শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ , ২ সফর ১৪৪৮

ফিচার
  >
বিশেষ কলাম

ইরান-আমেরিকা শান্তি চুক্তির দ্বার প্রান্তে

মাঈনুদ্দীন দুলাল ১৫ জুন , ২০২৬, ১৯:১৩:১২

294
  • ইরান-আমেরিকা শান্তি চুক্তির দ্বার প্রান্তে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান শান্তি চুক্তিতে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন আলোচনার মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে চুক্তিতে পৌঁছানোর খবর নিশ্চিত করেছেন ট্রুথ সোশ্যালে। তিনি বলেছেন, হরমুজ প্রণালি টোল ফ্রি হবে, আর সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে। শেহবাজ জানিয়েছেন, আগামী ১৯ জুন শুক্রবার জেনেভায় চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর হবে।

এ পর্যন্ত ঠিক আছে। মনে হচ্ছে সব ঠিকঠাক চলছে। ভজঘট নেই। কিন্তু ডাল মে কুছ কালা হ্যায়। এমন সন্দেহের কারণ, যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি শান্তিচুক্তিতে সম্মত হয়েছে। এটি নিয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি ইসরায়েল। তবে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দেশটির কট্টরপন্থি কলকাঠি নাড়ুনে জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির।

সোমবার  সকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চুক্তির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমরা এই চুক্তির অংশীদার নই। এটি আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না এবং কোনোভাবেই আমাদের জন্য বাধ্যতামূলক নয়।’

বেন-গভির আরও বলেন, হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণভাবে নিরস্ত্রীকরণ ও ধ্বংস করে দেয়া ছাড়া অন্য কিছুতে ইসরাইলের সন্তুষ্ট হওয়া উচিত নয়। লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখারও আহ্বান জানান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফাঁদে পড়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর। তিনি এটি বুঝতে পারছেন। বিরক্ত হয়ে ট্রাম্প ভব্যতার বাইরে গিয়ে নেতানিয়াহুকে , ‘খুব জটিল’ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তার সমালোচনা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কারণে নেতানিয়াহুর কৃতজ্ঞ থাকা উচিত।

নিউইয়র্ক টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা থেকে ইসরায়েলও লাভবান হবে। তিনি এ সমঝোতা এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রশংসাও করেন। নেতানিয়াহুকে নিয়ে ট্রাম্প বলেন, “তিনি খুব জটিল একজন মানুষ। সত্যি বলতে, এ কাজের জন্য আমাদের প্রতি তার কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। কারণ ইরানের যদি পারমাণবিক অস্ত্র থাকত, তাহলে ইসরায়েল দুই ঘণ্টাও টিকে থাকতে পারত না।”

সাম্প্রতি নেতানিয়াহুর ওপর ট্রাম্পের বিরক্তি ক্রমেই বাড়ছিল। কারণ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী লেবাননে সামরিক হামলা অব্যাহত রেখেছিলেন, যা বারবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তি আলোচনাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছিল

ইরানের দিক থেকে চুক্তি নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব নেই। ইরানের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজের ঘারিবাবাদি রাষ্ট্রীয় টিভিতে শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে চুক্তি স্বাক্ষরিত হবার খবর নিশ্চিত করেছেন। দেশটির সামরিক কর্মকর্তারা একে ইরানের বিজয় হিসেবে দেখছেন।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং ইতালি এ চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে। চুক্তির মহেন্দক্ষণে দাঁড়িয়ে শান্তি। তবুও সংশয় জাগে মনে।

কারণ ইসরায়েল এই চুক্তি চায় না। সে অখুশি। তার কুটিল ও জটিল কুটনীতি ও গোয়েন্দা কার্যক্রম শেষ মুহূর্তে কোন অঘটন ঘটায় কিনা? বা চুক্তির পর তা টেকসই হতে দেয় কিনা? এ রকম অনেক প্রশ্ন ও দ্বিধা থাকছে।

তবুও বলি বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষই শান্তকামী। ইরান-আমেরিকা-ইসরায়েলের যুদ্ধ অশান্ত করেছে পৃথিবীবাসীর মনস্তত্ব ও অর্থনীতি। দুনিয়া এখন এক গ্লোবাল ভিলেজ। কোন এক প্রান্তের আগুনের আঁচ কমবেশি সকলেই টের পায়।

গ্লোবাল বেদনার কথা ভেবে কবি শামসুর রাহমানের “বাইবেলের কালো অক্ষর গুলো” কবিতার একটি অংশ মনে ভাসে।

“যদিও আমি তোমাকে কখনো দেখিনি জো,

তবু বাইবেলের কালো অক্ষরের মতো তোমার দু’ফোঁটা চোখ

তোমার বেদনার্ত মুখ বারংবার

ভেসে ওঠে আমার হৃদয়ে, তোমার বেদনা

এশিয়া, আফ্রিকা আর লাতিন আমেরিকায় ব্যাপ্ত, জো।”

দক্ষিণ আফ্রিকার নির্যাতিত কৃষ্ণাঙ্গ ক্রীতদাসের আর্তনাদ এই প্রান্তের মানুষের মনেও বিষাদ আনে।  তেমনি পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের আগুন সব মানুষকেই পোড়ায়। তাই আমাদের প্রত্যাশা হোক- ‘মধুরেণ সমাপয়েৎ’। লেখক: সাংবাদিক।

নিউজজি/নাসি

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers