বৃহস্পতিবার, ৬ মে ২০২১, ২২ বৈশাখ ১৪২৮ , ২৪ রমজান ১৪৪২

ফিচার

বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

নিউজজি ডেস্ক এপ্রিল ১৮, ২০২১, ১২:৩৯:৪১

  • বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

ঢাকা : বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য বীরত্বের জন্য বীরশ্রেষ্ঠ উপাধিতে ভূষিত সাত জনের অন্যতম একজন সিপাহী মোস্তফা কামাল। এই শহীদ বীরযোদ্ধার ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৭১ সালের এই দিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় দরুইন গ্রামে পাকবাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে তিনি শহীদ হন। সেদিন তিনি একাই লড়াই করে বাঁচিয়ে দিয়েছেন সহযোদ্ধাদের প্রাণ।

মোস্তফা কামালের বীরত্বের কাহিনী ছিল অসাধারণ। মোস্তফা কামালের ছোট বেলা থেকেই সৈনিকদের কুচকাওয়াজ পছন্দ করতেন। নিজেও স্বপ্ন দেখতেন সৈনিক হওয়ার। ১৯৬৭ সালে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। প্রশিক্ষণ শেষে তাঁকে নিয়োগ করা হয় ৪ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, কুমিল্লায়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরুর কয়েকদিন পূর্বে সিপাহি মোস্তফা কামাল অবৈতনিক ল্যান্স নায়েক হিসেবে পদোন্নতি পান। ৭ মার্চ জাতির পিতার ঐতিহাসিক ভাষণ শুনে বীরদর্পে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন মোস্তফা কামাল।

১৯৭১ সালের উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ অভ্যন্তরীণ গোলযোগ নিয়ন্ত্রণের অজুহাতে ৪ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে সিলেট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মোতায়েন করে। পাকিস্তানি চক্রান্ত বুঝতে পেরে কয়েক জন বাঙালি সৈনিককে সঙ্গে নিয়ে মেজর শাফায়াত জামিল রেজিমেন্টের অধিনায়ক লে. কর্নেল খিজির হায়াত খানসহ সকল পাকিস্তানি অফিসার ও সেনাদের গ্রেফতার করেন।

এরপর তারা মেজর খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে আশুগঞ্জ, উজানিস্বর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এন্ডারসন খালের পাশ দিয়ে প্রতিরক্ষা অবস্থান নেন। ১৪ এপ্রিল পাকিস্তানি বাহিনী হেলিকপ্টার গানশীপ, নেভাল গানবোট ও এফ-৮৬ বিমানযোগে তাদের প্রতিরক্ষা অবস্থানের উপর ত্রিমুখী আক্রমণ চালায়। গঙ্গাসাগর প্রতিরক্ষা অবস্থানের দরুইন গ্রামে নিয়োজিত আলফা কোম্পানির ২নং প্লাটুনের একজন সেকশন কমান্ডার ছিলেন মোস্তফা কামাল।

১৭ এপ্রিল সকাল থেকে পাকিস্তানি বাহিনী তীব্র গোলাবর্ষণ শুরু করে প্লাটুন পজিশনের উপর। আক্রমণের খবর পেয়ে মেজর শাফায়াত অবস্থানকে আরো শক্তিশালী করতে হাবিলদার মুনিরের নেতৃত্বে ডি কোম্পানির ১১ নম্বর প্লাটুন পাঠান। সারাদিন যুদ্ধ চলে। ১৮ এপ্রিল সকালে শত্রুবাহিনী দরুইন গ্রামের কাছে পৌঁছে যায়। দুপুর ১২ টায় অবস্থানের পশ্চিমদিক থেকে মূল আক্রমণ শুরু হয়। শত্রুর একটি দল প্রতিরক্ষার পিছন দিক দিয়ে মুক্তিবাহিনীকে ঘিরে ফেলে। মুক্তিবাহিনী দরুইন গ্রাম থেকে আখাউড়া রেল স্টেশনের দিকে পিছু হটার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু নিরাপদে সেখান থেকে সরে আসতে হলে তাদের প্রয়োজন ছিল নিরবচ্ছিন্ন কাভারিং ফায়ার। মোস্তফা কামাল সহযোদ্ধাদের জানান যে, তিনি নিজে এই কাভারিং ফায়ার দান করবেন এবং সবাইকে পেছনে হটতে নির্দেশ দেন। সহযোদ্ধারা বিরত রাখার শত চেষ্টা করলেও মোস্তফা ছিলেন অবিচল। মোস্তফার গুলিবর্ষণে পাকিস্তানি সেনাদের প্রায় ২০-২৫ জন হতাহত হয় এবং তাদের অগ্রগতি মন্থর হয়ে পড়ে। পাকিস্তানিরা মরিয়া হয়ে মোস্তফা কামালের অবস্থানের উপর মেশিনগান এবং মর্টারের গোলাবর্ষণ করতে থাকে। এক পর্যায়ে মোস্তফা কামালের এলএমজি’র গুলি শেষ হয়ে যায় এবং তিনি মারাত্মক জখম হন। তখন পাকিস্তানি সৈনিকরা এসে তাঁকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে।(সূত্র : বাংলাপিডিয়া)

মোস্তফা তাঁর জীবন দিয়ে সহযোদ্ধাদের জীবন বাঁচিয়েছিলেন। দরুইন গ্রামের জনগণ মোস্তফা কামালকে তাঁর শাহাদাতের স্থানের পাশেই সমাহিত করেন। মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতি স্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত করে।

পারিবারিকভাবে জানা যায়, ১৯৪৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলার হাজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মোস্তফা কামাল। পিতা হাবিলদার মো. হাবিবুর রহমান ও মাতা মালেকা বেগম। ৫ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। তাঁর স্ত্রীর নাম পিয়ারা বেগম। আশির দশকে মেঘনা নদীর ভাঙ্গনে দৌলতখান উপজেলার হাজীপুর গ্রামে বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের পৈত্রিক বাড়িটি বিলীন হয়ে যায়।

১৯৮২ সালে সরকার সদর উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নে মৌটুপি গ্রামে কিছু সম্পত্তিসহ পাকা বাসভবন নির্মাণ করে তাঁর পরিবারকে পুনর্বাসিত করে। বর্তমানে এ গ্রামের নাম পরিবর্তন করে বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল নগর রাখা হয়েছে।

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers