বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ , ২৮ সফর ১৪৪৮

ফিচার
  >
বিশেষ কলাম

সমঝোতায় বিশাল আয়ের সুযোগ, ইরানি জনগণের ভাগ্য কি ফিরবে?

মাঈনুদ্দীন দুলাল ২২ জুন , ২০২৬, ২০:২৩:৫১

289
  • সমঝোতায় বিশাল আয়ের সুযোগ, ইরানি জনগণের ভাগ্য কি ফিরবে?

সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ইরান-আমেরিকার প্রথম দফা বৈঠক শেষে জানা গেল ইরানের ওপর আরোপিত তেল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশে আটকে থাকা তেহরানের বিপুল পরিমাণ বাজেয়াপ্ত সম্পদের একটি অংশও মুক্তি দেয়া হয়েছে। এক্সে দেয়া এক পোস্টে আরাগচি বলেন, ইরানের জন্য একটি বড় পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছ।  ইরানি প্রতিনিধি দলের অর্থনীতিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ হোসেইন গোরবানজাদেহ জানিয়েছেন, ইরানের তেল ও তেলজাত পণ্যের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় সাময়িক ছাড় দেওয়ার খসড়া চুক্তি ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত হয়েছ।

সমঝোতা অব্যাহত থাকলে ইরান দিনে আনুমানিক ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করতে পারবে। এর ফলে দেশটি বছরে ৬০ বিলিয়ন ডলারের বেশি তেল ও জ্বালানি বিক্রি করতে পারবে।

সমঝোতা চুক্তি বাস্তবায়িত হলে, মোট ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের জব্দ করা ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা হতে পারে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক অব ইরানের তথ্য অনুযায়ী, তাদের দেশে মূল্যস্ফীতি ৬৫ শতাংশেরও বেশি ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়া গত আট বছরে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ৯০ শতাংশের বেশি কমেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী অনেকের জন্যে হাতের নাগালে বাইরে চলে গেছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ খাদ্য-সংকটে পড়েছে।

ইরানের অর্থনীতির বর্তমান দূর্দশার তুলনামুলক চিত্র এভাবে পাওয়া যায়— ১৯৭৯ সালের গণ-আন্দোলনের আগে ইরানের মুদ্রা ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী এবং স্থিতিশীল। তখন ১ মার্কিন ডলারের বিপরীতে ৭০ থেকে ৭১ ইরানি রিয়াল পাওয়া যেত। ওই সময় জ্বালানি তেলের শক্তিশালী রফতানি আয় এবং ব্যাপক পুঁজি প্রবাহের কারণে সরকার এই বিনিময় হারটি ধরে রাখতে পেরেছিল। তুলনামূলক চিত্রে দেখা যায়, অভ্যুত্থানের পর থেকে দীর্ঘ চার দশকে আন্তর্জাতিক অবরোধ এবং অভ্যন্তরীণ নানা সংকটের কারণে ইরানি মুদ্রার মান প্রায় ২০ হাজার গুণ কমে গেছে । বর্তমানে খোলা বাজারে ১ মার্কিন ডলারের বিনিময় মূল্য প্রায় ১৫ লক্ষ রিয়ালেরও বেশি।

আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন,নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে ও পুনরায় তেল রপ্তানি শুরু হলে অর্থনীতিতে যে বিপুল পরিমাণ বিদেশি বিনিয়োগ আসবে তার একটি বড় অংশ আইআরজিসির বহুমাত্রিক বাণিজ্যিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং সংঘাতের কারণে ইরানের রাজনীতিতে আইআরজিসির অবস্থান আরও বেশি সুসংহত ও শক্তিশালী হয়েছে।

আইআরজিসি ইতোমধ্যেই নির্মাণ, তেল-গ্যাস, শিপিং এবং বহুজাতিক বাণিজ্য খাতের একটি বিশাল সাম্রাজ্য পরিচালনা করছে, যা স্বাভাবিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে আরও সম্প্রসারিত হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন ইরানের প্রায় ৬ লাখ সেনাবাহিনী ও ২ লাখ আইআরজিসি সদস্য এবং ইরানের মিসাইল ও ড্রোন শিল্পের উন্নয়নে প্রাপ্ত আর্থিক সুবিধা ব্যবহৃত হতে পারে।

ইরানের জনগণের কাছে একবেলা মাংস খাওয়া স্বপ্নের মত। এমনই তাদের জীবনমানের দুর্দশা। সমঝোতা হলে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রবাহ শুরু হবে তা সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান, ব্যবসার প্রসার, কৃষি উন্নয়ন ও শেয়ার বাজার উন্নয়নে কি ভূমিকা রাখবে? এমন প্রশ্ন রাজনীতি বিশ্লেষকদের। কারণ জনগণের কাছে সরকারের কোন দায়বদ্ধতা নেই। সেখানে সরকার মুক্ত আবহ ও মুক্ত অর্থনীতির ধারে কাছে নেই।

নিউজজি/নাসি

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers