রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ , ২৪ সফর ১৪৪৮

ফিচার
  >
প্রাণী ও পরিবেশ

নানা হুমকিতেও বাড়ছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার

নিউজজি ডেস্ক ২৯ জুলাই , ২০২৬, ১১:৫২:৫৯

100
  • সংগৃহীত

ঢাকা: পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। আর এ বনের রাজা রয়েল বেঙ্গল টাইগার। নানা ঝুঁকি আর হুমকির মধ্যেও জরিপে বেড়েছে বাঘের সংখ্যা। 

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সুরক্ষা প্রাচীর সুন্দরবনের প্রধান প্রহরী আমাদের জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগার। জলবায়ু পরিবর্তন ও মানবসৃষ্ট নানা হুমকির কারণে একসময় আশঙ্কাজনক হারে কমছিলো সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা। তবে সরকারি-বেসরকারি নানা উদ্যোগের সুফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সুসংবাদ মিলেছে-গত সাত বছরে দেশে বাঘের সংখ্যা বেড়েছে ১১টি।

বুধবার (২৯ জুলাই) বিশ্ব বাঘ দিবস। দিবসটিতে সুন্দরবনের বাঘ বাড়ার এই তথ্য প্রকৃতিপ্রেমী ও বনজীবীদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

সুন্দরবন রক্ষায় আমরা এর সম্মনয়কারী মো. নুর আলম শেখ জানান, বিভিন্ন সময়ে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাংলাদেশকে ঢালের মতো রক্ষা করে আসছে সুন্দরবন। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব এবং বিভিন্ন মানবসৃষ্ট কারণে, ২০২৫ সাল পর্যন্ত ৯১টি বাঘের মৃত্যু হয়। এর ফলে আশঙ্কাজনক হারে কমতে শুরু করে বাঘের সংখ্যা।

বাঘের সংখ্যা হ্রাসে নড়েচড়ে বসে বন বিভাগ। গ্রহণ করা হয় বাঘের নিরাপত্তা ও বংশবৃদ্ধির বিশেষ পরিকল্পনা। যার সুফলে সম্প্রতি পরিচালিত দুইটি পৃথক জরিপে সুন্দরবনে বাঘ বৃদ্ধির ইতিবাচক তথ্য উঠে এসেছে। তবে গবেষকরা বলছেন, বাঘের সংখ্যা বাড়লেও পুরোপুরি দূর হয়নি প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট হুমকি। বাঘের নিরাপদ আবাসস্থল, খাদ্যের পর্যাপ্ততা এবং নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করা এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিন বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী বলেন, পশুদের আবাসস্থলে যদি মানুষের অবাধ চলাচল থাকে, তবে তাদের প্রজননেও বড় ধরনের সমস্যা হতে পারে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও গবেষক সামিউল হক বলেন, সর্বশেষ জরিপে বাঘ বেড়েছে এটি আমাদের জন্য ভালো সংবাদ। তবে বাঘ বৃদ্ধি ও বাঘের প্রজনন স্বাভাবিক রাখতে কিছু জরুরি উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। বাঘের আবাসস্থল সুরক্ষা করতে হবে। কঠোরভাবে বাঘ শিকার প্রতিরোধ করতে হবে। বাঘ-মানুষের দ্বন্দ্ব কমানোর জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। চোরাকারবারিদের নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ধ্বংস করতে হবে। ক্যামেরা ট্রাপিংয়ের মাধ্যমে বাঘের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। তবেই কেবল বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা ঠিক থাকবে। নতুবা নানা সংকটে বাঘের সংখ্যা কমে যাবে।

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও, বাগেরহাট) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, সুন্দরবনের বাঘের প্রধান খাদ্য হরিণ। তাই বাঘের খাদ্য ও আবাসস্থল নিরাপদ রাখতে হরিণ শিকারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বন বিভাগ। এর মধ্যে হরিণ শিকারী ও পাচারকারীদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি বলেন, জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বাঘ সংরক্ষণে বিভিন্ন কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার ফলেই সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বর্তমানে বাঘ সুন্দরবনে নিরাপদ রয়েছে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, বাঘ ও মানুষের মধ্যকার দ্বন্দ্ব নিরসনে এবং লোকালয়ে বাঘের অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। বনের সীমান্ত সংলগ্ন ৭৪ কিলোমিটার এলাকায় তৈরি করা হচ্ছে বিশেষ পরিবেশবান্ধব সুতলির বেড়া, যাতে বাঘ কোনোভাবেই লোকালয়ে প্রবেশ করতে না পারে।

নয়নাভিরাম সুন্দরবনে এখন আগের তুলনায় বাঘের দেখা মিলছে বেশি। তবে জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগারের স্থায়ী নিরাপত্তা এবং সংখ্যা বৃদ্ধির এই ধারা বজায় রাখতে বন বিভাগের পাশাপাশি স্থানীয় সচেতন বাসিন্দাদেরও একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বন বিভাগ।

নিউজজি/এসডি

 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers