মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ , ৪ জিলকদ ১৪৪৭

ফিচার
  >
বিশেষ কলাম

শেষ পর্যন্ত শান্তি জিতুক

মাঈনুদ্দীন দুলাল ৮ এপ্রিল , ২০২৬, ১৭:৩০:১৮

234
  • শেষ পর্যন্ত শান্তি জিতুক

দু’সপ্তাহের যুদ্ধ বিরতিতে সম্মত হলইরান-আমেরিকা-ইসরায়েল। শুক্রবার পাকিস্তানে দু’পক্ষ আলোচনায় বসবে। গত সোমবার ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি এক রাতে গুঁড়িয়ে দেবেন একটি সভ্যতা। তিনি ইরানের হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী পার্সিয়ান সভ্যতাকে ইঙ্গিত করেছেন। 

যুদ্ধ বিরতির সম্মতিকে আমেরিকা ও ইরান দু'পক্ষই বলছে তাদের বিজয়। তবে ইরান বেশ কঠিন ১০টি শর্ত দিয়েছে। যা ডিঙিয়ে কাছাকাছি আসা কঠিন হবে উভয়ের জন্য। ইরানের দেয়া শর্তগুলো হচ্ছে – 

১.উভয়পক্ষই আগ্রাসন-বিরোধী নীতি অনুসরণ করবে এবং ইরানের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মেনে নিতে হবে।

২. হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণে থাকবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এবং বিদেশি জাহাজগুলোকে সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে হবে।

৩.লেবাননের হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধসহ সকল রণাঙ্গণে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হবে।

৪. মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করে দিতে হবে এবং এসব ঘাঁটির মার্কিন সেনাদের প্রত্যাহার করতে হবে।

৫.জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এবং বোর্ড অফ গভর্নরস-এর সকল প্রস্তাব বাতিল বাতিল করতে হবে।

৬.সর্বসম্মত শর্ত অনুসারে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে একটি নিরাপদ ট্রানজিট প্রোটোকল প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

৭.যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ইরানের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে— তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

৮.ইরানের ওপর থেকে প্রাথমিক ও মধ্যম পর্যায়ের যাবতীয় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।

৯.জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ পরিষদ আইএইএ’র বোর্ড অব গভর্নরদের যাবতীয় প্রস্তাব বাতিল করতে হবে।

১০.বিদেশ ইরানের যত সম্পদ ও সম্পত্তি আছে, সেসবের ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিতে হবে।

এই শর্তগুলোর মধ্যে ইরানের পরমাণু কর্মসূচীর স্বাধীনতা। হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের পুরো নিয়ন্ত্রণ ও টোল আদায়। মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমেরিকার সামরিক ঘাঁটি প্রত্যাহার। এই ৩ শর্ত মানা আমেরিকা ও ইসরায়েলের জন্যে প্রায় অসম্ভব। ইরান পারমাণবিক শক্তি অর্জন করুক ইসরায়েল তা কখনোই চাইবে না। কারণ এরসাথে তার অস্তিত্ব ও নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত।

আলোচনায় দু'পক্ষ সম্মত হওয়ার সংবাদ প্রচারিত হওয়ার পরপরই বিশ্ব অর্থনীতির জন্য সুসংবাদ আসতে শুরু করেছে। বিবিসি’র বরাতে জানা গেছে,

যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আগামী দুই সপ্তাহ হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজগুলো নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে চলাচল করতে পারবে। ইরানের ওপর হামলা বন্ধ থাকলে আমাদের শক্তিশালী সামরিক বাহিনীও তাদের অভিযান বন্ধ রাখবে।

আন্তর্জাতিক সব জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি আবারও উন্মুক্ত করা হলেও সেখান দিয়ে চলাচল করতে হলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করতে হবে বলে জানিয়েছে তেহরান।

যুদ্ধবিরতি ও হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার খবরে বিশ্ববাজারে তাৎক্ষণিকভাবে কমতে শুরু করেছে জ্বালানি তেলের দাম।

যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার পর প্রথম এক ঘণ্টায় ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রায় ১৩ দশমিক ছয় শতাংশ কমে বুধবার ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ৫০ ডলারে নেমে এসেছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামও প্রায় ১৪ দশমিক তিন শতাংশ কমে প্রতিব্যারেল ৯৬ দশমিক ৮০ ডলারে বিক্রি হচ্ছে।

ইরানে আমেরিকা ও ইসরায়েলের হামলাকে বিশ্ব গ্রহণ করেনি। ফলে আমেরিকার প্ররোচনা সত্ত্বেও ইউরোপিয় ইউনিয়ন, ন্যাটোকে এই যুদ্ধে সামিল করা যায় নি। অনেক দেশ সরাসরি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। যুদ্ধ বিরতির সংবাদের প্রতিক্রিয়া পরাশক্তি রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের মুখপাত্র মারিয়া ঝাখারোভ স্ফুটনিক রেডিওকে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শোচনীয় পরাজয় ঘটেছে”।

এই যুদ্ধ আরও কিছু দিন চললে বিশ্ব অর্থনীতি মারাত্মক মন্দায় পড়ত। সংশয়বাদীরা তবুও সন্দিহান শেষ পর্যন্ত বিরতি কতটা টেকসই হয়। তবে কে জিতল, কে হারল সেটি বড় বিষয় নয়। বিশ্ববাসী চায় এই ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ হোক। জয় হোক শান্তির।

নিউজজি/নাসি

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers