ব গ্রহণ করেন তাজউদ্দীন আহমদ। বাংলাদেশ সরকার গঠন প্রশ্নে ১৯৭১ সালের ৩ এপ্রিল প্রথমদিনের আলোচনাতেই তাজউদ্দীন আহমদের  রাজনৈতিক দূরদর্শীতা ভারতের তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং তাজউদ্দীন আহমদেরই সুতীক্ষ্ণ কূটনৈতিক তৎপরতায় দ্রুত প্রবাসী সরকার গঠন সম্ভব হয়। 

এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট বাঙালি অর্থনীতিক রেহমান সোবহান উতল রোমন্থন পূর্ণতার সেই বছরগুলো গ্রন্থে বলেছেন "আমার সঙ্গে বৈঠকে হাকসার আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য নেতাদের ব্যাপারে জানতে চান যারা বঙ্গবন্ধুর মতো উঁচু মাপের নেতার অনুপস্থিতিতে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বে দিতে পারবে। তাজউদ্দীন সেই সময় দিল্লিতে এসেছেন এটা না জেনেই আমি বলেছিলাম এই ভূমিকা সম্ভবত তাজউদ্দীন আহমদই পালন করতে পারেন।”

পাকিস্তানের চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধ মোকাবেলা করা, সুনিয়ন্ত্রিত এবং সুসংগঠিতভাবে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করার জন্য প্রবাসী সরকার গঠন করা ছাড়া তাজউদ্দীন আহমদের সামনে আর কোন বিকল্প ছিল না। জাতির ক্রান্তিলগ্নে বহুমাত্রিক জটিল সংকট ও সমস্যাসঙ্কুল অবস্থায় তাজউদ্দীন আহমদ অপরিসীম গুরুদায়িত্ব বহন করে সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি পূরণ করেছেন। ফলে মুক্তিসংগ্রামে অসামান্য প্রেরণা সংযোজিত হয় এবং বাংলাদেশ বিশ্ব মানচিত্রে আবির্ভূত হওয়ার সম্ভাবনা অনিবার্য হয়ে ওঠে।

প্রবাসী সরকারের অধীনেই ১০ এপ্রিল স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করা হয়। বাংলাদেশের প্রথম  সরকারই বাংলাদেশের স্বাধীনতার বৈধ, আইনগত ও নৈতিক কর্তৃপক্ষ।

প্রবাসী সরকার গঠন হবার কারণেই মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ, দেশের অভ্যন্তরে অসহযোগ আন্দোলন সক্রিয় রাখা এবং বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্র থেকে অস্ত্র, অর্থ ও কূটনৈতিক স্বীকৃতি লাভের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

তাজউদ্দীন আহমদ দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১১ এপ্রিল স্বাধীনতা যুদ্ধের মূলনীতি সম্মিলিত বক্তব্য প্রদান করেন। ওই বক্তৃতায় তিনি বলেন এ যুদ্ধে যে আমাদের জয় অবশ্যম্ভাবী তাতে সন্দেহের কারণ নেই। আপনারা ইতিমধ্যে সাহস ও ত্যাগের বিনিময়ে যে বিজয় অর্জন করেছেন শত্রুপক্ষ আজকে তা স্পষ্ট বুঝতে পেরেছে। তারা ভেবেছিল যে আধুনিক সমরসজ্জায় এবং কামানের গর্জন এর  নিচে স্তব্ধ করে দেবে বাঙালির ভবিষ্যৎ আশা-ভরসা। আর চোখ রাঙ্গিয়ে ভয় দেখিয়ে বাঙালিকে তারা বুটের নিচে নিষ্পেষণ করবে। কিন্তু তাদের সে আশা আজ ধুলিস্যাৎ হয়ে গেছে।

ওই বক্তৃতায় তিনি আরও বলেছিলেন স্বাধীনতার জন্য যে মূল্য আমরা দিয়েছি তা কোন বিদেশী রাষ্ট্রের উপরাষ্ট্র হওয়ার জন্য নয়। পৃথিবীর বুকে স্বাধীন-সার্বভৌম একটি শান্তিকামী দেশ হিসাবে রাষ্ট্র পরিবার গোষ্ঠীতে উপযুক্ত স্থান আমাদের প্রাপ্য। এ অধিকার বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের জন্মগত অধিকার।

সুদীর্ঘ বক্তৃতার শেষ প্রান্তে বলেছিলেন যারা আজ রক্ত দিয়ে উর্বর করেছে বাংলাদেশের মাটি, যেখানে উৎকর্ষিত হচ্ছে স্বাধীন বাংলাদেশের নতুন মানুষ, তাদের রক্ত আর ঘামে ভেজা মাটি থেকে গড়ে উঠুক নতুন গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা। গণ-মানুষের কল্যাণে সাম্য আর সুবিচারের ভিত্তিপ্রস্তরে লেখা হোক 'জয় বাংলা'  'জয় স্বাধীন বাংলাদেশ'।

প্রবাসী সরকার গঠন এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম এবং রেহমান সোবহান। জাতীয়, আঞ্চলিক ও অভ্যন্তরীণ প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবাসী সরকারের মন্ত্রিসভা প্রকাশ্যে শপথ গ্রহণ করে। 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলাম উপরাষ্ট্রপতি, তাজউদ্দীন আহমদ প্রধানমন্ত্রী, মুনসুর আলী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, এএইচএম কামরুজ্জামান অর্থমন্ত্রী ও খন্দকার মোস্তাক আহমেদকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করে প্রবাসী সরকারের মন্ত্রী পরিষদ গঠন করা হয়।

বেদনার বিষয় যারা দীর্ঘদিন প্রচন্ড প্রতিকূলতার মধ্যে লড়াই করে অনন্য ইতিহাস নির্মাণ করেছেন, সময়ের সেই সাহসী সন্তানদের আমরা ইতিহাসের আলোয় প্রতিফলিত করতে পারিনি।

মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে রাষ্ট্রের জন্ম সেই রাষ্ট্রে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, বীরত্ব অবদান এবং প্রবাসী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ড স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বিন্দুমাত্র ঠাঁই পায়নি। গত ৫০ বছরে প্রবাসী সরকারের আত্মপ্রকাশ বা শপথ গ্রহণের দিনটিকে একবারের জন্যও রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা হয় নি। বাংলাদেশের কোথাও প্রবাসী সরকার নিয়ে একটি স্থাপত্য আজ পর্যন্ত নির্মাণ হয় নি. কোন স্মৃতিস্তম্ভও নির্মাণ করা হয় নি, এমনকি প্রবাসী সরকারের গুরুত্ব ও মর্যাদাসহ কোন কর্মকান্ড পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় নি।

এখন কেউ কেউ  বাংলাদেশের প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদকে স্মরণ করে শহীদ জাতীয় চার নেতার একজন হিসাবে। শুধু যেন এটুকুই প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রীর প্রাপ্য। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় ওই সময় যদি জাতীয় চার নেতার সাথে তাজউদ্দীন আহমদকে নির্মমভাবে হত্যা করা না হতো তাহলে হয়তো উনার নাম নেয়ার কোন উপলক্ষ হতো না। আমরা সত্যকে অস্বীকার করার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছি। 

বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে জাতীয় মুক্তিসংগ্রামে নেতৃত্ব দেয়া এবং সর্বোপরি সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দেয়ার অসাধারণ কাজ সম্ভব হয়েছে তাজউদ্দীন আহমদের দূরদর্শী, দৃঢ়চেতা ও রাষ্ট্রনায়কোচিত গুণাবলীর জন্য। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ভয়াবহ আক্রমণ, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী থেকে বাঙালি সেনাদের বিদ্রোহ, লক্ষ ছাত্র-যুব জনতার সশস্ত্র লড়াইয়ে প্রেরণা এবং সমগ্র বাংলা জুড়ে বিদ্রোহের আগুন এই প্রেক্ষিতে সশস্ত্র প্রতিরোধ তথা মুক্তির লড়াই শুরু করার জন্য 'প্রবাসী সরকার' গঠনের দুরূহ দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নেওয়ার মতো দুঃসাহসিক ও যোগ্যতম মানুষ হচ্ছেন তাজউদ্দীন আহমদ। তাঁর এই নেতৃত্ব স্বাধীনতা অর্জনের প্রশ্নে কত বেশী তাৎপর্যমণ্ডিত তা আমরা কখনো বুঝতে পারিনি।

বঙ্গবন্ধুর গ্রেপ্তারের পর অতি দ্রুত প্রবাসী সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে অসামান্য গতি সঞ্চার করে এবং বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা উজ্জ্বল করে তোলে। কিন্তু আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব তাজউদ্দীন আহমদকে প্রতি পলে পলে ক্ষতবিক্ষত এবং বাধাগ্রস্ত করেছে। নেতৃত্বের কলহ ও বিশৃংখলার নাজুক পরিস্থিতিতেও স্বাধীনতার স্বপ্নকে যেন কেহ নস্যাৎ করে দিতে না পারে সেজন্য তিনি ছিলেন দৃঢ়চেতা, আপোষহীন এবং লক্ষ্য অর্জনে অটল। অভ্যন্তরীণ  ও আন্তর্জাতিক চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রসহ বহুমাত্রিক জটিলতাকে মোকাবেলা করে জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের নেতৃত্ব প্রদান করেছেন তাজউদ্দীন আহমদ।

তাজউদ্দীন আহমদের দুর্ভাগ্য, যে রাজনৈতিক দলের জন্য নিজের সমগ্র জীবন উৎসর্গ করেছেন সেই রাজনৈতিক দল প্রবাসী সরকারের ঐতিহাসিক অবদানকে কখনো উচ্চ মর্যাদার আসন দেয়নি।  মৃত্যুর আগে তিনি সেই দলের কোন কমিটির সদস্যও ছিলেন না এবং ছিলেন না কোন সরকারি পদেও। বাকশাল কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটিতে প্রবাসী সরকারের সবাই অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, শুধু ছিলেননা তাজউদ্দীন আহমদ। সেই রাজনৈতিক দলেরই নেতা খন্দকার মোশতাকের নির্দেশে কারাগারে রাতের আঁধারে তাজউদ্দীন আহমদসহ জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়। সেই দল ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় সুবর্ণজয়ন্তীতে প্রবাসী সরকার চরমভাবে উপেক্ষিত হচ্ছে।

জাতিরাষ্ট্র নির্মাণে বঙ্গবন্ধু অবিসংবাদিত নেতা, কিন্তু স্বাধীনতা সংগ্রামের মহাকাব্যে অনেক বীরের জন্ম হয়েছে, অনেক সিপাহসালারের জন্ম হয়েছে, জন্ম হয়েছে অনেক অগ্নিপুরুষের। স্বাধীনতা বহু মানুষের কর্মযজ্ঞ ও আত্মত্যাগের ফসল। 

স্বাধীনতা অর্জনের সর্বোচ্চ স্তর হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ। তাই প্রবাসী সরকারের উজ্জ্বল কীর্তির স্বীকৃতি স্বরূপ (১) প্রবাসী সরকারের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করার দিন ১০ এপ্রিল বা প্রবাসী সরকারের শপথ গ্রহণের দিন ১৭ এপ্রিলকে "প্রজাতন্ত্র দিবস"Republic Day ঘোষণা করা; (২) প্রজাতন্ত্রের প্রতীক হিসাবে ঢাকায় 'প্রজাতন্ত্র স্তম্ভ' Statue of Republic নির্মাণ করা; (৩)  স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার এই তিনটিকে 'প্রজাতন্ত্রের আদর্শ' ঘোষণা করা;( ৪) রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ও পাঠ্যপুস্তকে প্রবাসী সরকারের ঐতিহাসিক অবদান উপস্থাপন করা; (৫) বীরত্বপূর্ণ যুদ্ধের স্থানসমূহ চিহ্নিতকরণ, মুক্তিযুদ্ধের অস্ত্রসহ বিভিন্ন উপকরণ সংরক্ষণ এবং যার যা অবদান তা ইতিহাসে অন্তর্ভুক্ত করা।

মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের কন্যা শারমিন আহমদ বলেছেন 'নিজ দেশের স্বর্ণ সন্তানদের প্রাপ্য মর্যাদা না দিয়ে এবং নিজ জাতির স্বর্ণোজ্জ্বল ইতিহাসকে অবহেলা ও খন্ডিত করে আমরা বহিঃবিশ্বের সামনেও হয়ে গেছি ম্লান ও সংকুচিত'।

আমরা অবশ্যই যেন নিজ দেশের স্বর্ণ সন্তানদের যথাযোগ্য মর্যাদা দিয়ে বিবেকের দায় শোধ করি।

লেখক: গীতিকার

faraizees@gmail.com

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers