মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ , ৫ শাওয়াল ১৪৪২

ফিচার
  >
ইতিহাস ও ঐতিহ্য

১৪ ভাষা বিলুপ্তির পথে

নিউজজি ডেস্ক ২১ ফেব্রুয়ারি , ২০২১, ১১:২৮:০০

  • ছবি : সংগ্রহ

ঢাকা: দেশে বিপন্ন হওয়ার পথে ১৪টি ভাষা। এসব ভাষায় কথা বলা মানুষের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট। বেশিরভাগ ভাষার বর্ণমালা নেই বলেও এগুলো সংরক্ষণও করা যাচ্ছে না বলে জানায় ইনস্টিটিউট।

বান্দরবানের ক্রান্সিপাড়ায় ৭টি রেংমিটচা পরিবার এখনো টিকে আছে। যাদের ভাষার নামও রেংমিটচা। তবে অপ্রচলিত এ ভাষায় কথা বলতে পারা মানুষ বেঁচে আছেন মাত্র ৬ জন। তাদের বেশিরভাগই বয়সে প্রবীণ। ভাষাটি সংরক্ষণ করা না হলে এই ৬ জন মানুষের বিদায়ের সাথে সাথে পৃথিবী থেকে মুছে যাবে একটি ভাষার ইতিহাস।

যুক্তরাষ্ট্রের ডার্টমাউথ কলেজের ভাষাবজ্ঞিান বিভাগের অধ্যাপক ডেভিড এ পিটারসন জানায়, একটি ভাষার সাথে জড়িয়ে থাকে একটি জনগোষ্ঠীর ইতিহাস ও সংস্কৃতি।

আন্তজার্তিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালেও রেংমিটচা ভাষা জানা মানুষের সংখ্যা ছিলো ৪১ জন। এ ভাষার মতোই এদেশ থেকে আরো ১৩টি ভাষা বিপন্ন হওয়ার পথে। এর মধ্যে রয়েছে খাড়িয়া, সৌরা, কোডা, মুন্ডারি, কোল, মালতো, কন্দ, খুমি, পাংখোয়া, চাক, খিয়াং, লালেং এবং লুসাই।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক জীনাত ইমতিয়াজ আলী জানায়, বেশিরভাগ ভাষার বর্ণমালা না থাকায় সংরক্ষণ করাটাও কঠিন।

দেশে বাংলাসহ ৪১টি ভাষা আছে। এর মধ্যে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ৩৩টি। জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা-ইউনেস্কো মতে, পৃথিবীতে কোনো ভাষায় যদি কথা বলা লোকের পরিমাণ পাঁচ হাজারের কম হয় তবে তা বিপন্ন ভাষা হিসেবে স্বীকৃত হবে। এই হিসেবে বাংলাদেশে বিপন্ন ভাষার পরিমাণ ১৪টি।

১৯৯৯ সালে একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে জাতিসংঘের স্বীকৃতি পায়। এরপর উদ্যোগ নিলেও প্রায় এক দশক পর ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট। প্রতিষ্ঠানটির প্রথম বড় উদ্যোগ হিসেবে বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অবস্থান ও ভাষা-পরিস্থিতির তথ্য অনুসন্ধানের জন্য একটি কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। ‘বাংলাদেশের নৃভাষাবৈজ্ঞানিক সমীক্ষা’ শীর্ষক এই কর্মসূচি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. মো. সাইফুর রশীদ ও হাসান এ শফি এবং ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক সৌরভ সিকদারের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। তিন কোটি ৮৯ লাখ ৪৩ হাজার টাকা ব্যয়ে ২০১৪ ও ২০১৫ সালে সারা দেশে মাঠ পর্যায়ে সমীক্ষাটি চালানো হয়। ওই সমীক্ষায় নিজস্ব মাতৃভাষা আছে এমন ৪১টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর তথ্য-উপাত্ত সংগৃহীত হয়।

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers