সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ , ১ জিলহজ ১৪৪৭

ফিচার
  >
বিশেষ কলাম

গাজা’র আগুন নিভবে না!

মাঈনুদ্দীন দুলাল ২৯ অক্টোবর , ২০২৫, ১৮:১৭:৩৩

442
  • গাজা’র আগুন নিভবে না!

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্ততায় গত ১০ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধ বিরতি চুক্তি হয়। চুক্তির শর্তানুযায়ী ইসরায়েল তার জীবিত বন্দীদের ছাড়িয়ে নিয়েছে। কিছু ফিলিস্তিনি বন্দীকেও মুক্তি দিয়েছে। ইসরায়েলের বন্দীদের মুক্তির ব্যাপারে দেশটির ভেতরে ও আন্তর্জাতিক ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রবল চাপ ছিল প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ওপর। নেতানিয়াহু গাজা উপত্যকায় শক্তিশালী হামলা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে।

এই হামলায় ৩০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এই হামলার পরও যুদ্ধ বিরতির মধ্যস্ততাকারী ট্রাম্প বলেছেন, "গাজায় যুদ্ধ বিরতি ভাঙার শংকা নেই। কোনভাবেই তা বিপন্ন হবেনা।" ইসরায়েলের হামলাকে সমর্থন করে ট্রাম্প আরো বলেছেন, "হামাস এক ইসরায়েলি সেনাকে হত্যা করেছে। তাই ইসরায়েল আঘাত করেছে। এটা তাদের করা উচিত ছিল।"

তবে ইসরায়েল হামাসকে সৈন্য হত্যার জন্য দায়ী করলেও কোন উপযুক্ত প্রমাণ দেয়নি। ইসরায়েলের এই দ্বৈত ভূমিকায় আমাদের সেই মেষশাবক ও বাঘের গল্পের কথা মনে পড়ছে। যেকোন ছুতায় তারা গাজায় হামলা ও দখল অব্যাহত রাখবে। ইসরায়েল কি বন্দী মুক্তির জন্যে যুদ্ধ বিরতির ছল করেছে?

এমন প্রশ্নও উঠছে।

গাজার আয়তন মাত্র ৩৬০ বর্গ কিলোমিটার। ২০১৭ সালের আদম শুমারিতে জনসংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৪৮১জন। বিভিন্ন পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে গত দুই বছরের হামলায় প্রায় ৭২ হাজার মানুষ নিহত ও লক্ষাধিক আহত হয়েছেন। এই হামলায় ইসরায়েল ২ লাখ টন বিস্ফোরক গাজায় ছুঁড়েছে।জাতিসংঘের একটি সংস্থা জানিয়েছে, দুই বছরের যুদ্ধের পর অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা এখন ৬১ মিলিয়ন টনেরও বেশি ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে আছে, যেখানে প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ভবন সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে।

ইসরায়েলি অবরোধে স্থবির হয়ে আছে ফিলিস্তিনের গাজার পুনর্গঠনকাজ। ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে আছে হাজারো মানুষ, আর চারদিকে ছড়িয়ে আছে বিস্ফোরিত না হওয়া সব বোমা। অবিস্ফোরিত এই বোমার পরিমাণ হাজার হাজার টন।

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনেকই মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে ইসরায়েলের মাস্টারপ্ল্যান আছে। ধীরে ধীরে ঠুকরে ঠুকরে উদরস্থ করবে অস্থিতিশীল মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকা। গাজাও শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলের পেটে যাবে। গাজাকে পরিত্যক্ত নগরী বানিয়ে পরে সময়ে গিলে নেবে।

যুদ্ধ- বিগ্রহ, সমঝোতা, দখলসহ নানা কারণে বিভিন্ন দেশের মানচিত্র প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে। অতি নিকট সময়ে আমরা দেখছি সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে ১৫ টি রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছে। ভেঙেছে মার্শাল টিটোর ঐক্যবদ্ধ যুগশ্লাভিয়া। এরও আগের রোমান, অটোমান সাম্রাজ্যেসহ বিভিন্ন সাম্রাজ্যের পতনের ইতিহাস আমাদের জানা।

গত ২ দশকে মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমাগত অস্থিরতা বলছে, ইসরায়েল এক বৃহৎ ইহুদি রাষ্ট্রের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথেই হাঁটছে। অজগর গিলে খাবে একে একে সুস্বাদু হরিণ শাবকদের।

লেখক: সাংবাদিক
 
বি.দ্র.- (এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। নিউজজি২৪ডটকম-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers