মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ , ২৫ জিলকদ ১৪৪৭

ফিচার
  >
বিশেষ কলাম

বাংলাদেশ কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সম্মুখীন

ড. মিহির কুমার রায় ২৯ এপ্রিল , ২০২৬, ১৫:১৩:৩৩

400
  • বাংলাদেশ কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সম্মুখীন

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বলেছে, তিন কারণে বাংলাদেশ বর্তমানে কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। এগুলো হচ্ছে-মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, দেশের ভেতরে কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও বৈদেশিক বাণিজ্যর ব্যয় বৃদ্ধি এবং আর্থিক চাপ। এসব কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে স্বল্পমেয়াদি বৈদেশিক ঋণের ঝুঁকি বাড়ছে। আগের ঋণ পরিশোধের কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ পড়েছে। এ অবস্থায় রিজার্ভ ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তবে বৈদেশিক দায়ের তুলনায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এডিবির এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুট শীর্ষক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার কমে ৪ শতাংশে নামবে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৯ শতাংশে উঠবে। তবে আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার বাড়ার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির হার কমবে। সংস্কার কর্মসূচি অব্যাহত রেখে অর্থনৈতিক খাতে কঠোর কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাহলে বিদ্যমান ঝুঁকির মাত্রা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। নতুন সরকারের জন্য কাঠামোগত সংস্কার কর্মসূচি অব্যাহত রাখা, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার করা, বেসরকারি খাতের জন্য আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ সব পদক্ষেপ নিয়ে প্রবৃদ্ধির ধারাকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বৈদেশিক ঋণের প্রবাহ কমে যাওয়া, অপর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, জিডিপির তুলনায় রাজস্ব কম, দুর্বল অভ্যন্তরীণ বাজারের কাঠামোগত দুর্বলতাগুলো অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করে দিচ্ছে। যদিও বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণ দেশের মোট জিডিপির ২২ শতাংশে স্থিতিশীল রয়েছে। কিন্তু বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ অপর্যাপ্ত হওয়ায়, রিজার্ভ কমতে থাকায় ও যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে বৈদেশিক খাতে বড় ধরনের ধাক্কা আসতে পারে। রিজার্ভ কম থাকায় এ ধাক্কা সামলানোর সক্ষমতা কমে যাচ্ছে। বৈদেশিক খাতে তারল্য সংকট ও বৈদেশিক অর্থায়ন হ্রাস পাওয়ায় ঝুঁকির প্রবণতা বাড়ছে। সরকারি খাতের ঋণ বৃদ্ধি ও ঋণ পরিশোধের ব্যয় দ্রুত বাড়ার কারণে স্বল্পমাত্রার রিজার্ভ চাপে পড়েছে। সংকট মোকাবিলা করতে সরকারের ঋণ ব্যবস্থাপনার উন্নতি করতে হবে। পাশাপাশি সরকারকে রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে। ঋণ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। এসব পদক্ষেপ নিলে আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার বেড়ে ৪ দশমিক ৭ শতাংশে উঠতে পারে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির হার কমে সাড়ে ৮ শতাংশে নামতে পারে। সাধারণ নির্বাচনের ফলে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা অনেকটা কেটে গেছে। এতে বিনিয়োগ বাড়ার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করেছে। এতে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব ধীরে ধীরে কমে আসবে। এতে আরও বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ঝুঁকির মাত্রা বেড়ে যাবে। বৈশ্বিকভাবে জ্বালানির দাম বাড়লে, জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধি পেলে ও সরবরাহ শৃঙ্খলা বাধার সৃষ্টি হলে দেশের ভেতরে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়তে পারে। তখন মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে যাবে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণকে কঠিন করে তুলতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে তেল ও গ্যাসের দাম যদি বাড়ানো না হয় তাহলে সরকারের বাজেট ঘাটতি মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যাবে। যা সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এর বাংলাদেশ সম্পর্কে যে মূল্যায়ন তার প্রত্যেকটি উত্তরাধিকার সূত্রে বর্তমান সরকার পেয়েছে যাদের ক্ষমতা গ্রহণের বয়স দু’মাস (১৮ই এপ্রিল, ২০২৬) পর্যন্ত। এই উপলক্ষ্যে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শনিবার (১৮ মার্চ) বিকালে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। মুখপাত্র বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অর্জিত নিরঙ্কুশ বিজয়কে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম ও পর্যবেক্ষকরা গণতন্ত্রের পুনরুত্থান ও জনগণের আকাঙক্ষার প্রতিফলন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। বিশ্বের প্রায় সব দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন-গণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ও সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দুই মাসের মধ্যেই সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে যে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে তা দেশে-বিদেশে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে। সরকার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে অধিকতর শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একগুচ্ছ বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতিতে রূপান্তর। এ লক্ষ্য অর্জনে খাতভিত্তিক স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। অর্থনীতিকে স্থিতিশীলতা, পুনর্গঠন ও বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধির পথে নিতে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে উন্নীত করা, মূল্যস্ফীতি নামিয়ে আনা, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো, এমপ্লয়েমেন্ট এক্সচেঞ্জ চালুর মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। বিদেশি বিনিয়োগ সহজীকরণের জন্য ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ প্রত্যাবাসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

একটি নিরপেক্ষ বিশ্লেষনে দেখা যায় যে একটি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা বোঝার জন্য যেসব মৌলিক সূচক ব্যবহৃত হয়, যেমন জিডিপি প্রবৃদ্ধি, মাথাপিছু আয়, মুদ্রাস্ফীতি, কর্মসংস্থান পরিস্থিতি, বৈদেশিক বাণিজ্য, রেমিট্যান্স প্রবাহ রাজস্ব কাঠামো এবং আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা, এসবের সাম্প্রতিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে পরিষ্কারভাবে বোঝা যায় যে বাংলাদেশ বর্তমানে একটি সংক্রমণকাল অতিক্রম করছে। এই পর্যায়ে অর্থনীতি একদিকে সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে অন্যদিকে নানামুখী ঝুঁকির চাপও তৈরি করছে, যা নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তকে আরও জটিল করে তুলেছে। বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় সংকট হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে মুদ্রাস্ফীতি। ২০২৬ সালের শুরুতে মুদ্রাস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে উঠে যায়, ফেব্রুয়ারিতে এটি ৯.১৩ শতাংশে পৌঁছে এবং মার্চে কিছুটা কমে ৮.৭১ শতাংশে দাঁড়ায়। আন্তর্জাতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, বছরজুড়ে গড় মুদ্রাস্ফীতি প্রায় ৮.৭ থেকে ৯.২ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে। এই উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি সাধারণ মানুষের জীবনে সরাসরি চাপ সৃষ্টি করছে। খাদ্যপণ্যের দাম, জ্বালানির মূল্য এবং পরিবহণ ব্যয়ের বৃদ্ধি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। যদিও মজুরি বৃদ্ধির হার প্রায় ৮ শতাংশের কাছাকাছি তবুও মূল্যস্ফীতি তার সমান বা বেশি হওয়ায় প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে না, বরং অনেক ক্ষেত্রে কমে যাচ্ছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামোতে কৃষি, শিল্প এবং সেবা খাতের সমন্বিত ভূমিকা রয়েছে। কৃষি খাত জিডিপির প্রায় ১১-১৩ শতাংশ অবদান রাখে, শিল্প খাত প্রায় ৩৪-৩৮ শতাংশ এবং সেবা খাত প্রায় ৫১ শতাংশ অবদান রাখে। কৃষির অবদান তুলনামূলকভাবে কম হলেও এই খাতে বিপুল সংখ্যক মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় ২ কোটি ৭৫ লক্ষ কৃষকের জন্য কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

শিল্প খাতের মধ্যে তৈরি পোশাক শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। দেশের মোট রপ্তানির প্রায় প্রায় ৮৪-৮৫ শতাংশ এই খাত থেকে আসে এবং এটি জিডিপির উল্লেখযোগ্য অংশ জুড়ে রয়েছে। তবে এই একক নির্ভরতা অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকিপূর্ণ। বৈশ্বিক বাজারের চাহিদার ওঠানামা, শ্রমবাজারে অস্থিরতা এবং উৎপাদন ব্যয়ের বৃদ্ধি এই খাতকে চাপে ফেলছে। ফলে রপ্তানি বহুমুখীকরণ এখন একটি কৌশলগত অপরিহার্যতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের শ্রমবাজার একটি বিশাল সম্ভাবনার ক্ষেত্র। প্রায় ১৮ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে ৭.৭ কোটির বেশি শ্রমশক্তি রয়েছে, যার একটি বড় অংশ তরুণ। এই জনশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে না পারলে এটি সম্ভাবনার বদলে চাপের কারণ হয়ে উঠতে পারে। প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা উন্নয়ন, কারিগরি শিক্ষা এবং নতুন খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এখন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি। বৈদেশিক খাত বর্তমানে চাপের মধ্যে রয়েছে। আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ অর্থনীতিকে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রেখেছে। বিশেষ করে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের আমদানি ব্যয় দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতা। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের মতে, এই ধরনের সংঘাত জ্বালানি মূল্যে বড় ধাক্কা দিতে পারে এবং এশিয়ার মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতিগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বাংলাদেশের রাজস্ব কাঠামোও একটি বড় দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত। কর-জিডিপি অনুপাত এখনও প্রায় ৭ শতাংশের আশেপাশে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় অত্যন্ত কম। ফলে সরকারকে উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য ঋণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এর ফলে বাজেট ঘাটতি বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদে ঋণের চাপ অর্থনীতির ওপর ঝুঁকি তৈরি করছে। কর প্রশাসনের দুর্বলতা, কর ফাঁকি এবং ডিজিটাল ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এই সমস্যাকে আরও জটিল করেছে। ব্যাংকিং খাতেও গভীর সংকট বিদ্যমান। খেলাপি ঋণের উচ্চ হার, দুর্বল শাসনব্যবস্থা এবং আর্থিক খাতে আস্থার সংকট বিনিয়োগ পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতিগত সুদের হার ১০ শতাংশে ধরে রেখে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে, তবে এর ফলে বিনিয়োগ ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং উদ্যোক্তারা নতুন প্রকল্পে আগ্রহ হারাচ্ছেন। ফলে অর্থনীতির সামনে একটি কঠিন ভারসাম্য রক্ষা করতে হচ্ছে, যেখানে একদিকে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, অন্যদিকে প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা প্রয়োজন।

এই জটিল বাস্তবতায় বাংলাদেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে হলে সমন্বিত ও গভীর সংস্কার অপরিহার্য। রাজস্ব খাতে করের আওতা সম্প্রসারণ, কর প্রশাসনের ডিজিটালাইজেশন এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ কমানো, জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে শুধু সুদের হার নয়, বরং সরবরাহ ব্যবস্থ্য শক্তিশালী করা, বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং আমদানি নীতি পুনর্বিন্যাস করাও প্রয়োজন। কর্মসংস্থান সৃষ্টি বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা গেলে এটি একটি ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডে পরিণত হতে পারে। নয়তো এটি অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।

মোটকথা, এই সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব এসে বর্তেছে। বাংলাদেশ এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে যেখানে সরকার সঠিক নীতি গ্রহণ করলে অর্থনীতি দ্রুত পুনরুদ্ধারের পথে ফিরতে পারে, কিন্তু ভুল নীতি বা বিলম্বিত সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদি স্থবিরতার ঝুঁকি তৈরি হবে। বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতা, অভ্যন্তরীণ সংকট এবং অর্থনৈতিক সূচকের প্রবণতা স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করে যে এখন সময় সাহসী, বাস্তবমুখী এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক সংস্কারের। অর্থনীতি শুধু সংখ্যার হিসাব নয়, এটি মানুষের জীবন, ভবিষ্যৎ এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার প্রতিফলন। তাই এই মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্তই বাংলাদেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। এরই মধ্যে সরকার উচ্চ পদস্থ অর্থনৈতিক কমিশন গঠন করেছে এবং আগামী তিন মাসের মধ্যে এই কমিটি সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেবে বলে আশা করা যায়।

লেখক: গবেষক ও অর্থনীতিবিদ।

নিউজজি/নাসি

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers