রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ , ২৪ সফর ১৪৪৮

ফিচার
  >
পাঠক বিভাগ

শিক্ষা ও ক্যাম্পাস রাজনীতির সংস্কার: সময়ের দাবি শিক্ষা ব্যবস্থার বিপর্যয়ে শিক্ষার্থী না, তৈরি হচ্ছে বেকার!

আব্দুর রহমান ৮ অক্টোবর , ২০২৪, ১৮:১৪:২৮

289
  • শিক্ষা ও ক্যাম্পাস রাজনীতির সংস্কার: সময়ের দাবি শিক্ষা ব্যবস্থার বিপর্যয়ে শিক্ষার্থী না, তৈরি হচ্ছে বেকার!

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা এবং ক্যাম্পাস রাজনীতি আজ এমন এক সংকটময় মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে দীর্ঘদিনের লেজুড়বৃত্তিক রাজনৈতিক প্রভাবকে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শিক্ষা এবং রাজনীতি দুটি পৃথক ক্ষেত্র হলেও, আমাদের দেশে শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতির অনুপ্রবেশ অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করেছে। শিক্ষাব্যবস্থা ও ক্যাম্পাস রাজনীতি, উভয়ের সঠিক সংস্কার ছাড়া ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব নয়।

শিক্ষা এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে সমাজ, দেশ এবং বিশ্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। অন্যদিকে, রাজনীতি নেতৃত্বের বিকাশের একটি ক্ষেত্র, যেখানে ভবিষ্যতের নেতারা নিজেদের নেতৃত্বের গুণাবলির বিকাশ ঘটিয়ে রাষ্ট্রের সেবা করতে প্রস্তুত হন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমাদের দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক প্রভাব এতটাই বিস্তৃত যে, তা শিক্ষার পরিবেশকে ব্যাহত করছে।

বিগত দশকে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা যেভাবে পরিচালিত হয়েছে, তাতে শিক্ষার গুণগত মান রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। শিক্ষার্থীরা শতভাগ সার্টিফিকেট অর্জন করলেও তাদের মধ্যে জ্ঞান ও দক্ষতার ঘাটতি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে। এর ফলে আজকের সমাজে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। নতুন কারিকুলাম ও পরীক্ষার পদ্ধতির পরিবর্তন শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে চাকরির বাজারে।

অন্যদিকে, ক্যাম্পাস রাজনীতিতে লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে বিরাজমান। হল দখল, সিট বাণিজ্য, ছাত্র নির্যাতন এবং জোরপূর্বক দলীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাস রাজনীতিকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা যৌক্তিক সমাধান নয়, বরং এর প্রয়োজন সংস্কার। কারণ, ছাত্র রাজনীতিই ভবিষ্যতের যোগ্যনেতৃত্ব গড়ে তোলে। ছাত্র রাজনীতিতে শিক্ষার্থীরা নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন করলেও বর্তমানের অপরাধপ্রবণ রাজনীতি সেই সম্ভাবনাকে ধ্বংস করছে।

ক্যাম্পাস রাজনীতিতে স্বচ্ছতা আনতে হলে অবশ্যই লেজুড়বৃত্তিক প্রভাব দূর করতে হবে। রাজনৈতিক কার্যক্রমের নামে শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো রকম চাপ প্রয়োগ করা যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের ক্ষমতা প্রদান করতে হবে, যাতে কোনো রাজনৈতিক দল প্রশাসনের কাজে হস্তক্ষেপ করতে না পারে।

অপরাধ সংঘটিত হলে সুষ্ঠু জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সামনে শিক্ষা ও রাজনীতির সংস্কার একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। নতুন শিক্ষাবান্ধব কারিকুলাম তৈরি এবং শিক্ষাঙ্গনে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা এই সরকারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। শিক্ষার পরিবেশ যদি সুস্থ এবং রাজনীতি যদি স্বচ্ছ হয়, তবেই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ সুশিক্ষিত ও যোগ্য নেতৃত্বের হাতে পরিচালিত হবে।

আমাদের দেশের কেউই আর দেখতে চায় না, সাধারণ শিক্ষার্থীরা রাজনীতির বলি হয়ে প্রাণ হারাক। তাই, সময় এসেছে ক্যাম্পাস রাজনীতি ও শিক্ষা ব্যবস্থায় যুগোপযোগী সংস্কার আনার। তাহলেই সম্ভব হবে একটি শিক্ষাবান্ধব, রাজনৈতিকভাবে সচেতন কিন্তু অপরাধমুক্ত শিক্ষাঙ্গন গড়ে তোলা।

লেখক: সম্পাদক, মাসিক সাহিত্যপাতা।

নিউজজি/নাসি

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers