বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ , ২৮ সফর ১৪৪৮

ফিচার
  >
প্রাণী ও পরিবেশ

সাগরধোয়া মাটির করপুলা

মোহাম্মদ আলি ৩০ জুলাই , ২০২৬, ১৮:৫৬:৫৪

148
  • সাগরধোয়া মাটির করপুলা

অনন্তমূল কিংবা অপরাজিতার মতো পেঁচিয়ে, আষ্টেপৃষ্ঠে বাড়ে সুন্দরপত্রী, ক্ষীণতনু লতাটি। আমাদের দেশের লোকেরা বলে করপুলা, পশ্চিমবঙ্গের লোকেরা বাওলি-লতা। পোশাকি-নাম বাওয়ালি লতা। আরেক ধরনের বাওয়ালি-লতা অবশ্য আছে। সে-কথা আজ থাক। আমাদের এই করপুলার বৈজ্ঞানিক নাম Sarcolobus carinatus।

দেশের দক্ষিণের সাগরপারের বিভিন্ন এলাকায় এর বসতি। সুন্দরবনের উভয় অংশে একে পাওয়া যাবে। আশ্রয়দাতার পাতার মতোই অনেকটা এর পাতা। তাই খুব সহজে, হঠাৎদৃষ্টিতে একে আলাদা করে উপভোগ করা যায় না। আশ্রয়দাতা আমাদের ভুবনমোহিনী, চিত্রবিচিত্র ম্যানগ্রোভ-উদ্ভিদ গেওয়া, স্থানীয়রা বলে গাওয়া, ইংরেজিতে Blind your eye (Excoecaria agallocha)। ভয়ানক বিষাক্ত বৃক্ষ এটি। করপুলার পাতা গেওয়ার পাতার চাইতে প্রায় আধাআধি ছোট, রঙ একইরকম। অনুমেয়, লতাটির Mother plant এটি।

যতবারই এ বল্লীকে দেখেছি প্রতিবারই কেওড়া-বনের ঘনঘটায় থাকা গেওয়া-ঝাড়ের মধ্যে ছদ্মবেশে লুকিয়ে থাকতে দেখেছি। জীবের মনোহরা এ চাতুরি মনে দারুণ এক দোলা দিয়েছিল সে অভিযানের দিনগুলিতে। এর ছোট্টসুন্দর ফুলগুলো তারার মতো; ফিকে কমলাটে হলুদ, ৫-পাপড়িবিশিষ্ট; গন্ধ পাইনি। কামরাঙ্গার মতো আকৃতির, ইঞ্চি দুই-তিনেক লম্বা ফল। খেতে পানসে স্বাদের হলেও রুচিতে বিঘ্ন ঘটায় না ফলগুলো।  কাঁচা ফল গাঢ় সবুজ, পাকাগুলো লালচে।

আরোহী কিংবা মাটিতে গড়ানো করপুলা বা বাওয়ালি খুব একটা বিস্তৃত লতা নয়। আমাদের প্রাকৃত উদ্ভিদের একটি এটি। দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার সাগরস্নাত বনভূমিতেও রয়েছে এটি; বিশেষ করে উপমহাদেশীয় সাগরপার, আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, চীনের কিছু অংশ, মায়ানমার ও থাইল্যান্ডে এর দেখা মিলবে।

নিউজজি/নাসি

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers