মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ , ৫ শাওয়াল ১৪৪২

ফিচার
  >
ইতিহাস ও ঐতিহ্য

৬৬ থেকেই পূর্ববঙ্গকে বিচ্ছিন্ন করতে চেয়েছিল মুজিব- ভুট্টো

নিউজজি ডেস্ক ৩০ মার্চ , ২০২১, ১১:১৫:৩৩

  • ছবি: নিউজজি২৪

ঢাকা: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর বছর ছিল ২০২০। তাঁর শততম জন্মবার্ষিকীর দিন, ১৭ই মার্চ থেকে শুরু হয়েছে মুজিববর্ষ উদযাপন, যা চলছে এই স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর বছরও। স্বাধীন বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু একাত্মা। তিনিই একাত্তরের ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তাঁর ডাকেই মানুষ স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল। 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ঢাকায় যে যুদ্ধ শুরু হয় তা ধীরে ধীরে সমগ্র বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৭১ সালের ৩০শে মার্চ, পাকিস্তানী বাহিনীর বোমার আঘাতে চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতারের ট্রান্সমিটারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অবশেষে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দ যোদ্ধারা একটি এক কিলোওয়াট ট্রন্সমিটার স্থাপন করে পার্বত্য চট্টগ্রামের রামগড়ে। পরে সেখান থেকে স্থানান্তর করে ভারতের আগরতলায়। 

এদিন, রাজশাহীর গোপালপুর রেলক্রসিংয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও জনতার সাথে পাকিস্তানী বাহিনীর লড়াইয়ে ৬টি ট্রাক একটি জীপসহ বিপুল অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তানী সৈন্যদল সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। পাকিস্তানের সৈন্যদলের অধিনায়ক মেজর রাজা আসলাম নিহত হন। ঝিনাইদহে বাঙালি মেজর আবু ওসমানের নেতৃত্বে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর যুদ্ধে নিহত হয় ২৫৬জন পাকিস্তানী সেনা।

একাত্তরের এদিন, চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা এন আর সিদ্দিকী, জহুর আহমেদ চৌধুরী, আতাউর রহমান খান এবং আব্দুল­াহ আল হারুণ সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের আগরতলা পৌঁছান। আগরতলার মুখ্যমন্ত্রী শচীন সেনগুপ্তের কাছে অস্ত্র দিয়ে সহায়তা চাইলে তিনি ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সাথে যোগাযোগ করেন এবং আলোচনার জন্য বাংলাদেশি প্রতিনিধি দলটির দিল্লী যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। 

একাত্তরের ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর গণহত্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক পত্রিকা ডেইলি টেলিগ্রাফে সাংবাদিক সায়মন ড্রিংয়ের প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় ৩০শে মার্চ। সেখানে সায়মন লেখেন, “ঐক্যবদ্ধ পাকিস্তানের নামে ঢাকাকে একটি বিদ্ধস্ত ও ভীত সন্ত্রস্ত নগরে পরিণত করা হয়েছে। চব্বিশ ঘন্টায় নির্মম নিষ্ঠুর শেলিংয়ের দ্বারা পাক-সেনাবাহিনী অন্তত সাত হাজার লোককে হত্যা করেছে। ইয়াহিয়া খান পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা আন্দোলনের সমাপ্তি করতে চেয়েছে। সামরিক সরকার দাবী করেছে অবস্থা শান্ত কিন্তু দেখা যাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ গ্রামাঞ্চলে পালিয়ে যাচ্ছে, শহরগুলো ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। প্রদেশের নানা জায়গায় চলছে হত্যাযজ্ঞ, মফস্বলের খবরগুলো যতদূর পাওয়া যায় তাতে মনে হয় অন্তত ১৫ হাজার লোক নিষ্ঠুর ভাবে হত্যার শিকার হয়েছে ওই রাতে।” (সূত্রঃ ডেইলি টেলিগ্রাফ) 

সায়মন ড্রিংয়ের এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিশ্ববাসী জানতে পারে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষিত বাংলাদেশে পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীর নারকীয়তার খবর। 

একাত্তরের এদিন, পাকিস্তানে সাংবাদিকদেরকে দেয়া সাক্ষাতকারে বাঙ্গালি বিরোধী পাকিস্তান পিপলস পার্টির প্রধান জুলফিকার আলী ভুট্টো সত্তর সালের নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগ প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গ্রেফতারের প্রসঙ্গে বলেন, “শেখ মুজিব ১৯৬৬ সাল থেকে পূর্ববঙ্গকে বিচ্ছিন্ন করতে চেয়েছিল। ২৫শে মার্চ পাকবাহিনীর অপারেশন সার্চ লাইট পাকিস্তানকে রক্ষা করেছে।” (সূত্রঃ ঢাকা মর্নিং নিউজ)

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers