বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ , ৭ সফর ১৪৪৮

ফিচার
  >
বিশেষ কলাম

ধর্ষণ এখন এক মহামারি

মাঈনুদ্দীন দুলাল ২৪ মে , ২০২৬, ২০:১৮:০৬

287
  • ধর্ষণ এখন এক মহামারি

একের পর এক আসছে দমবন্ধ হওয়া সংবাদ। টেকনাফ থেকে তেতুলিয়ায় ঘটছে ধর্ষণকাণ্ড । কোথাও মেয়ে শিশু, কোথাও বালক। বালকেরা বেশি ধর্ষনের শিকার হচ্ছেন মাদ্রাসা-মক্তবে। ওখানে মেয়ে শিশু-কিশোরীরাও আছে। ধর্ষণে পর বেশির ভাগ শিশুকে নৃশংস কায়দায় হত্যাও করা হচ্ছে। যারা এই নিষ্ঠুর কান্ডের সাথে জড়িত নিঃসন্দেহে তার মানসিক বিকারগ্রস্থ। অসুস্থ।

সম্প্রতি মিরপুরে শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাটি কালবৈশাখী টর্নেডোর মত নাড়া দিয়ে বিদ্ধস্ত করেছে আমাদের। ঘটনার তীব্ৰতা খোদ প্রধানমন্ত্রীকে আলোড়িত করেছে। তিনি রামিসার বাসায় গেছেন পরিবারকে সান্তনা দিতে। বা জনরোষ, ক্ষোভকে প্রশমিত করতে।

বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের বরাতে আমরা জানতে পারি গত চার মাসে ১১৮ কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার ও খুন হয়েছে ১৭জন।দেশের বিভিন্ন স্থানে কন্যাশিশুদের ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা বেড়েছে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্যে জানা যাচ্ছে,গত ১লা জানুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত ১১৮ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছে ৪৬জন শিশু। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ১৪জন শিশু এবং ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে হত্যা করা হয়েছে তিন শিশুকে। ধর্ষণের শিকার দুই শিশু আত্মহত্যা করেছে।

সাম্প্রতিক সময়ের ধর্ষণ ও হত্যার পাঁচটি ঘটনা থেকে দেখা যায়  শিশুরা প্রতিবেশী, আত্মীয় কিংবা ঘনিষ্ঠজনের শিকার হয়েছে।

মনবিজ্ঞানী ও মানবাধিকারকর্মীরা মনে করছেন,এসব ঘটনার পেছনে শুধু ব্যক্তিগত অপরাধ প্রবণতা নয়। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবক্ষয়ও দায়ী। মাদকাসক্তির বিস্তার, বিকৃত অনলাইন কনটেন্টের সহজলভ্যতা, পরিবার ও শিক্ষা ব্যবস্থায় নৈতিক শিক্ষার অপ্রতুলতা এবং অপরাধ করে পার পাওয়ার প্রবণতা এ পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করেছে।

শিশু নির্যাতন ও হত্যার মামলাগুলোর বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার নিয়ে শংকায় থাকেন।

আমাদের প্রচলিত আইনে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড। পাশাপাশি জরিমানার বিধানও রয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০-এর ৯ ধারা অনুযায়ী এই দণ্ড কার্যকর করা হয়। ধর্ষণের চেষ্টা করার অপরাধ প্রমাণিত হলেও সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং সর্বনিম্ন পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের শাস্তি রয়েছে।

আজই জানা গেল রামিসার ধর্ষক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে ঘটনার ৫ দিনের মাথায় চার্জশীট দেয়া হল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেছেন, এক সপ্তাহের মধ্যেই বিচার সম্পন্ন হবে। এই অকুল বেদনায় আমাদের জন্যে এটি কিছুটা স্বস্তি। রামিসার মত দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়া যদি অন্যসব ঘটনায় শুরু বা শেষ করা যায় তবে বিকৃত অপরাধীদের মনে ভয় তৈরি হতে পারে। জনমনে কমতে পারে আতংক। এই মহামারীর প্রকোপ কিছুটা নিয়ন্ত্রণ হতে পারে।

নিউজজি/নাসি

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers