রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ , ২৮ জিলহজ ১৪৪৭

ফিচার
  >
মানচিত্র

মালয়েশিয়ার স্বাধীনতা দিবস আজ

নিউজজি ডেস্ক ৩১ আগস্ট , ২০২৩, ১৬:৩৮:৩২

853
  • ছবি: ইন্টারনেট

ঢাকা: ১৯৫৭ সালের ৩১ আগস্ট ব্রিটিশদের কাছ থেকে  স্বাধীনতা অর্জন করে দেশটি।  মালয়েশিয়ার ইতিহাসে শ্রেষ্ঠতম গৌরব ও অহংকারের দিন আজ।

প্রতি বছর দিবসটি উদযাপনে প্রশাসনের পাশাপাশি জন সাধারণের মাঝেও দেখা যায় ব্যাপক প্রস্তুতি। রাজধানী কুয়ালালামপুর শহরসহ রাজ্যে রাজ্যে ছেয়ে গেছে জাতীয় পতাকা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দিয়ে থাকে নানান অফার।  করোনা মহামারীর প্রভাবে নানান বিধি নিষেধ আরোপ করা হলেও এ দিবসের উৎসবের কোন কমতি দেখা যাচ্ছে না।

আশিয়ান এর প্রাণকেন্দ্র মালয়েশিয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দেশ।  যার মোট আয়তন ৩,৩০,০০০ বর্গকিলোমিটার। মোট ১৩ টি প্রদেশ এবং তিনটি প্রশাসনিক অঞ্চল আছে। জনসংখ্যা ৩২.৭ মিলিয়ন। মাথা পিছু আয় ১২১৫০ মার্কিন ডলার।

২০২০ সালে উন্নত রাষ্ট্র ঘোষণা করার টার্গেট অর্জন করতে সক্ষম না হলেও ২০৩০ সালে উন্নত রাষ্ট্র ঘোষণা করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। চীন, সিঙ্গাপুর, ব্রুনেই, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন  এবং থাইল্যান্ড  এর জল ও স্থল সীমান্ত ঘেরা মালয়েশিয়ার আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রয়েছে শক্তিশালী অবস্থান।

পর্যটকদের প্রথম পছন্দের দেশ মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর বিশ্বের সেরা কসমোপলিটন সিটি। মালয়েশিয়ার সরকারি ভাষা মালয় হলেও চাইনিজ ও তামিল ভাষার প্রাধান্য স্বীকৃত। সকলে ইংরেজিতে কথা বলতে পারে।

সাংবিধানিক রাজা দেশটির প্রধান হলেও সরকার প্রধান নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও নির্বাচিত সংসদ আছে। প্রাদেশিক সরকার আছে এবং রাজা নির্বাচিত হয় প্রাদেশিক সুলতানদের মধ্য থেকে যা মালয়েশিয়ার ঐক্যকে করেছে সমৃদ্ধ। রাজা মালয়েশিয়ার জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। মালয়েশিয়া মুসলিম দেশ হলেও এখানে চাইনিজ মালয়েশিয়ান এবং ইন্ডিয়ান মালয়েশিয়ান যার অধিকাংশই খ্রিস্টান ও হিন্দু ধর্মাবলম্বী। ধর্মীয় সম্প্রীতি মালয়েশিয়ার অন্যতম বৈশিষ্ট্য দান করেছে। শ্রম, সেকেন্ড হোম বা বাণিজ্যিক কারণে মালয়েশিয়ায় অনেক অভিবাসী রয়েছে।

মালয়েশিয়ার অর্থনীতি অপেক্ষাকৃত মুক্ত। গত ৩৩ বছরে দেশটির অর্থনীতিতে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে মালয়েশিয়া একটি উঠতি শিল্প উন্নত বাজার অর্থনীতি বলে বিবেচিত। বিভিন্ন অর্থনৈতিক পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশটির অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। শতভাগ কর্মসংস্থান থাকলেও করোনা পরিস্থিতিতে বেকারত্ব বেড়ে গেছে। মালয়েশিয়া ব্যাপকভাবে ঘুরে দাঁড়াবে বলে বিশ্ব ব্যাংক ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা আভাস দিয়েছে।  ইতোমধ্যে করোনা কালে সরকার ৪ টি বিশেষ অর্থনৈতিক প্যাকেজ দিয়েছে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করছে ক্রমশ:। পর্যটন শক্তিশালী অর্থনৈতিক খাত হলেও করোনা কারণে এখন কোন পর্যটক মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করতে পারছে না। মেডিকেল পর্যটন রয়েছে মালয়েশিয়ার। 

মানব সম্পদ উন্নয়ন করতে মালয়েশিয়া বদ্ধপরিকর। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড রক্ষা করতে ইতোমধ্যে কর্মীদের কল্যাণে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বেতন ভাতা বৃদ্ধি বীমা সহ নিরাপত্তা ও বিদেশি কর্মীদের ক্ষেত্রে শূন্য অভিবাসন এর দিকে ধাবিত হবার লক্ষণ স্পষ্ট । কারিগরি শিক্ষায় সব থেকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। দেশীয় শিক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মালয়েশিয়া ক্যাম্পাস করেছে ফলে অনেক বিদেশি শিক্ষার্থী আছে। চিকিৎসা শিক্ষায় অনেক উন্নতি করেছে।

বর্তমান জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তানশ্রী মহিউদ্দিন ইয়াসিন। এখানে রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে প্রতিযোগিতার আছে। ক্ষমতার পালাবদল থাকলেও মালয়েশিয়ার উন্নয়নে ধারাবাহিকতা চলে আসছে।

মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে এবং এই অঞ্চলের মধ্যে মালয়েশিয়াই সর্বপ্রথম ১৯৭২ সালের ৩১ জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে বিদ্যমান দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্কের যাত্রা তখন থেকেই। এরপর ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মালয়েশিয়া সফরে গেলে দু’দেশের সম্পর্ক আরো মজবুত ভিত্তিতে দাঁড়াতে সক্ষম হয়।

১৯৭৬ সালে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশী কর্মী আসতে শুরু করে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে সাথে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ করে শ্রম, শিক্ষা, সামরিক, সাংস্কৃতিক এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সম্পর্কের ভিত্তি শক্তিশালী হয়েছে।

নিউজজি/এস দত্ত

 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers