রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ , ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

ফিচার
  >
বিশেষ দিবস

আন্তর্জাতিক যুব দিবস আজ

নিউজজি ডেস্ক ১২ আগস্ট , ২০২৬, ১৪:১৭:২৫

185
  • যুব দিবস

ঢাকা: আজ ১২ আগস্ট, বুধবার, পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক যুব দিবস। বিশ্বের তরুণদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো, তাদের অধিকার ও প্রয়োজনের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া এবং সমাজে সক্রিয় নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেই প্রতিবছর দিবসটি পালন করা হয়। এ বছরের প্রতিপাদ্য—‘ভিন্ন প্রেক্ষাপট, অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা’।

দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বিশ্বের তরুণদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে সুন্দর ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়তে নীতি নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় তরুণদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

জাতিসংঘের বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধির মাধ্যমে পাঠানো ওই বার্তায় গুতেরেস বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক পার্থক্য থাকলেও তরুণদের মৌলিক প্রত্যাশাগুলো প্রায় একই। তারা চায় মর্যাদাপূর্ণ জীবন, সমাজে অর্থবহ অংশগ্রহণ এবং নিজেদের সম্ভাবনা বিকাশের উপযুক্ত সুযোগ।

বর্তমান তরুণ প্রজন্ম শুধু ভবিষ্যতের আশা নয়, বর্তমান সময়েও নানা ইতিবাচক পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিচ্ছে। প্রযুক্তি, শিক্ষা ও উদ্ভাবন, সামাজিক সচেতনতা এবং পরিবেশ সংরক্ষণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি নানা চ্যালেঞ্জও মোকাবিলা করতে হচ্ছে তরুণদের। অনেকে বেকারত্বে ভুগছেন, কেউ মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত, আবার কেউ মানসিক চাপ ও সামাজিক বৈষম্যের শিকার। এসব বাধা সত্ত্বেও নিজেদের স্বপ্ন পূরণ এবং পরিবার ও সমাজের জন্য অবদান রাখতে প্রতিনিয়ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

এ তরুণদের সম্মান জানাতেই প্রতি বছর পালিত হয় আন্তর্জাতিক যুব দিবস। দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—তরুণদের কথা শোনার, তাদের পাশে থাকার এবং তাদের এগিয়ে যেতে সহায়তা করার সময় এখনই।

তাদের উৎসাহ, সাহস আর নতুন ভাবনাই পারে একটি সুন্দর ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়তে। তাই এই দিন শুধু উদযাপনের নয় বরং কাজেরও—যেখানে আমরা সবাই মিলে তরুণদের সম্ভাবনাকে মর্যাদা দিই এবং একসাথে ভবিষ্যতের পথে হাঁটি।

প্রতি বছর ১২ আগস্ট বিশ্বজুড়ে পালিত হয় আন্তর্জাতিক যুব দিবস—একটি দিন যা তরুণ-তরুণীদের ক্ষমতা, সৃষ্টিশীলতা ও সমাজে তাদের অবদানের স্বীকৃতির জন্য উৎসর্গ করা হয়েছে। এ দিনটি প্রথম চালু করে জাতিসংঘ ২০০০ সালে।

তারুণ্যের উন্নয়ন ও অগ্রগতির গুরুত্ব তুলে ধরে ১৯৯৮ সালে পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের ‘ওয়ার্ল্ড কনফারেন্স অব মিনিস্টার রেসপনসিবল ফর ইয়ুথ’ থেকে ১২ আগস্টকে আন্তর্জাতিক যুব দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এর পরের বছর, ১৯৯৯ সালে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ দিনটিকে আন্তর্জাতিক যুব দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ২০০০ সাল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

যুবসমাজকে একটি দেশের প্রাণশক্তি, পরিবর্তনের অন্যতম চালিকাশক্তি এবং ভবিষ্যৎ নির্মাতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তরুণদের উদ্যম, সাহস ও সৃজনশীলতাই সমাজে নতুন পরিবর্তনের পথ তৈরি করে। বাংলাদেশ বর্তমানে জনমিতিক লভ্যাংশ অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে। ২০০৭ থেকে ২০৪০ সাল পর্যন্ত এ সুযোগ কাজে লাগানোর সময় হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় দেশের বিপুলসংখ্যক কর্মক্ষম ও তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা এখন অত্যন্ত জরুরি।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে ১০ থেকে ২৪ বছর বয়সী মানুষের সংখ্যা প্রায় ২০০ কোটি, যা মোট বৈশ্বিক জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ। বাংলাদেশে জাতীয় যুবনীতি অনুযায়ী ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সীদের যুব হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এই বয়সসীমার মানুষের সংখ্যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ, যা আনুমানিক ৫ কোটি।

ন্যায়ভিত্তিক ও আদর্শ সমাজ গঠনে যুবসমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের প্রাণশক্তি, সাহস ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে সামাজিক অন্যায়, কুসংস্কার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করা সম্ভব। সততা, নৈতিকতা ও আদর্শের চর্চার মাধ্যমে তরুণরা সমাজকে অবক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে। দুর্নীতি, মাদক, অপরাধ ও বিভিন্ন ধরনের সামাজিক অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতেও যুবসমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশের তরুণরা বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে। দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো, পরিবেশ সংরক্ষণ, দুর্যোগের সময় মানুষের সেবা, নিরক্ষরতা দূর করা এবং কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতে তারা এগিয়ে আসছে। একই সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, অর্থনীতি এবং সামাজিক ও গণতান্ত্রিক সংস্কারের ক্ষেত্রেও দেশের যুবসমাজ নেতৃত্ব দিচ্ছে।

পরিবেশ, অর্থনীতি ও সমাজ পরিবর্তনের নানা ক্ষেত্রে যুবসমাজের অবদান অনস্বীকার্য। জলবায়ু পরিবর্তন, উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং, শান্তির পক্ষে উচ্চকণ্ঠ হতেও দেখা গেছে যুসমাজকে। বিশ্বব্যাপী নিজেদের অধিকারের কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে বর্ণবাদবিরোধী, অসাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে তরুণরা সোচ্চার। বাংলাদেশের শ্রমশক্তি প্রধানত নির্ভরশীল যুব জনগোষ্ঠীর ওপর।

প্রবাসী শ্রমিক ও তৈরি পোশাক শিল্পে যুবসমাজের অংশগ্রহণই বেশি। তাই দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করার জন্য যুবসমাজকে গুরুত্ব দিয়ে প্রণীত হওয়া দরকার যথাযথ কর্মপরিকল্পনা।

 

নিউজজি/এস আর

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers