সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ , ১ জিলহজ ১৪৪৭

ফিচার
  >
বিশেষ কলাম

প্রাথমিকে সঙ্গীত শিক্ষক পদ বাতিল কূপমন্ডুকতা

মাঈনুদ্দীন দুলাল ৬ নভেম্বর , ২০২৫, ১৮:৫৪:৪৮

476
  • প্রাথমিকে সঙ্গীত শিক্ষক পদ বাতিল কূপমন্ডুকতা

আজ কয়েকদিন ধরে মোহাম্মদ রফি'র গাওয়া, গৌরী প্রসন্ন মজুমদারের লেখা ও সতীনাথ মুখোপাধ্যায়ের সুর করা কালজয়ী গান " পাখিটার বুকে যেন তীর মের না। ওকে গাইতে দাও,ওর কন্ঠ থেকে গান কেড়ো না।" এই গানটি ক্ষণে ক্ষণে বুকে বাজছে। এই গানে বলে সুর প্রকৃতি এবং জীবনের অনিবার্য প্রয়োজন। মানুষতো সেই প্রকৃতিরই অনুষঙ্গ।

 ফিরে ফিরে মনে আসবার কারণও আছে। বিষয়টি হল, ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলোর সমালোচনার মুখে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে  সংগীত ও শরীর চর্চার শিক্ষক পদ বাতিল করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই দুটি পদ বাদ দিয়ে ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষকনিয়োগবিধিমালা-২০২৫’-এ সংশোধনসহ নতুনভাবে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।

গত রোববার সংশোধিত বিধিমালার গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলোর চাপে এসেছে কি না? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত সচিব সরাসরি মন্তব্য না করে বলেছেন, 'আপনারা বিষয়টি খতিয়ে দেখুন।'

এই সিদ্ধান্তকে নিন্দা জানিয়ে বা প্রত্যাখ্যান করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বাতিল হওয়া এ দুইটি শিক্ষক পদ পুনর্বহালের দাবীতে বিভিন্ন সংগঠন  মানববন্ধন কর্মসূচি পালন শেষে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

এদিকে সরকার এ বিষয়ে একটি ব্যাখ্যা দেয়েছে।  সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শরীরচর্চা ও সঙ্গীত শিক্ষক নিয়োগ প্রকল্পটির পরিকল্পনায় ত্রুটি থাকায় সচিব কমিটির সুপারিশে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রস্তাবটি থেকে সরে এসেছে।

এই সিদ্ধান্তের বিরোধীতাকারী সংগঠনগুলো সরকারের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বলেছে , 'সারাদেশে সরকারের প্রাথমিক স্কুলগুলোতে সংগীত ও শরীরচর্চা শিক্ষকের পদে নিয়োগ বাতিলের নেয়া সিদ্ধান্ত মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর নিকট আত্মসমর্পণ। এর আগে আগস্ট মাসে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় 'প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিধিমালা-২০২৫' এ ৬৫ হাজার ৫৬৯ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত ও শরীরচর্চা শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো।

প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলা শিশুদের দেহ-মন বিকাশের জন্য এই শিক্ষক প্রয়োজন। শিশুদের মানবিক বিকাশের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে খেলাধুলা, সংগীত, শরীরচর্চা, সাংস্কৃতিক আয়োজনের বিকল্প নেই। কিন্তু জামায়াতে ইসলামসহ বেশ কয়েকটি মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী এই নিয়োগের বিষয়ে বিরোধিতা করে। আর সরকারও তার কাছে আত্মসমর্পন করে প্রাথমিকে সংগীত ও শরীরচর্চা শিক্ষকের পদ বিধিমালায় সংশোধন এনে বাতিল করেছে। যা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ও সরকারের মেরুদণ্ডহীনতার পরিচায়ক।'

আমরা জানি গান বা সুরের প্রভাব মানব জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ইতিবাচক। যা তার মানসিক, শারীরিক ও জ্ঞান স্বাস্থ্যের উন্নতি করে। এটি মনকে আনন্দিত ও শান্ত করে, মানসিক চাপ কমায় এবং স্মৃতিশক্তি ও সৃজনশীলতা বাড়ায়। সুর মানব মস্তিষ্কের সুনির্দিষ্ট অংশকে উদ্দীপিত করে, যা আবেগের ওপর প্রভাব ফেলে। কর্টিসোল নামক হরমোনের নিঃসরণ কমায় এবং সুস্থ্যতারও উন্নতি ঘটায়।

সম্প্রতি সৌদি আরবে ১২ হাজার নারী সঙ্গীত শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। জানা গেছে, আরো ১৭ হাজার নারীকে এই প্রশিক্ষণের জন্য নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। ধর্মীয় গোঁড়ামির আলখেল্লা খুলে সৌদি আরব মুক্ত পৃথিবীতে ঢুকছে। আর হাজার বছর ধরে  সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবান বাংলাদেশে আমরা এক অন্ধ,বধির,বিকলাঙ্গ প্রজন্ম বানানোর আবহ তৈরি করছি।  আশা করছি রবীন্দ্রনাথ - নজরুল - লালন- হাছনসহ হাজারো মনীষার এ দেশে কূপমুন্ডকেরা জয়ী হবেনা।

লেখক: সাংবাদিক

বি.দ্র.- (এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। নিউজজি২৪ডটকম-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers