বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ , ১ মুহররম ১৪৪৮

ফিচার
  >
পাঠক বিভাগ

বেইলি রোডের আড্ডা

আশীর আল মাহিন ১১ নভেম্বর , ২০২৪, ১৫:১৪:৩৫

893
  • বেইলি রোডের আড্ডা

ঢাকা: মানুষ সামাজিক জীব দলবদ্ধভাবে থাকতে পছন্দ করে। আর দলবদ্ধ থেকে খোশগল্পে মজে ওঠার নামই আড্ডা। আড্ডা মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আড্ডা মানে শুধু কয়েকজন বসে বকবক করাই নয়। আড্ডা থেকে অনেকেই প্রাণশক্তি পান। এতে উঠে আসে সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, দৈনন্দিন জীবনের নানান গল্প। রাজনীতি থেকে শুরু করে কূটনীতি সব কিছুই এ তালিকার অন্তর্ভুক্ত।

অনেকেই বলে শেয়ার করলে নাকি দুঃখ কমে। কথাটি সত্য হোক বা মিথ্যা আড্ডার মাধ্যমে মানুষের চিন্তা চেতনার পরিবর্তন আসে, মানুষ নতুনভাবে ভাবতে শিখে, নিজেকে নিজে আবিষ্কার করে নতুনভাবে।

আড্ডা তো অনেক জায়গায়ই দেয়া যায়। কিন্তু একেক জনের আড্ডা দেয়ার পছন্দ একেক জায়গায় হতে পারে। তেমনিভাবে বেইলি রোডের আড্ডা ঢাকার মানুষের মাঝে এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে। একদিকে দেশি-বিদেশি সব রেস্তোরাঁ অন্যদিকে ছায়াঘেরা অফিসার্স ক্লাবের ফুটপাত। আড্ডা দেয়ার ক্ষেত্রে তাই বেইলি রোডের জুড়ি মেলা ভার। দুপুরের পর থেকেই এসব স্পটে তাই ইয়ার-দোস্ত, প্রেমিক-প্রেমিকাদের আনাগোনা শুধু হয়। সিনিয়র সিটিজেনদের আনাগোনাও চোখে পড়ার মতো।

অনেকের মতো স্ত্রী দিলেরা খাতুনকে নিয়ে অফিসার্স ক্লাবের সামনে আড্ডা দিতে এসেছিলেন ইকবাল সাহেব। তারা দুজনেই একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। কথা হলো তাদের সাথে। বেইলি রোডের আড্ডার বিশেষত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলছিলেন, “সময় পেলেই নাকি আসা হয় এখানে। দুজন একসাথে এই নিরিবিলি পরিবেশে কিছু ভালো সময় কাটাই।” বেইলি রোডের আড্ডার বিশেষত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন” বেইলি রোডের খাবারের মান অনেক ভালো সেজন্য আড্ডা দেয়ার পাশাপাশি খাবার খেতেও বেইলি রোড আসি। মানুষ যেমন মাছের বাজারে মাছ কিনতে যায়, তেমনি এখানে মানুষ আড্ডা দিতে আসে। এজন্যই এখানে আসতপ ভালো লাগে।” তিনি আরও  বলেন, “এখানকার আড্ডায় কেউ পাশ দিয়ে হেঁটে গেলেও মাইন্ড করে না। কারণ সবাই জানে এখানে মানুষ আড্ডা দিতে আসে।”

বেইলি রোডের আড্ডার হটস্পট ধরা হয় রমনা পার্কের নিকটবর্তী ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমির সামনের জায়গাটিকে। ছায়াঘেরা, পরিচ্ছন্ন ও কোলাহলমুক্ত জায়গাটি আড্ডাবাজদের খুবই প্রিয়।

ছুটির দিনে এখানে বন্ধুরা গিটার নিয়ে গলা বাড়িয়ে গান ধরে। অন্যদিকে প্রিয় মানুষটার হাত ধরে কেউ কেউ ডুব দেন প্রেমের সমুদ্রে। উপলক্ষ্য যাই হোক সময়টা যে খুব ভালো কাটে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আজ এমনই এক যুগলের সাথে কথা হলো সেখানে। জানালেন সময় পেলেই এখানে আসেন তারা। পাশেই বাইক দাঁড় করিয়ে গল্প করছিলেন প্রিতম ও নাফিস নামের দুই বন্ধু। কথা হলো তাদের সাথেও। এখানেই কেন আড্ডা দিতে আসা প্রশ্ন করলে তারা জানান— “এখানের পরিবেশটা ভালো লাগে। চার পাশে গাছপালা, ঠান্ডা পরিবেশ কোলাহল নাই।”

অন্যান্য জায়গা থেকে বেইলি রোডের আড্ডার মধ্যে কোন পার্থক্য আছে কি না জিজ্ঞেস করলে তারা বলেন—“আমাদের কাছে অন্যান্য জায়গার আড্ডা থেকে বেইলি রোডের আড্ডার কোন পার্থক্য নেই। আড্ডাতো আর জায়গা দিয়ে হয়না, আড্ডা হয় মানুষ দিয়ে। যে জায়গায়ই প্রিয় মানুষ থাকে সেখানেই আড্ডা দিতে ভালো লাগে।”

তারা যথার্থই বলেছে, আড্ডার মানুষটা যদি প্রিয় হয় তাহলে জায়গা যেটিই হোক সময়টা অনেক ভালো কাটে। আর আড্ডা দেয়ার জায়গা ও মানুষ দুটোই যদি প্রিয় হয় তাহলেতো কথাই নেই!

বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমীর পাশেই একটি টং দোকান। তার পাশেই বসে চা পান করছিলেন ইকবাল হোসাইন, জাকির হোসাইন ও নিলয় নামের তিন বাল্য বন্ধু। বললেন—“এখানে আমরা আসলে আড্ডা কেউই মারিনা। এখানে জব করে আইসা কিছুক্ষণ বসি আমরা,আমরা তিনজনই বাল্যবন্ধু। ছোটকাল থেকে যাই বলে আসতেছি এখন পর্যন্ত ভাই তাই বলতেছি। আমাদের এটা এখন আর কোন আড্ডা নাই। আমাদের সবার বয়স ৪৫ প্রায়।  আমাদের এখন রিক্রেশন দরকার।”

এভাবেই প্রতিনিয়ত অসংখ্য মানুষের আড্ডার সাক্ষী হচ্ছে বেইলিরোড। যান্ত্রিক জীবনের দখল কাটিয়ে নিয়মিতই মানুষ আসেন বেইলিরোডের আড্ডায়। আড্ডাগুলো আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠুক। লেখা থাকুক স্মৃতির মনিকোঠায় এই প্রত্যাশা রাখি।

নিউজজি/নাসি

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers