বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ , ৭ সফর ১৪৪৮

ফিচার
  >
বিশেষ কলাম

আগামীর বাংলাদেশ: জলবায়ু সংকটের বাস্তবতায় সবুজ সুরক্ষার অঙ্গীকার

সুমন মোস্তফা ৫ জুন , ২০২৬, ১১:১১:২৩

233
  • ছবি : নিউজজি

আজ ৫ জুন, বিশ্ব পরিবেশ দিবস। ১৯৭২ সালে সুইডেনের স্টকহোমে জাতিসংঘের মানব পরিবেশবিষয়ক সম্মেলনের মাধ্যমে যে বৈশ্বিক চেতনার সূচনা হয়েছিল, আজ তা বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশে একযোগে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।

এবারের পরিবেশ দিবসের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে-‘জলবায়ু পরিবর্তন: আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিরাপত্তা’। এই স্লোগানটি কেবল একটি কাগজের বাণী নয়, বরং বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে, বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশের জন্য এটি অস্তিত্ব রক্ষার এক চরম তাগিদ।

সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আমাদের বাংলাদেশ

ভৌগোলিক অবস্থান এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নির্মম বাস্তবতায় বাংলাদেশ আজ বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। হিমালয়ের বরফ গলা এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বাড়ছে, ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে। নদীভাঙন, অনিয়মিত বন্যা, তীব্র খরা এবং ঘন ঘন শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় এখন আর কোনো দূরবর্তী আশঙ্কা নয়, বরং আমাদের বার্ষিক জীবনযাত্রার অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এর সাথে যোগ হয়েছে মানবসৃষ্ট দুর্যোগ। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, নদী দখল, প্লাস্টিক ও পলিথিনের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং বাতাসে বিষাক্ত গ্যাসের মিশ্রণ আমাদের পরিবেশগত সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে। পরিবেশবিদরা বারবার সতর্ক করছেন যে, এখনই যদি আমরা প্রকৃতির ওপর এই নির্যাতন বন্ধ না করি, তবে আগামী প্রজন্মের জন্য এক বসবাসের অযোগ্য ভূখণ্ড রেখে যাব আমরা।

রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার ও আগামীর রূপরেখা

এই বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানের দূরদর্শী দিকনির্দেশনা একটি আশার আলো দেখায়। বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অত্যন্ত যথার্থই বলেছেন যে, জলবায়ু ও পরিবেশের সংকট মোকাবিলা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন সরকারি-বেসরকারি খাত, গবেষক এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত সক্রিয় অংশগ্রহণ।

অন্যদিকে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারের আগামী পাঁচ বছরের একটি সুনির্দিষ্ট ও বৈপ্লবিক মহাপরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। যার মধ্যে রয়েছে:

২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ: যা দেশের বনভূমির পরিমাণ বাড়িয়ে জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষা করবে।

২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখনন: যা জলাশয় পুনরুদ্ধার ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ধরে রাখতে ভূমিকা রাখবে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সবুজ শিল্পায়ন: কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিবেশবান্ধব টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলার এক বড় পদক্ষেপ।

কেবল দিবস উদযাপনে সীমাবদ্ধ নয়, চাই নাগরিক সচেতনতা

রাষ্ট্রীয়ভাবে আলোচনা সভা, র‍্যালি কিংবা বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন অবশ্যই প্রশংসনীয়। কিন্তু পরিবেশ রক্ষা কেবল সরকারের একার দায়িত্ব হতে পারে না। রাষ্ট্র যদি কোটি কোটি গাছ লাগায়, আর নাগরিক হিসেবে আমরা যদি প্রতিদিন নির্বিচারে প্লাস্টিক বর্জ্য ড্রেনে ফেলি বা গাছ কেটে ফেলি, তবে কোনো পরিকল্পনাই সফল হবে না।

আজকের এই দিনে আমাদের প্রতিটি নাগরিকের প্রতিজ্ঞা হওয়া উচিত:

১. প্লাস্টিক ও পলিথিনের ব্যবহার যতটা সম্ভব বর্জন করা।

২. নিজ নিজ আঙিনায় বা ছাদে অন্তত একটি করে গাছ লাগানো ও তার পরিচর্যা করা।

৩. বিদ্যুৎ, পানি ও প্রাকৃতিক সম্পদের অপচয় রোধ করা।

প্রকৃতির একটি নিজস্ব প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষমতা আছে। আমরা প্রকৃতিকে যা দেব, প্রকৃতি আমাদের ঠিক তাই ফিরিয়ে দেবে। জলবায়ু পরিবর্তনের এই ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে আমাদের আজকের প্রতিটি ছোট পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে আমাদের আগামীর নিরাপত্তা। আসুন, ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সমাজ ও রাষ্ট্রের সাথে কাঁধ মিলিয়ে একটি সবুজ, নিরাপদ এবং টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তুলি। আজকের পরিবেশ দিবসে এটাই হোক আমাদের একমাত্র অঙ্গীকার। লেখক : সাংবাদিক

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers