সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ , ১ জিলহজ ১৪৪৭

ফিচার
  >
বিশেষ কলাম

পারমাণবিক হামলার ঝুঁকিতে মধ্যপ্রাচ্য?

মাঈনুদ্দীন দুলাল ৩০ মার্চ , ২০২৬, ১৬:১০:১৮

340
  • পারমাণবিক হামলার ঝুঁকিতে মধ্যপ্রাচ্য?

প্রায় এক মাসে গড়াল ইরান- আমেরিকা - ইসরায়েল যুদ্ধ। এক নম্বর পরাশক্তি আমেরিকা ও সামরিক শক্তি এবং প্রযুক্তি সমৃদ্ধ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এত লম্বা সময় ইরানের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া আন্তর্জাতিক

সমরবিদদের অবাক করেছে। বরং বলা হচ্ছে যুদ্ধের মাঠের বল এখন ইরানের কোটে। ইরান মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকান ঘাঁটিগুলো তছনছ করে দিয়েছে। ইসরায়েলের সুরক্ষিত আয়রনডোম ছিন্ন ভিন্ন করে বিভিন্ন শহর ও স্থাপনায় একের পর এক হামলা চালাচ্ছে। ইরানের হাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তুরুপের তাস হচ্ছে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ। আমেরিকার এত হম্বিতম্বিকে পাত্তা না দিয়ে হরমুজের জলপথ ইরান দখলে রেখেছে। ইরান বলছে আরো লম্বা যুদ্ধেরসমর্থক জন্যে তারা প্রস্তুত।

এই যুদ্ধ দারুন অস্বস্তি তৈরি করেছে সারা দুনিয়ায়। মানুষ চাইছে বন্ধ হোক যুদ্ধ। কিন্তু কি ভাবে হবে?আন্তর্জাতিক সমর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুটি পথ খোলা আছে।

প্রথমটি আলোচনার মাধ্যমে। দ্বিতীয়টি ম্যাসিভ সামরিক আক্রমণ। ভয় দ্বিতীয়টি নিয়ে। কারণ আকাশ পথে হামলা ইরানের উপর যথেষ্টই করা হয়েছে। স্থল পথে হামলা করে ইরান দখল অসম্ভব মনে করছেন সমরবিদরা। তাহলে সামরিক আক্রমণে বাকি থাকে আনবিক হামলা। অনেকেই ধারণা করছেন ইরানকে আত্মসমর্পণ করতে পারমানবিক হামলা হলেও হতে পারে। আমেরিকা ও ইসরায়েলের হাতে আছে আনবিক অস্ত্র। ধৈর্য্য হারিয়ে পারমানবিক হামলা হলে ভয়ঙ্কর বিপর্যয়ে পড়বে বিশ্ব। হামলার বিস্তৃতি ছড়িয়ে পড়বে। উত্তর কোরিয়া আমেরিকার মিত্র দক্ষিন কোরিয়া, জাপান, ফিলিপিনে অবস্থিত আমেরিকার ঘাটিগুলোতে পারমানবিক হামলা করতে পারে। অন্য দুই পরাশক্তি রাশিয়া ও চীন নিশ্চয়ই প্রতিক্রিয়া জানাবে আনবিক শক্তি দিয়েই।

আমেরিকা জাপানে পারমানবিক হামলা চালিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি টেনেছিল। তখন একক পারমাণবিক শক্তি ছিল আমেরিকার হাতে। জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমানবিক হামলার কিছু লক্ষ্য ছিল আমেরিকার।

যেমন- ১. দ্রুত আত্মসমর্পণ ও যুদ্ধের অবসান। জাপান আত্মসমর্পণ করতে নারাজ ছিল এবং শেষ পর্যন্ত লড়াই করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। যুক্তরাষ্ট্র মনে করেছিল, পারমাণবিক হামলা ছাড়া যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হবে এবং তাতে আরও অনেক জীবনহানি ঘটবে।

২. আমেরিকান প্রাণহানি কমানো। ধারণা করা হয়েছিল, জাপানে স্থল অভিযান চালালে হাজার হাজার আমেরিকান সৈন্য মারা যাবে। পারমাণবিক বোমা ফেলে সেই ভয়াবহতা এড়ানো হয়েছে।

৩. সোভিয়েত প্রভাব কমানো। তৎকালীন রাজনৈতিকযুদ্ধ ঘোষণার আগেই এই বোমা ফেলে যুক্তরাষ্ট্র এশিয়ায় নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল।

৪. নতুন অস্ত্রের কার্যকারিতা পরীক্ষা। নবনির্মিত পারমাণবিক বোমার ধ্বংসক্ষমতা বাস্তবে পরীক্ষা করার আগ্রহও যুক্তরাষ্ট্রের ছিল ।

৫. পটসডাম ঘোষণার অবজ্ঞা। ১৯৪৫ সালের ২৬ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও চীন "পটসডাম ডিক্লারেশন" দিয়ে জাপানকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানায়, কিন্তু জাপান তা প্রত্যাখ্যান করে।

এই হামলায় হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে প্রায় ১ লাখের বেশি মানুষ তাৎক্ষণিকভাবে মারা যায় এবং পরবর্তী সময়ে তেজস্ক্রিয়তার কারণে আরও বহু মানুষ প্রাণ হারায়।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আলোচনার পথ ধীরে ধীরে এগুচ্ছে। পাকিস্তান, তুরস্ক ও ভারত দূতিয়ালি করছে পর্দার আড়ালে। ইরানও দূত হিসেবে স্পিকার বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী আরাঘচিকে দায়িত্ব দিয়েছে। অগোচরে আলোচনা চলছে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে ইরানের শর্ত বেশ কঠিন। সে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার উপস্থিতি মানছে না। হরমুজ প্রণালীর পুরো নিয়ন্ত্রণ চায়। ফলে প্রতিটি জাহাজকে টোল দিয়ে যেতে হবে। ইরানে আর হামলা হবেনা এমন অঙ্গীকারও চায়।

আমেরিকা ও ইসরায়েল এতসব শর্ত কি মানবে?

আলোচনায় কি এই জটিল জট খুলবে? নাকি ধৈর্য হারিয়ে শেষ পর্যন্ত পারমানবিক ব্রম্মাস্ত্র ব্যবহার করতে পারেন ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু।

লেখক: সাংবাদিক

বি.দ্র.- (এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। নিউজজি২৪ডটকম-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers