রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ , ২৩ জিলকদ ১৪৪৭

ফিচার
  >
বিশেষ দিবস

একুশে ফেব্রুয়ারি: শ্রদ্ধা ও গৌরবের দিন আজ

নিউজজি ডেস্ক ২১ ফেব্রুয়ারি , ২০২৬, ১০:৪৫:৫৫

352
  • ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: অমর ২১শে ফেব্রুয়ারি আজ। ভাষা আন্দোলনের রক্তঝরা স্মৃতিতে গভীর শ্রদ্ধা ও শোকের দিন। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ১৯৫২ সালের এই দিনে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষায় ঢাকার রাজপথে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন বাংলার সাহসী সন্তানেরা।

মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠায় সেই আত্মত্যাগ বিশ্ব ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। দিবসটি উপলক্ষে আজ ভোরে সারা দেশে প্রভাতফেরি অনুষ্ঠিত হবে। ফুলে ফুলে সেজে উঠবে শহীদ মিনারের বেদী, আর জাতি স্মরণ করবে ভাষাশহীদদের অমলিন অবদান।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে বাংলার (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ছাত্র ও যুব সমাজসহ সর্বস্তরের মানুষ সে সময়ের শাসক গোষ্ঠীর চোখ-রাঙানি ও প্রশাসনের ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে আসে। মায়ের ভাষা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের দুর্বার গতি পাকিস্তানি শাসকদের শঙ্কিত করে তোলায়; সেদিন ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ গুলি চালায়। এতে সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ও রফিক গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। তাদের রক্তের বিনিময়ে বাংলা এ দেশের রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি পায়। যার ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে আসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা।

১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা (ইউনেস্কো) মহান একুশের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি দেয়, যে কারণে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও দিবসটি পালিত হচ্ছে।

রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে একুশের মহান শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছে জাতি। রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে একুশের কর্মসূচি শুরু হয়। প্রথমে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এছাড়া কালো ব্যাজ ধারণ করে প্রভাতফেরি সহকারে আজিমপুর কবরস্থানে শহীদদের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও শ্রদ্ধা জানানো হবে।

বাঙালি জাতির জন্য এই দিনটি গভীর শোক ও বেদনার প্রতীক। মাতৃভাষা বাংলার ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় আত্মোৎসর্গের মহিমায় উজ্জ্বল হয়ে আছে একুশে ফেব্রুয়ারি। যে কোনো জাতির সবচেয়ে গৌরবময় ও দুর্লভ ঐতিহ্য হলো আত্মত্যাগের সাহস—প্রয়োজনে জীবন বিসর্জন দেওয়ার দৃঢ়তা। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির শহীদরা নিজেদের রক্তের বিনিময়ে সেই অমূল্য উত্তরাধিকার বাঙালি জাতিকে দিয়ে গেছেন।

একুশে ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটির দিন। এদিন সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যথাযথ নিয়ম মেনে নির্ধারিত রং ও মাপে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে এবং উত্তোলন করা হবে কালো পতাকা। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় রেখে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার সংস্থা, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলো নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

 

 

নিউজজি/এস আর

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers