মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ , ২৫ জিলকদ ১৪৪৭

ফিচার
  >
ফেসবুক কর্ণার

জুলাই যোদ্ধাদের সম্মান প্রদর্শন এবং আমার অভিজ্ঞতা

মেজর আহমেদ ফেরদৌস (অব.) ১৪ জানুয়ারি , ২০২৬, ১৮:২৯:২৫

522
  • জুলাই যোদ্ধাদের সম্মান প্রদর্শন এবং আমার অভিজ্ঞতা

একটা কথা সত্য যে ছাত্র-জনতা-সিপাহীর মৈত্রীতে ৫ই আগষ্ট ২০২৪ তারিখে আমরা ফ্যাসিজমকে উতখাত করেছি। অথচ সেই জুলাই যোদ্ধাদের আমরা বেমালুম ভুলে গেছি। জুলাই বিক্রি হয়ে গেছে। রাজনৈতিক দলগুলো এর জন্য দায়ী। তারুণ্যের প্রতীক বৈষম্য বিরোধী ছাত্ররা পরবর্তীতে এনসিপি এই জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসনে দায়িত্ব পালন ঠিকমতন করেনি। তারা জাতিকে নতুন বন্দোবস্তের কথা বলে নিজ বন্দোবস্তে ব্যস্ত থেকে আজ হারিয়ে ফেলেছে তাদের বজ্র কন্ঠ।

জুলাই পরবর্তী আমরা সবাই যে যার ধান্দায় ব্যস্ত। রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতার মসনদে বসায় প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত। দেশ আজ নির্বাচনের হাইওয়েতে উঠেছে। যারা জীবন দিয়েছে (১৪০০ জন) ও যারা আহত (২২,০০০ অধিক), তারা আজ আলোচনা বা পত্রিকার শিরোনামে স্হান পায় না যা জাতির জন্য হতাশাজনক।

এই অবস্হায় আমরা কিছু অরাজনৈতিক মানুষ আমাদের সীমিত সামর্থ্য দিয়ে এসব জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসনে এগিয়ে আসি যখন দেখি সরকার দায়সারা আচরণ করছে। শুরুটা এভাবেই।

এরপর আমরা প্রথম যাই বিজিবি হাসপাতালে যেখানে পাই ২১ জন জুলাই যোদ্ধা। তাদের সাথে দেখা করে কথা বলে আমরা টার্গেট নেই ৭ জন জুলাই যোদ্ধার পূনর্বাসন। আমরা তাদের জন্য ৭০,০০০/ প্রতি পরিবারের জন্য নির্ধারণ করি যা দিয়ে ১টি ব্যাটারী চালিত রিক্সা দেবার বন্দোবস্ত করি। অতএব আমি ও আমার পরিবার ও দুজন বন্ধু মিলে ৫ লাখ টাকা দিয়ে বিজিবি অডিটোরিয়ামে দুজন উপদেষ্টাকে নিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহকে নিয়ে বিসমিল্লাহ করি।

সেদিনের অনুষ্ঠানে বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আশরাফ বিজিবির মাধ্যমে সমগ্র বাংলাদেশে ১০০ আহত জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসন করবেন বলে ওয়াদা করেন। আলহামদুলিল্লাহ বিজিবি কর্তৃপক্ষ ২০২৪ এর ডিসেম্বরের মধ্যে তাদের ওয়াদা মোতাবেক কাজ করেন।

এরপর চট্টগ্রামে আমরা কোষ্টগার্ড কর্তৃপক্ষ, সেনাকল্যান সংস্হা, সিলেট ক্যাডেট কলেজ এক্স এসোসিয়েশন ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে আমরা ৩টি অনুষ্ঠান করি যেখানে ২১টি পরিবারকে অনুরূপভাবে পূনর্বাসন করি। এছাড়াও আমাদের ছাত্র ফরহাদের সহায়তায় বিজিবি ও সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ৪০-৫০ আহত জুলাই যোদ্ধার চিকিৎসা ও পূনর্বাসন নিশ্চিত করি।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠানে আমি বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মনিরুজ্জামানকে বন্দরে ১০জনকে ন্যায্যতার ভিত্তিতে চাকুরী প্রদানের অনুরোধ করলে তিনি ওয়াদা করেন এ ব্যাপারে কার্যকরী বূমিকা পালনের।

গতকাল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সেই ওয়াদা পালন করেন।

আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে জুলাই আহত  ৯-জন যোদ্ধাকে গতকাল চট্টগ্রাম বন্দর বোর্ড রুমে ন্যায্যতার ভিত্তিতে কর্মসংস্থান করতঃ জুলাই গনঅভ্যুত্থানের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করায়।

মহেশখালীতে শহীদ তানভীর সিদ্দিকীর গ্রামে গিয়ে তার বাবা বাদশা মিয়ার জন্য আমরা একটি রোজগারের আয়োজন করতে পারি।

এ পর্যন্ত ব্যক্তি ও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তথা বিজিবি, কোষ্ট গার্ড, সেনাকল্যান সংস্হা, সিলেট ক্যাডেট কলেজ এক্স এসোসিয়েশন সহ আমার ক'জন বন্ধু এ কাজে সামিল ছিল।

শুরু করেছিলাম ২০২৪ এর অক্টোবরে নিজ উদ্যোগে সীমিত সামর্থ্য নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহকে সাথে নিয়ে আমার স্ত্রী, ফরহাদ মজহার, ছাত্র প্রতিনিধি ফরহাদকে নিয়ে।

এ যাত্রায় অনেক কষ্টদায়ক অভিজ্ঞতা হয়েছে। এসব নিয়ে পরে লিখবো। আজ আনন্দ উপভোগ করবো আমরা শুধু।

২৪ জুলাই আহত নিহতদের আমি ও আমার সাথে সীমিত পরিসরে যা পেরেছি করেছি বিবেকর তাড়নায়। আমাদের সামর্থ্য ছিল সীমিত কিন্তু ইচ্ছা ছিল অপরিসীম। যখন ঠেকে গিয়েছি তখন ভিক্ষা করেছি। এই ভিক্ষা ছিল মর্যাদার। আমরা কোন রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর খপ্পর থেকে দূরে থাকতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলাম। ইনশাআল্লাহ পেরেছি। আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা আপনাদের মানষিক সমর্থনের জন্য।

অনেকে শুনেছি জুলাইকে বিক্রি করেছে। তাদের ঘৃণা করি।

লেখক :সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও জুলাই আহতদের নিয়ে কাজ করা একজন সৈনিক।

বি.দ্র.- (বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। নিউজজি২৪ডটকম-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers