বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ১৩ শ্রাবণ ১৪২৮ , ১৮ জিলহজ ১৪৪২

ফিচার

আজ কর্নেল তাহেরের মৃত্যুবার্ষিকী

নিউজজি প্রতিবেদক জুলাই ২১, ২০২১, ১৬:২৮:০৪

  • আজ কর্নেল তাহেরের মৃত্যুবার্ষিকী

ঢাকা : বীর মুক্তিযুদ্ধা, ১১ নম্বর সেক্টর কমান্ডার ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা কর্নেল (অব.) আবু তাহেরের (বীরউত্তম) ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৭৬ সালের এই দিনে জেনারেল জিয়া তাকে এক প্রহসনের বিচারে সামরিক ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দেয়া মৃত্যুদণ্ড ফাঁসিতে ঝুলিয়ে কার্যকর করেন।

তাহেরের ফাঁসির পর থেকে তার পরিবারসহ বিভিন্ন মহল ওই বিচারকে প্রহসনের বিচার এবং তাকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে আসছে। তারা এ বিচারের রায় বাতিল, মামলার দলিলপত্র প্রকাশ এবং কর্নেল তাহেরের রাষ্ট্রীয় সম্মান পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১১ সালের মার্চে হাইকোর্ট কর্নেল তাহেরের বিচারকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন এবং তাকে মরণোত্তর দেশপ্রেমিকের মর্যাদা দেয়ারও নির্দেশ দেন।

আবু তাহেরের জন্ম ১৯৩৮ সালের ১৪ নভেম্বর চট্টগ্রামে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নিয়েছেন সিলেট এম.সি কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। স্কুলে শিক্ষকতা দিয়ে পেশাগত জীবনের সূচনা হলেও পরবর্তী সময়ে যোগ দেন পাকিস্তান সেনাবাহিনিতে। আমেরিকা থেকে সমরবিদ্যায় উচ্চতর ডিগ্রি নেন তিনি। সত্তরের দশকের শেষের দিকে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে কর্মরত থাকাকালীন বাঙালির স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাঙালি সৈনিকদের গোপনে রাজনৈতিক–সামরিক প্রশিক্ষণ দেন।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পালিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে আসেন এবং যুদ্ধে যোগ দেন। ময়মনসিংহ ও রংপুরের একাংশ নিয়ে গঠিত ১১ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার হিসেবে ১৪ নভেম্বর কমলাপুর শত্রুঘাটিতে আক্রমণ পরিচালনা করার সময় বাম পায়ে মারাত্মক আঘাত পান। এবং হাঁটুর ওপর থেকে তাঁর পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ভারতে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে এলে কর্নেল তাহেরকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনির অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল পদে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং পরবর্তী সময়ে কুমিল্লা সেনানিবাসের অধিনায়কের দায়িত্ব লাভ করেন। কিন্তু কিছু বিষয়ে তদানীন্তন সরকারের সাথে মতপার্থক্য হওয়ায় ১৯৭২ সালে কর্নেল তাহের সেনাবাহিনি থেকে পদত্যাগ করেন।

সে বছরই জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সাংগঠনিক কমিটির সহ–সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন। ৭৫–এ বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের ফলে সেনাবাহিনিতে যে অভ্যুত্থান ও পালটা অভ্যুত্থান হয় তাতে সাধারণ সৈনিকদের মধ্যে বিক্ষোভ দেখা দেয়। এরই প্রেক্ষাপটে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত সিপাহি জনতার অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেন কর্নেল তাহের। সে বছরের ২৪ নভেম্বর তৎকালীন সামরিক সরকার কর্তৃক গ্রেফতার হন তিনি। ঢাকা কেন্দ্রিয় কারাগারের সামরিক আদালতে গোপন বিচারে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ১৯৭৬ সালের ২১ জুলাই ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় এই বীর মুক্তিযোদ্ধার।

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
        
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers