বুধবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২২, ৫ মাঘ ১৪২৮ , ১৪ জুমাদাউস সানি ১৪৪৩

ফিচার

ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফের বীরগাঁথা

নিউজজি ডেস্ক ডিসেম্বর ৫, ২০২১, ১২:২৩:৪৭

160
  • ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফের বীরগাঁথা

ঢাকা : ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ রাঙামাটি-মহালছড়ির জলপথে পাকিস্তানি সশস্ত্রবাহিনীর প্রবেশে প্রতিরোধ গড়ে তুলে নিজের জীবন দিয়ে বাঁচিয়ে দেন দেড়শো মুক্তিযোদ্ধাকে। পিতার মৃত্যুর পর জীবনযুদ্ধের লড়াইয়ে নামা ছাড়া আর কোন উপায় ছিলো না কিশোর মুন্সি আব্দুর রউফের। তাই পড়ালেখার পাঠ চুকিয়ে যোগ দেন ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস বা ইপিআরে। প্রশিক্ষণ শেষে দায়িত্ব পান পূর্ব পাকিস্তানের সীমান্ত রক্ষার।

মার্চ ৭১। উত্তাল সারাদেশ। বঙ্গবন্ধুর ডাকে চলছে অসহযোগ। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী শুরু করে গণহত্যা। বিদ্রোহ ঘোষণা করে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট। বিদ্রোহের এই ঢেউ এসে লাগে ইপিআরের বাঙালি সৈনিকদের হৃদয়েও। দেশকে শত্রু মুক্ত করার লড়াইয়ে যোগ দেন রউফসহ স্বাধীনতাকামী যোদ্ধারা।

মুক্তিযুদ্ধে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ রাঙামাটি-মহালছড়ি দখলে রাখার দায়িত্ব পান অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও ইপিআরের দেড়শো সৈনিক। এই দলের ১ নম্বর এলএমজি চালক মুন্সি আবদুর রউফ পার্বত্য চট্টগ্রামের বাকছড়ির বুড়িঘাটে প্রতিরক্ষা ঘাঁটিতে অবস্থান নিয়ে শত্রুকে ঘায়েলের দায়িত্বে। ৮ এপ্রিল সাতটি স্পিডবোট এবং দুইটি লঞ্চ নিয়ে আকস্মিক হানা দেয় পাক বাহিনী। মুহুর্মূহু গোলায় ভেঙে পড়ে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরক্ষাবলয়।

তখনই অসীম সাহসিকতায় বুক চিতিয়ে লড়ে যান রউফ। মেশিনগান নিয়ে শত্রুদের সঙ্গে একাই লড়াই করে সহযোদ্ধাদের নিরাপদে সরে যেতে সাহায্য করেন। এই বীর যোদ্ধার গুলিতে ডুবে যায় হানাদার বাহিনীর সাতটি স্পিডবোটই, নিহত হয় দুই প্লাটুন সৈন্য। কিন্তু শত্রুপক্ষের লঞ্চ দুটো দ্রুত নিরাপদ দূরত্বে গিয়ে শুরু করে পাল্টা আক্রমণ। এক পর্যায়ে মর্টারের ভারি গোলায় লুটিয়ে পড়েন রউফ, নীরব হয়ে যায় তাঁর মেশিনগান।

বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফের বোন জোহরা খাতুন বলেন, 'আমার ভাই খুব ভদ্র ও দুরন্ত ছিলেন। সে আমাদের খুবই ভালোবেসেছে। আমার চাচা গিয়েছিলেন রাঙামাটি। এই মাস পরেই রউফ আসছে, আর ছুটি করাতে পারলাম না। তার ১৫ দিন পরই এই যুদ্ধ আরম্ভ হয়। ৩ মাস চলে যায়, ভাইয়ের খবর নাই। ৬ মাসের দিকে আমার এক মামা তিনি সাংবাদিক। আমাদের উনি খবর দেয় রউফের মৃত্যু হয়েছে, সেখানে তার মাটিও হয়েছে।'

পরে আব্দুর রউফের মরদেহ উদ্ধার করে রাঙামাটির নানিয়ার চরে সমাহিত করেন স্থানীয় দয়াল কৃষ্ণ চাকমা। দয়াল কৃষ্ণ চাকমার ছেলে বিনয় কুমার চাকমা বলেন, 'বাবা তো মুক্তিযোদ্ধার সাথে সাহায্য-সহযোগীতা করে গেছেন। আমরা তো মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি, এই খেদমত করাই আমাদের মুক্তিযুদ্ধ।'

দীর্ঘদিন পর ১৯৯৬-এ বীরের সমাধিস্থল চিহ্নিত করেন সহযোদ্ধা ও এলাকাবাসী। এর দশ বছর পর কাপ্তাই জলরাশির দ্বীপে নির্মাণ করা হয় বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ সমাধি সৌধ।

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন