সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ , ১ জিলহজ ১৪৪৭

ফিচার
  >
বিশেষ কলাম

মিরপুরে আগুন, ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা হোক

মাঈনুদ্দীন দুলাল ১৫ অক্টোবর , ২০২৫, ১৮:৩৯:১৬

446
  • ছবি: সংগ্রহীত

গতকাল মঙ্গলবার  মিরপুরের শিয়ালবাড়ি এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬ জন মারা গেলেন। এরা সকলেই আনোয়ার ফ্যাশন নামের একটি গার্মেন্টস কারখানার শ্রমিক। ঐ কারখানার নীচের ওয়াশ ইউনিট থেকে আগুনের সুত্রপাত। ফায়ার ব্রিগেড ও প্রত্যক্ষদর্শীরা তাই বলছেন। ওয়াশ ইউনিটের আগুন পাশের ক্যামিকেল গোডাউনে ছড়িয়ে গেলে সেখানে বিস্ফোরণ ঘটে। ওখানে রাখা কয়েক ধরণের ক্যামিকেলের বিষাক্ত ধোঁয়া কারখানায় ছড়িয়ে পড়ে। অনেক শ্রমিক জ্ঞান হারিয়ে আগুনে পুড়ে মারা যান। সবচেয়ে বড় অভিযোগ গার্মেন্টসটির সিঁড়ির দরজা ও বের হওয়ার পথ বন্ধ ছিল। ফলে শ্রমিকরা নিরাপদে সরে যাওয়ার পথ পাননি।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ১২টি ইউনিট কাজ করেছে। ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাসেই শ্রমিকদের প্রাণ ঝরেছে। তারা কারখানার নিচে নামতে পারেনি। ছাদেও যেতে পারেনি। ছাদের দরজা বন্ধ ছিল। জনবহুল এলাকায় কেমিক্যাল গোডাউন ছাড়পত্র ছাড়াই চলছিল।  এমনকি ফায়ার সেফটিও ছিল না ভবনে। ঘটনার পর মালিকপক্ষের হদিসও মিলছে না।

ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন,  প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এই অগ্নিকান্ডর ফলে যে বিস্ফোরণটি হয়েছে, তাতে যে সাদা ধোঁয়া বা গ্যাস উৎপন্ন হয়েছিল, তা অত্যন্ত বিষাক্ত। আগুন লাগার প্রথম দিকেই ফ্ল্যাশ ওভার হয়েছিল এবং আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষাক্ত গ্যাসের কারণে আকস্মিকভাবেই হয়তো নিহতরা সেন্সলেস হয়ে পড়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে মারা গেছেন।

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কারখানা পরিচালনার নিয়মনীতি বা কমপ্লায়েন্সের যে শর্তগুলো আছে তারমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত হল- ফ্যাক্টরির শ্রমিক-কর্মচারী সমস্ত সুযোগ সুবিধা, নিরাপত্তা, নিরাপদ পানীয় জল ,টয়লেট পরিছন্নতা, অগ্নিকাণ্ড কালীন বহিঃর্গমন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা । অগ্নি নিরাপত্তা ও কর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

মনে থাকবার কথা ২০১০ সালের পুরান ঢাকার নিমতলী ট্রাজেডির ঘটনা। ক্যামিকেল গোডাউনের আগুনে ১২৪ জন মারা গেছিলেন। ২০১৯ সালে চুড়িহাট্টায় মারা যান ৭১ জন।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে বলেছেন, ক্যামিকেল গোডাউনটি অবৈধভাবে ছিল। ঐ জায়গায় কোন রাসায়নিক পণ্যের মজুদ থাকতে পারেনা।

 ক্যামিকেল গোডাউন ও গার্মেন্টস মালিক গা ঢাকা দিয়েছেন। পরিস্থিতি ঠান্ডা হয়ে এলে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে আবার শুরু করবেন বানিজ্য। ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এটি গতানুগতিক প্রক্রিয়া। এরা ফাঁক গলে বেরিয়ে যাবে।

মৃত শ্রমিকদের পরিবারগুলোর কি হবে? যারা এইসব মানুষের আয়ে বেঁচে থেকেছেন। এরা অথৈই জলে পড়ে গেল।

তদন্ত রিপোর্ট, মামলা,সমঝোতা যাই হোকনা কেন, মৃত মানুষকে ফিরিয়ে আনা যায়না। স্বজন,আত্মজনকে আঁকড়ে একটা সুখ-দুঃখের  স্বাভাবিক জীবন যাপনের সুযোগ থেকে তারা বিতাড়িত। কিন্তু তাদের ওপর নির্ভর যারা ছিল তাদের কি হবে?

তাই দাবী তুলতে চাই সরকার এবং মালিকের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত ক্ষতি পূরণ দেয়া হোক নিহতের পরিবারকে। প্রচলিত যা যা নিয়ম আছে বা মানবিক নিয়ম প্রয়োগ করে মালিককে বাধ্য করা হোক ক্ষতি পূরণ দিতে। এবং তা সহসা।

 

 

লেখক: সাংবাদিক

বি.দ্র.- (এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। নিউজজি২৪ডটকম-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers