রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ , ২৪ সফর ১৪৪৮

ফিচার
  >
পাঠক বিভাগ

কার্যকর সংবিধান প্রস্তুত করতে গিয়ে দুই-একটা গোষ্ঠীর মতামতই কি সমগ্র জনগণের মতামত বলে চাপানো হবে; নাকি জনগণের কাছে তাদের মতামত জানতে চাওয়া হবে?

ফজলে রাব্বি ২৯ সেপ্টেম্বর , ২০২৪, ১৭:৫৮:০১

12
  • কার্যকর সংবিধান প্রস্তুত করতে গিয়ে দুই-একটা গোষ্ঠীর মতামতই কি সমগ্র জনগণের মতামত বলে চাপানো হবে; নাকি জনগণের কাছে তাদের মতামত জানতে চাওয়া হবে?

আমরা অনেকেই জানি বিখ্যাত লেখক জর্জ অরওয়েলের একটি উপন্যাস আছে, “১৯৮৪” নামে। উপন্যাসে এমন এক কাল্পনিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখানো হয় বর্তমানে নেই। যেমন “সোনার বাংলা” টাইপ। তো স্বপ্ন দেখালে দোষ কী? স্বপ্ন তো ভালো জিনিস, তাই না? লেখক অরওয়েল এই উপন্যাসে দেখাচ্ছেন এই ধরনের কথিত স্বপ্ন দেখাতে গিয়ে একটি গোষ্ঠী, দল বা সরকার মূলত জনগণের বর্তমান সময়ের অধিকার হরণ করে, সমাজে চরম বৈষম্য সৃষ্টি করে এবং ক্যাঙ্গারু কোর্ট তৈরি করে, যেখানে ন্যায়বিচারের নামে মূলত গোষ্ঠী, দল বা সরকারি পছন্দ অপছন্দের ভিত্তিতে বিচার হয়।

জর্জ অরওয়েল আরও বলেন, সরকার এই ধরনের মতবাদ প্রচারে প্রপাগান্ডা চালায়। দেশের উন্নয়ন হচ্ছে, জিডিপি বৃদ্ধি পাচ্ছে, মাথাপিছু আয় বাড়ছে, দেশে এখন আর না খেয়ে কেউ মারা যায় না প্রভৃতি বক্তব্য শোনা যায়।

ফ্যাসিবাদী সরকার আর কী করে? জনগণের মতামতের ওপর সেন্সর বসায়। জনগণ কী বলবে, আর কী বলবে না তা সরকার ঠিক করে দেয়। যেমন ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট, সংবিধানে লেখা থাকবে জনগণের স্বাধীনভাবে কথা বলার অধিকার আছে তবে, কিন্তু সহ নানা শর্ত সাপেক্ষে।

এই ভাবেই অরওয়েলের “শান্তিপূর্ণ” রাষ্ট্র পরিচালিত হয় একটি দলীয় সরকার দ্বারা। যেই দল পরিচালনা করে বড় ভাই নামক এক বা একাধিক মানুষ রূপী পশু। এরা শুধু স্বপ্নের কথা বলে শোষণ চালায় না; বরং ইতিহাসও বদলে ফেলে। ফ্যাসীবাদী ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে তৈরি করে একদল গর্তজীবী তথা বুদ্ধিজীবী।

জর্জ অরওয়েল উপন্যাসে বলছেন, ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী বা সরকার জনগণের মধ্যে নানাভাবে বিভেদ সৃষ্টি করে। শত্রু তৈরি করে। মুক্তিযোদ্ধা-রাজাকার, উন্নয়নের পক্ষ-বিপক্ষ সহ নানা ট্যাগ দিতে থাকে। শুধু যে চিন্তা প্রকাশের জন্য শাস্তি দেয় তাই নয়। দলের বিরুদ্ধে চিন্তা করলেও তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। যেই অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

আপনার কাছে কি এই উপন্যাসের কল্পিত পরিস্থিতিগুলো বাস্তবে দেখেছেন বলে মনে হচ্ছে? মনে হচ্ছে যেন গত ১৫ বছর আমরা এর মধ্য দিয়েই গিয়েছি। কিন্তু আমি বলতে চাই ভবিষ্যৎ নিয়ে। আমরা যে আগামী ১৫ বছর আরেক দুঃস্বপ্নের ভেতর দিয়ে যাব না তার কি গ্যারান্টি আছে! সেটা আমরা কীভাবে নিশ্চিত করব?

ব্রিটিশ আমলে আমরা রক্ত দিয়েছি, ১৯৪৭ এ, ’৫২ তে, ’৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানে, ’৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধে, ৯০ এর গণঅভ্যুত্থানে, ২০২৪ এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে। “বড় ভাই” নামক শোষণকারী শ্রেণি জানে বাংলাদেশের মানুষ রক্ত দিতে পারে, আবু সাঈদের মতো বুক পেতে বুলেটের সামনে দাঁড়াতে পারে। কিন্তু রক্ত দিয়ে বিজয় ছিনিয়ে আনার পর আমরা কি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারি?

জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রথম কাজ হচ্ছে জনগণের কাছে তাদের মতামত জানতে চাওয়া। এখন এই ধরনের জনগণের অংশগ্রহণে রক্তক্ষয়ী বিপ্লবের পরপরই শোষণকারী শ্রেণি লাফ দিয়ে মিডিয়ায় হাজির হয় জনগণের মুখপাত্র হিসেবে। তারা বিশিষ্ট নাগরিক, সুশীল প্রভৃতি নাম ধরে তাদের মতামতকে জনগণের মতামত বলে চালিয়ে দেয়। যেমন, ভারতে ইলিশ রপ্তানির সিদ্ধান্তে বাহবা পেয়েছি।

শোষণকারী শ্রেণি কখনো জনগণকে সমান অধিকারের অধিকারী বলে মনে করে না। এক্ষেত্রে লেখক অরওয়েল চমৎকার একটি কথা তার উপন্যাস এনিমেল ফার্মে লেখেন। দুনিয়ার সব মানুষই সমান, কিন্তু কিছু কিছু মানুষ অন্যদের চেয়ে একটু বেশিই সমান। তার মানে যারা একটু বেশিই সমান তারা বলে দিবে যে যারা একটু কম সমান তারা কী চিন্তা করবে, কী কাজ করবে, কীভাব চলবে। তাহলে জনগণের ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষার চরম প্রকাশ যদি সংবিধান হয় সেটা নিয়েও কি সেই একই মুলা দেখানো হচ্ছে না?

নিউজজি/নাসি

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers