বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ , ২৮ সফর ১৪৪৮

ফিচার
  >
ইতিহাস ও ঐতিহ্য

প্রযুক্তির যুগে হারিয়ে যাচ্ছে বাংলার ঐতিহ্য কৃষি জমি চাষের উপকরণ কাঠের লাঙল-জোয়াল

মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি ১০ ডিসেম্বর , ২০২৫, ১৬:৫৯:৪১

390
  • প্রযুক্তির যুগে হারিয়ে যাচ্ছে বাংলার ঐতিহ্য কৃষি জমি চাষের উপকরণ কাঠের লাঙল-জোয়াল

মাগুরা: “গরু ও কাঠের লাঙল-জোঁয়াল কাঁদে, কৃষক ছোটে মাঠে। চষা মাটির কাঁচা গন্ধে, প্রাণ ভরে ওঠে”। স্মার্টের যুগে দিনদিন হারিয়ে যাচ্ছে বাঙালির চিরচেনা ঐতিহ্য ও জমি চাষের জন্য ব্যবহৃত অন্যতম উপকরণ হালের গরু এবং কাঠের লাঙল-জোয়াল। এক সময় বিভিন্ন এলাকার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে চাষাবাদের অন্যতম উপকরণ হিসেবে কাঠের লাঙলের ব্যবহার ছিল চোখে পড়ার মতো।

কৃষক হালের বলদ আর লাঙল-জায়াল নিয়ে মাঠে ছুটে যাওয়া বা ফসলি জমি চাষ করার দূশ্য এ প্রজন্মের কাছে এখন শুধুই স্মৃতি। আধুনিকয়তার ছোঁয়ায় বিলুপ্তির পথে প্রায় হাজার বছরের এই ঐতিহ্য। তবু নানা প্রতিকুলতার মাঝেও ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করে চলেছেন কিছু কৃষি পরিবার।

জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকার যে পরিবারগুলো এ পেশাকে অবলম্বন করে জীবিকা নির্বাহ করত তাদের অনেকেই এখন এ পেশা ছেড়ে দিয়ে ঝুঁকে পড়েছেন অন্য পেশায়। তাই লাঙল-জোয়াল তৈরি করতে কামারের বাড়ি কৃষকদের অপেক্ষা আর সেই অতীতের ঠক ঠক শব্দ এখন কানে আসে না।

তারপরেও শত প্রতিকূলতার মধ্যেও এলাকার অনেকেই বাঙালির গ্রামীণ সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যকে লালন করার চেষ্টা করে। তারই ধারাবাহিকতায় মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার কিছু কৃষি পরিবার হাজার বছরের এ ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করে চলেছেন।

কালের পরিক্রমায় গ্রাম-বাংলার হাজার বছরের প্রচীন ঐতিহ্য কাঠের হাতল ও লোহার ফাল বিশিষ্ট লাঙল আজ বিলুপ্তির পথে। বিজ্ঞানের যুগে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় কলের লাঙল সেই স্থান দখল করে নিয়েছে। তাই দিনে দিনে হারিয়ে যেতে বসেছে কাঠের লাঙল, মই ও হালের বলদ। ক্ষেতে খামারে কৃষকের লাঙল ও মই দিয়ে জমি চাষের দৃশ্য সবার নজর কাড়ত দেড় যুগ আগেও। গরু ও লাঙল-জোয়াল দিয়ে ফসলি জমি চাষ করা, জমির আয়লে বসে কাঁচা মরিচ পিয়াজ দিয়ে পান্তা ভাত খাওয়ার সেই দৃশ্য প্রায় চোখের আড়ালে।

দেড়যুগ আগেও দেখা যেত গ্রামের কৃষক কাকডাকা ভোরে ঘাড়ে লাঙল-জোয়াল ও মই রেখে হাতে পাচুনি লাঠি দিয়ে গরু শাসন করে ছুটে চলেছে মাঠপানে। চাষ শেষ হতে না হতেই বউয়ের হাতের কাঁচা মরিচ-পিঁয়াজ দিয়ে নিয়ে আসা সকালের পান্তাভাত কর্দমাক্ত শরীরে ক্ষেতের আইলে বসেই খেয়ে নিয়েছে কৃষক। বিশ্রাম শেষে ঠাই ঠাই শব্দে আবার জমি চাষ শুরু করেছে।

অনেক সময় দেখা যেত নিজের সন্তানকে মইয়ে বসিয়ে চাষাবাদের জমি সমান করতে। তবে গ্রামের কিছু প্রান্তিক কৃষি পরিবারের মধ্যে এখনো টিকে রয়েছে হালের বলদ ও কাঠের লাঙল-জোয়াল। বাঁচিয়ে রেখেছে হাজার বছরের এ ঐতিহ্য। কিন্তু তা সামান্য। প্রযুক্তির যুগে আধুনিক যান্ত্রিক যন্ত্র পাওয়ার টিলার ও ট্রাক্টর গ্রামাঞ্চলের প্রতিটি মাঠে জমির চাষের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। আর কৃষকও ঝুঁকে পড়ছে এ কলের লাঙলের দিকে। কারণ অল্প সময়ের মধ্যে অধিক জমি চাষ দেয়া যায় এই যন্ত্রের মাধ্যমে। তবে কাঠের লাঙলের চাষ, কলের লাঙলের চাষের থেকে যে ভালো, তা জানা যায় এলাকার কজন বৃদ্ধ কৃষকের সাথে আলাপকালে।

উপজেলা সদরের ধোয়াইল গ্রামের কৃষক কামেল মোল্যা বলেন, বাপ-দাদার আমল থেকে দেখেছি হালের বলদের ঘাড়ে জোয়াল দিয়ে তার সাথে কাঠের লাঙল বেঁধে কৃষি জমি চাষ করতে। পরবর্তীতে আমরাও করছি। শুধু তাই নয় নিজেদের জমি চাষ করে অন্যের জমিতেও চাষ দিয়ে অর্থ উপার্জন করেছি। আবার অনেকেই শুধু অন্যের জমি চাষ করেই সংসার চালিয়েছেন। তবে এই কলের লাঙলের যুগে অনেক কষ্টে এখনো আমি ধরে রেখেছি হালের বলদ, কাঠের লাঙল-জোয়াল ও মই।

নিউজজি/নাসি 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers