সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ , ১ জিলহজ ১৪৪৭

ফিচার
  >
বিশেষ কলাম

‘শত্রুর মুখে ছুঁড়ে দেব আমার প্রাণ’

মাঈনুদ্দীন দুলাল ২৮ অক্টোবর , ২০২৫, ১৭:২২:১২

410
  • ‘শত্রুর মুখে ছুঁড়ে দেব আমার প্রাণ’

বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও স্যোশাল মিডিয়ায় ফিলিস্তিনের গাজার ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র দেখে পম্পেই নগরীর কথা মনে হয়। ইতিহাসের পাতা খুঁড়ে জানি রোমান এই সমৃদ্ধ নগরটি ৭৯ খ্রীস্টাব্দের ২৪ আগস্টের এক দুপুরে মাউন্ট ভিসুভিয়াসের অগ্নুৎপাতে ধ্বংস হয়। উত্তপ্ত গ্যাস, ছাই ও পাথরের টুকরা শহরটি গ্রাস করে। ২ হাজার নাগরিকের সকলেই জীবন্ত চাপা পড়ে মারা যান।

গাজার আয়তন মাত্র ৩৬০ বর্গ কিলোমিটার। ২০১৭ সালের আদম শুমারিতে জনসংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৪৮১জন। বিভিন্ন পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে গত দুই বছরের হামলায় প্রায় ৭২ হাজার মানুষ নিহত ও লক্ষাধিক আহত হয়েছেন। এই হামলায় ইসরায়েল ২ লাখ টন বিস্ফোরক গাজায় ছুঁড়েছে। তারপরও এই জনপদের মানুষ মাটি আঁকড়ে পড়ে আছেন।

এত ভয়ংকর পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনি কবি শহীদ আবদুর রহিম মাহমুদের কবিতার কয়েকটি লাইন বিবর্ণ ভাবনায় মনে আসে। ফিলিস্তিনি কবি শহীদ আবদুর রহিম মাহমুদ তার একটি কবিতায় এভাবে বলছেন, 

"হাতের তালুতে করে নিয়ে যাব আমার প্রাণ,

তারপর ছুঁড়ে দেব ধ্বংসের উপত্যকায়।

শত্রুর মুখে ছুঁড়ে দেব আমার প্রাণ,

তখন তারা বলবে আমিই প্রকৃত বীর "।

জাতিসংঘের একটি সংস্থা জানিয়েছে, দুই বছরের যুদ্ধের পর অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা এখন ৬১ মিলিয়ন টনেরও বেশি ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে আছে, যেখানে প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ভবন সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে।

জাতিসংঘের স্যাটেলাইট কেন্দ্রের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনী গাজার প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার ভবন ধ্বংস করেছে, যা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর আগে বিদ্যমান মোট স্থাপনার প্রায় ৭৮ শতাংশ।

ইউএনইপি'র প্রাথমিক বিশ্লেষণে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, প্রায় ২.৯ মিলিয়ন টন ধ্বংসাবশেষ ‘পরিচিত শিল্প এলাকাগুলোর বিপজ্জনক বর্জ্যে’ দূষিত হতে পারে।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যস্ততায় গাজার যুদ্ধ বিরতিকে অনেক আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক নড়বড়ে একটি চুক্তি বলছেন। চুক্তির পরও গাজায় হামাসের জুজু দেখিয়ে ইসরায়েল হামলা করছে। ত্রাণ সরবরাহ ও ধ্বংসস্তুপ অপসারণেও বাধা দিচ্ছে।

ইসরায়েলি অবরোধে স্থবির হয়ে আছে ফিলিস্তিনের গাজার পুনর্গঠনকাজ। ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে আছে হাজারো মানুষ, আর চারদিকে ছড়িয়ে আছে বিস্ফোরিত না হওয়া সব বোমা। অবিস্ফোরিত এই বোমার পরিমাণ হাজার হাজার টন।

গাজা সিটির মেয়র ইয়াহিয়া আল-সররাজ সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে বলেছেন, ' ইসরায়েলি অবরোধের কারণে ভারী যন্ত্রপাতি ঢুকতে না পারায় ধ্বংসস্তূপ সরানো ও অবকাঠামো পুনর্গঠনের কাজ প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক সচল রাখতে ও নতুন কূপ খনন করতে গাজা সিটিতে কমপক্ষে ২৫০টি ভারী যন্ত্রপাতি ও এক হাজার টন সিমেন্টের জরুরি প্রয়োজন রয়েছে। মেয়র বলেন, ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে আছেন হাজারো মানুষ এবং মানবিক সহায়তা ও ভারী যন্ত্রপাতি ঢুকতে না দেওয়ায় বেঁচে থাকা মানুষের জীবনও বিপন্ন হয়ে পড়েছে।'

গাজার পুনর্গঠনকাজে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিস্ফোরিত না হওয়া বোমাগুলো। ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানিয়েছেন,' ইসরায়েল গাজায় অন্তত ২ লাখ টন বোমা ফেলেছে, যার মধ্যে প্রায় ৭০ হাজার টন এখনো বিস্ফোরিত হয়নি'।

গাজার নিয়ে শান্তি চুক্তিটি আদৌও কার্যকর হবে কিনা, তা নিয়ে বিশ্ববাসী সন্দিহান। কারণ ইসরায়েল একের পর এক শর্ত  জুড়ে দিচ্ছে এবং চুক্তি লংঘন করছে। সে তার বন্দীদের মুক্ত করেছে। এরপর যে কোন ছুতোয় গাজাকে তার পেটে ঢুকিয়ে ফেলতে পারে। কারণ ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যে একটি বড় আয়তনের রাষ্ট্র হিসেবে আবির্ভূত হতে চায়। মধ্যপ্রাচ্যে রাজ করতে চায়। তার আছে পারমাণবিকসহ বড় সামরিক শক্তি। আছে বিশ্বব্যাপী অনেক বড় অর্থনৈতিক সামর্থ্য।

লেখক: সাংবাদিক

বি.দ্র.- (এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। নিউজজি২৪ডটকম-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers