মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ , ৫ শাওয়াল ১৪৪২

ফিচার
  >
ইতিহাস ও ঐতিহ্য

লালপুরে “ময়না যুদ্ধ দিবস” আজ

অধ্যাপক সহিদুল ইসলাম, লালপুর (নাটোর) থেকে ৩০ মার্চ , ২০২১, ১১:৩০:২৪

  • ছবি: নিউজজি২৪

নাটোর: আজ ৩০ মার্চ লালপুর উপজেলার ময়না যুদ্ধ দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক-হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে গিয়ে অন্তত: ৩৫ জন বাঙ্গালী জনতা শহীদ হন। মুক্তি পাগল জনতা, ই.পি.আর ও আনসার বাহিনীর হাতে পর্যুদস্ত হয়ে পাক-বাহিনীর ২৫ রেজিমেন্ট ধবংশ প্রাপ্ত হয়।

প্রকাশ, ঐ দিন সকালে পাক হানাদার বাহিনীর ২৫ রেজিমেন্টের সদস্যরা পাবনা মিলিটারী ক্যাম্প থেকে ৩টি জিপ ও ৬টি ট্রাকের বহর নিয়ে নাটোর হয়ে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পাবনার দাশুড়িয়াতে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে তারা উত্তর দিকে গ্রামের কাঁচা রাস্তায় ঢুকে পড়ে এবং গোয়াল বাথান হয়ে মুলাডুলি গ্রামের মধ্য দিয়ে আবারও পাবনা- ঈশ্বরদী সড়কে উঠে। সেখানে তারা অসংখ্য কাঠের গুড়ি দিয়ে তৈরি বেরিকেডের সম্মুখিন হয়।

অত:পর তারা নিরূপায় হয়ে পাকা সড়কের পশ্চিম দিকে পুনরায় কাঁচা রাস্তায় ঢুকে পড়ে এবং লালপুরের মাঝগ্রামে ঈশ্বরদী-সিরাজগঞ্জ রেল লাইন পার হয়ে টিটিয়া গ্রামের মধ্য দিয়ে চাঁদপুর গিয়ে পশ্চিম দিকে ‘মনির উদ্দিন আকন্দ’ রোড দিয়ে গোপালপুর অভিমুখে রওনা হয়। ঐ সময় যার যা আছে, তাই নিয়ে হাজার হাজার মুক্তি পাগল মানুষ তাদেরকে ধাওয়া করে। গোপালপুর রেল গেটের রেল লাইনের উপর ওয়াগন দ্বারা সৃষ্ট বেরিকেডে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে সশস্ত্র ক্ষিপ্ত পাক সেনারা ধবংশ যজ্ঞ চালায় এক দফা। রেল লাইন পেরিয়ে ওপারে যেতে ব্যর্থ হয়ে তারা আবার ফেরত যায় একই রাস্তায়। কিন্তু ইতোমধ্যেই বিক্ষুদ্ধ জনতা বিজয়পুর-বামনগ্রাম সীমান্তে ইছামতি নদীর উপর নির্মিত ব্রীজের সামনে রাস্তায় খাল কেটে বেরিকেড সৃষ্টি করেছিল।

উপায়ন্তর না দেখে পাকা সেনারা ব্রীজের উত্তর দিক দিয়ে শুকিয়ে যাওয়া ইছামতি নদী বরাবর গিয়ে খলিসাডাঙ্গা নদী পার হয়ে ওপারে ময়না গ্রামের নওয়াব আলী মোল্লা ও সৈয়দ আলী মোল্লার বাড়ীতে ঘাটি স্থাপন করে। পিছনে ধেয়ে আসা গ্রাম্য গৃহস্থালীর অস্ত্রে সজ্জিত হাজার হাজার জনতা, ই.পি.আর. এবং আনসার বাহিনী পাক-হানাদার বাহিনীকে চারদিক দিয়ে ঘিরে ফেলে। পরের দিন সকালে বিভিন্ন স্থানে ছদ্মবেশে লুকিয়ে থাকা হানাদার বাহিনীর সদস্যসহ বাহিনীর নেতৃত্বদানকারী মেজর জেনারেল আসলাম হোসেন খান ওরফে রাজা খান বাঙ্গালীদের সম্মিলিক বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে এবং ক্ষিপ্ত জনতা নানাভাবে তাদেরকে হত্যা করে।

পাক হানাদার বাহিনীর হাতে ৩০ মার্চ যারা শহিদ হয়েছিলেন তারা হলেন- ময়না গ্রামের সৈয়দ আলী মোল্লা, শিক্ষক মসলেম মোল্লা, আবুল কাশেম, আয়েজ উদ্দিন, খন্দকার নুর নবী মন্টু, নান্দো গ্রামের কিয়ামত আলী শেখ, ওয়ালিয়ার বক্স সরদার, করম আলী, পানঘাটা গ্রামের আবেদন আলী, ডা. নাদের হোসেন, খোরশেদ সরদার, ধুপইল গ্রামের আবুল কালাম আজাদ, টিটিয়ার আব্দুস কুদ্দুস, কালু মিয়া, বামন গ্রামের সেকেন্দার আলী, বিজয়পুর গ্রামের আছেন উদ্দিন, ভবানীপুরের জয়নাল আবেদীন ও চেরু প্রামানিক, চাঁদপুরের আয়ুব আলী, দুয়ারিয়ার ভবেশ চন্দ্র বিশ্বাস এবং বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নাম না জানা আরো অনেকে। শহিদদের স্মরণে ১৯৯৮ সালে ময়না গ্রামে নির্মিত হয়েছে ‘স্মৃতিসৌধ’। 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers