সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ , ১ জিলহজ ১৪৪৭

ফিচার
  >
বিশেষ কলাম

ড. ইউনূসের যুক্তরাজ্য সফর—এক কূটনৈতিক ও নৈতিক বিজয়

মো. আবদুর রহিম ১৪ জুন , ২০২৫, ২২:৩৭:০০

566
  • ছবি: নিউজজি

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাম্প্রতিক যুক্তরাজ্য সফর নানা মাত্রিক তাৎপর্যে ভরপুর। চার দিনের সফর শেষে প্রেস সচিব শফিকুল আলম যে পাঁচটি মূল ‘সফলতা’ তুলে ধরেছেন, তা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।

প্রথমত, রাজা চার্লসের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক ও সম্মানজনক পুরস্কার গ্রহণ নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের পরিবর্তনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। যুক্তরাজ্যের রাজপরিবারের সঙ্গে সরাসরি সংলাপ এবং সেখানে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী নেতৃত্বের প্রতিনিধিত্ব, বৈশ্বিক রাজনীতিতে দেশের ভাবমূর্তি সুদৃঢ় করেছে। এটি শুধু ব্যক্তিগত মর্যাদার নয়, বরং চলমান অন্তর্বর্তী প্রক্রিয়ার প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থা ও আগ্রহের প্রতিফলন।

দ্বিতীয়ত, ড. ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যে বৈঠকটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক ‘টাইম-মার্কিং’ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে বিভক্ত রাজনৈতিক বলয়ে এই সংলাপ গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ধারণে সহায়ক হতে পারে। একে কেবল রাজনৈতিক নাটকীয়তা হিসেবে না দেখে সম্ভাব্য সমঝোতার সূচনা হিসেবে দেখতে হবে।

তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হলো যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির (NCA) হাতে ১৭০ মিলিয়ন পাউন্ডের সম্পদ জব্দ। যদিও এই অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন, তবু এটি দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান দৃঢ় করার ক্ষেত্রে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ। এই পদক্ষেপ সরকারের সম্পদ পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টাকে আন্তর্জাতিক মাত্রা দিয়েছে এবং ক্ষমতাশালী দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে শক্ত বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।

চতুর্থত, বাংলাদেশ ব্যাংক ও দুর্নীতি দমন কমিশনের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকগুলো একটি কাঠামোগত রূপরেখা তৈরির সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়। এমন আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ভবিষ্যতে কেবল সম্পদ পুনরুদ্ধার নয়, বরং টেকসই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির পথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে পারে।

অবশেষে, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে নতুন আশার জন্ম—এটি বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের আরেক ইতিবাচক দিক। এই সংকট এতদিন কূটনৈতিক স্তরে স্থবির থাকলেও, ইউনূসের সফরে এটি আলোচনার কেন্দ্রে আসা একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।

ড. ইউনূসের সফর নিয়ে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। তবে রাষ্ট্র ও জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে এর সুফলগুলোকে অস্বীকার করার অবকাশ নেই। এই সফর শুধু প্রতীকী নয়, বরং কার্যকরী পদক্ষেপের মাধ্যমে একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। এখন চ্যালেঞ্জ হলো, এই অর্জনগুলোকে দেশে বাস্তবায়নের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করা। নতুবা এই অর্জন কাগুজে সফলতার বাইরে কিছু হবে না।

লেখক: সমাজকর্মী ও সাংবাদিক

বি.দ্র.- (এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। নিউজজি২৪ডটকম-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

নিউজজি/ এস দত্ত

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers