শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ , ২২ শাওয়াল ১৪৪৭

ফিচার
  >
বিশেষ কলাম

মামলার বন্যায় ভাসবেন ড. ইউনূস?

মাঈনুদ্দীন দুলাল ২৫ ফেব্রুয়ারি , ২০২৬, ১৬:৪৭:৪৯

291
  • মামলার বন্যায় ভাসবেন ড. ইউনূস?

সদ্য সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলার ঘোষণা আসছে। প্রবীণ রাজনীতিবিদ এবং সিনিয়র  আইনজীবী বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি মহসিন রশীদ উপদেষ্টার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করতে চান। তার অভিযোগ উপদেষ্টা থাকাকালে ড. ইউনুস সাংবিধান লঙ্ঘন ও রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধ করেছেন।

খুব সম্প্রতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ তার নেতৃত্বাধীন সরকারে যারা উপদেষ্টা ছিলেন তাদের বিরুদ্ধে ৪টি অপরাধের কারণে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন। সম্প্রতি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে এ কথা জানান তিনি। অধ্যাপক কার্জন বলেন, ইউনূসগংদের বিচার হওয়া উচিত কয়েকটি কারণে। একটি সংবিধান লঙ্ঘন, আরেকটি রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করা এবং ড. ইউনূস আমেরিকার সাথে যেসব চুক্তি করেছে সেসব চ্যালেঞ্জ করে আরেকটি মামলা করা যেতে পারে। তিনি বলেন, আরেকটি মামলা আমি করব, সেটা হলো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৩২ নম্বরের বাড়ি ভাঙচুর নিয়ে। সেখানে যে দুষ্প্রাপ্য ডকুমেন্ট ছিল, যেসমস্ত অ্যাভিডেন্স ছিল, সেটা দেশি বিদেশি কার কার ইন্ধনে বারবার ভাঙা হলো এবং অন্তর্বতী সরকারের কারা ভেতর থেকে এটা হতে দিলেন। সেখানে পুলিশ সেনাবাহিনী কেন গেল না? সেটা নিয়ে একটা মামলা করব। কার্জন বলেন, গত ১৮ মাসে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে, যা অস্বাভাবিক বিষয়। এ সংক্রান্ত বিবিসির একটি প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১৩২টি অধ্যাদেশই অনিশ্চয়তার মধ্যে।

অধ্যাপক কার্জনকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক একটি আলোচনা অনুষ্ঠান  থেকে আটক করা হয়। তার আগে সেখানে মব সৃষ্টি করা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট ও যৌক্তিক কোন অভিযোগ ছাড়া তাকে কয়েকমাস কারগারে আটক রাখা হয়।

গত জুনের মাঝামাঝি এক অনুষ্ঠানে বিএনপি'র চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ব্যারিষ্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ নির্বাচন না দেয়ায় সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা।

সংবিধান লঙ্ঘনের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অভিযোগটি এনেছেন স্বয়ং রাষ্ট্রের প্রধান ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।  তিনি একটি গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে ক্ষোভ এবং খেদ নিয়ে স্পস্ট করে বলেছেন "প্রধান উপদেষ্টা সংবিধানের কোন নিয়ম অনুসরণ করেননি"। রাষ্ট্রপতি বলেছেন, অনেক অধ্যাদেশ অপ্রয়োজনে করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির যে সাংবিধানিক ক্ষমতা ও সম্মান রয়েছে ড. ইউনূস বারাবার তা লঙ্ঘন করেছেন। সংবিধান লঙ্ঘনের কী কী বিষয়  ড. ইউনূস করেছেন তা রাষ্ট্রপতি বিশদ ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি একজন বিচারক ছিলেন সংবিধান লঙ্ঘনের আইনগত কারণগুলো জেনে এবং নিশ্চিত হয়েই অভিযোগ করেছেন। 

রাষ্ট্রপতির বক্তব্য দেশি-বিদেশি  সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে। যা রেকর্ডেড। ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে সংবিধান অমান্যের মামলা হলে এর চেয়ে জোরালো সাক্ষ্য আর কী হতে পারে?

এছাড়াও সরকারের নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে নানান আর্থিক সুবিধা নেয়ার অভিযোগও উঠেছে। সেসবও হয়ত বিচারের আওতায় আসতে পারে।

সংবিধান লঙ্ঘন ও অবমাননার শাস্তি বাংলাদেশের আইনে সর্বোচ্চ। যদি একের পর এক মামলা হয় তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন ও উদাহরণযোগ্য বাস্তবতা তৈরি হবে। 

লেখক: সাংবাদিক।

নিউজজি/নাসি 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers