সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ , ১ জিলহজ ১৪৪৭

ফিচার
  >
বিশেষ কলাম

আমাদের অবশিষ্ট সামান্য আশা বেঁচে থাক

মাঈনুদ্দীন দুলাল ২৪ ডিসেম্বর , ২০২৫, ১৬:৫৮:৩১

389
  • আমাদের অবশিষ্ট সামান্য আশা বেঁচে থাক

"পোড়া আগুন পুড়েছে

ঘরদোর, বসত ভিটা।

খোরাকের ধান।

মায়ের শাড়ি, বউয়ের গহনাগাটি।

খুকীর লাল ফ্রক,

খোকার টিয়ে রংয়ের জামাটা।

খুকির মাটির ময়নাটাও

বাদ গেলনা।

এখন বুক ভর্তি আগুন।

পেট ভরা আগুন।

নিঃশ্বাসে আগুনের হলকা।

বলি, আগুন বড় সংক্রমক!"

বড় বেদনা আর হতাশা নিয়ে বারবার এই আক্ষেপগুলো অস্তিত্বকে পীড়ন করছে।

সত্যি আগুন খুব সংক্রমক। পরপর দুটি আগুনের ঘটনা এ সত্যিটি মনে করে দেয়। এমাসই মববাজেরা ময়মনসিংহের ভালুকায় গার্মেন্টস কর্মী দিপু চন্দ্র দাসকে প্রমানহীন ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে প্রকাশ্যে আগুনে পুড়িয়ে মারল। এর আগে একজনের লাশ কবর থেকে তুলে রাজপথে আগুন দেয়া হয়। গত সোমবার রাতে চট্টগ্রামের রাউজানে একটি সংখ্যালঘু বাড়িতে আগুন দেয়া হল। ঘর থেকে বেরোনোর দরজা বন্ধ করে আগুন দেয়া হয়। অর্থাৎ ঘরের সকলকে আগুনে পুড়িয়ে মারার পরিকল্পনা। আগুন ঘেরা ঘরের বাসিন্দারা বেড়া কেটে কোন ভাবে প্রাণরক্ষা করেছেন।

বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও স্থানীয় লোকজনের বরাতে আমরা জানতে পারি, "চট্টগ্রামের রাউজানে বাইরে থেকে দরজা আটকে দিয়ে দুটি ঘরে আগুন দেওয়া হয়েছে বাসিন্দাদের দাবি, টিন ও বাঁশের বেড়া কেটে তাঁরা ঘর থেকে বের হয়েছেন। সোমবার দিবাগত রাত পৌনে চারটার দিকে রাউজান পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম সুলতানপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘর দুটি হিন্দু সম্প্রদায়ের।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, আগুনে দুটি ঘরের সাতটি কক্ষ পুড়ে যায়। ওই দুটি ঘর সুলতানপুর গ্রামের বাসিন্দা সুখ শীল ও অনিল শীলের। এর মধ্যে সুখ শীল দুবাই প্রবাসী এবং অনিল শীল পেশায় দিনমজুর।" আগুন দেয়ার পরের দিন বাড়ির অদুরে একটি হাতে লেখা ব্যানার পাওয়া যায়। সেখানে লেখা ছিল, অস্থিরতা তৈরির জন্য এই কান্ড ঘটানো হয়েছে।

নির্বাচন দরজার সামনে। নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে একেরপর এক অঘটন ঘটছে। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেলেন। দু'দিন আগে মারা গেলেন এক এনসিপি নেতা। দেশের দুটি প্রভাবশালী ও জনপ্রিয় পত্রিকার অফিসে আগুন লাগানো হল।এগুলো নির্বাচনের পরিবেশ বিপন্ন করছে। কোনকোন মহল নির্বাচন চাইছে না। নির্বাচন বানচালের চেষ্টাও করছে। করবে। কিন্তু বাংলাদেশের এখনো যে সামান্য ভবিষ্যৎ বেঁচে আছে তা রক্ষার জন্য একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দরকার। নাহলে দেশ তছনছ হয়ে যাবে।

কিন্তু প্রশ্ন জাগে এ রকমের অশান্ত পরিবেশে কি ভালো নির্বাচন সম্ভব? সামনে আরো আগুন ওৎ পেতে আছে। যদিও নির্বাচন কমিশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় বলছে সুষ্ঠু নির্বাচন তারা করতে পারবেন। প্রস্তুতি আছে।

তবুও অবশিষ্ট কিছু আশা নিয়ে বলি " বাংলাদেশ তুমি ঘুরে দাঁড়াও। মানুষ ঘুরে দাঁড়াও"।

 

 

লেখক: সাংবাদিক

বি.দ্র.- (এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। নিউজজি২৪ডটকম-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers