বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ , ২৮ সফর ১৪৪৮

ফিচার
  >
ইতিহাস ও ঐতিহ্য

১২ হাজার বছরের পুরোনো সভ্যতার অস্তিত্ব সৌদিতে

নিউজজি ডেস্ক ২০ মে , ২০২৬, ১৯:২৩:১৭

227
  • ১২ হাজার বছরের পুরোনো সভ্যতার অস্তিত্ব সৌদিতে

সাহুত শিলাচিত্র ও প্রত্নতত্ত্ব প্রকল্প সৌদি আরবের উত্তরাঞ্চলের নেফুদ মরুভূমিতে প্রায় ১২ হাজার বছরের পুরোনো শিলাচিত্রের (রক আর্ট) সন্ধান পেয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিকেরা। পৃথিবীর অন্যতম শুষ্ক এই অঞ্চলের খাড়া পাথরের গায়ে খোদাই করা এসব চিত্র প্রাগৈতিহাসিক যুগের এক হারিয়ে যাওয়া মানব সভ্যতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ‘নেচার কমিউনিকেশনস’ সাময়িকীতে এই গবেষণার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষকেরা জানান, নেফুদ মরুভূমির দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত জেবেল আরনান, জেবেল মলেইহা এবং জেবেল মিসমা—এই তিনটি অঞ্চলের ৬০টিরও বেশি খাড়া পাথরে খোদাই করা চিত্রের সন্ধান মিলেছে। কোনো কোনো পাথরে একাধিক চিত্র একসঙ্গে খোদাই করা রয়েছে। সব মিলিয়ে এমন ১৭৬টি প্রাচীন চিত্র শনাক্ত করা গেছে। ড্রোন প্রযুক্তির সাহায্যে ওপরের ঢালে থাকা চিত্রগুলোর ছবি তুলেছেন গবেষকেরা। এসব শিলাচিত্রে উট, ঘোড়াজাতীয় প্রাণী এবং মানুষের অবয়ব খোদাই করার চেষ্টা দেখা গেছে।

এর আগে এই মরুভূমিতে নব্যপ্রস্তর যুগের প্রায় ৮ হাজার বছরের পুরোনো কিছু শিলাচিত্র পাওয়া গিয়েছিল। তবে নতুন আবিষ্কৃত চিত্রগুলো আরও অনেক প্রাচীন। গবেষকদের মতে, এগুলো ১১,৪০০ থেকে ১২,৮০০ বছর আগের এবং বিভিন্ন দফায় খোদাই করা হয়েছিল।

বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, আজ থেকে প্রায় ১৯-২৬ হাজার বছর আগে পৃথিবীর তাপমাত্রা নাটকীয়ভাবে কমে যায়। সেই হিমশীতল সময়ে নেফুদ মরুভূমিতে মানুষের অস্তিত্বের কোনো হাড়গোড় বা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এত দিন মেলেনি। ফলে এই দীর্ঘ সময়কে ইতিহাসের একটি ‘অন্ধকার সময়কাল’ হিসেবে ধরা হতো। নতুন আবিষ্কৃত এই শিলাচিত্রগুলো সেই ১৫ হাজার বছরের শূন্যতা পূরণ করে মানুষের উপস্থিতির অকাট্য প্রমাণ হাজির করেছে।

সৌদি আরবের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের হেরিটেজ কমিশনের নেতৃত্বে ‘গ্রিন আরাবিয়া প্রজেক্ট’ নামের এই প্রত্নতাত্ত্বিক অভিযানটি পরিচালিত হয়। এই আন্তর্জাতিক অনুসন্ধান দলে যুক্ত ছিলেন জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট অব জিওঅ্যানথ্রোপোলজি, কিং আবদুল্লাহ ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনসহ (ইউসিএল) বিভিন্ন নামী প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞরা।

গবেষকদের অনুমান, আদিম যুগের মানুষেরা যখন এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করত, তখন দিক বা পথ চেনার জন্য এই খাড়া পাথরগুলোকে বেছে নিয়েছিল। ১২ হাজার বছর আগে জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে মরুভূমির কিছু কিছু জায়গায় মরুদ্যান বা জলাশয় তৈরি হয়েছিল। যাযাবর মানুষেরা সম্ভবত জলের উৎস কিংবা নিজেদের যাতায়াতের পথ চিহ্নিত করতেই খাড়া পাথরের গায়ে এসব চিত্র খোদাই করে রাখত। খাড়া পাহাড়ের ঢালে উঠে নিখুঁতভাবে এসব ছবি আঁকার কৌশল প্রাচীন মানুষের মনোবল ও কারিগরি দক্ষতার এক অনন্য নজির।

নিউজজি/নাসি

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers