সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ , ১ জিলহজ ১৪৪৭

ফিচার
  >
ভ্রমণ

মাগুরার ভাতের ভিটা

নিউজজি ডেস্ক ১৪ জুলাই , ২০২৪, ১৯:২১:০৪

550
  • মাগুরার ভাতের ভিটা

ঢাকা: প্রত্নতাত্ত্বিক একটি স্থাপনার নাম ভাতের ভিটা। মাগুরার সদর উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিমে মঘি ইউনিয়নের ফটকি নদীর উত্তর তীরবর্তী টিলা গ্রামে অবস্থিত এই ভাতের ভিটা। এটি সদর উপজেলা থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে। 

ধারণা করা হয়, প্রায় ৩২১ খ্রীস্টপূর্বে মৌর্য্য সাম্রাজ্যের তৃতীয় শতাব্দী থেকে গুপ্ত সাম্রাজ্যের সময়কাল পর্যন্ত টিলা গ্রামে একটি বৌদ্ধ সংঘ্যারাম প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছিল। সেই সময় এই অঞ্চলের শাসনকার্য পরিচালনা করার লক্ষ্যে একটি বিচারালয় ও অপরাধীদের সাজা দেওয়ার লক্ষ্যে টিলা গ্রামের পশ্চিমে একটি উঁচু জায়গা নির্মাণ করা হয়। স্থানীয়ভাবে এই স্থানটি ছোট টিলা বা ভাতের ভিটা নামে পরিচিতি পায়। 

বন্যায় সারাদেশের বিভিন্ন স্থান প্লাবিত হলেও টিলা গ্রামটি কখনো প্লাবিত হয় না। তবে স্থানীয়দের মতে, আধ্যাত্মিক এক দরবেশ এই ভিটা নির্মাণ করেছেন এবং সেই কারণে স্থানটি একটি পুণ্যস্থান হিসেবে বিবেচিত।

জানা গেছে, ভাতের ভিটার নামকরণের পিছনেও একটি বহুল প্রচলিত জনশ্রুতি আছে। অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী এক দরবেশ ফটকি নদীর তীরে এসে থামেন এবং নামায পড়ার প্রয়োজনে এক রাতের মধ্যে এখানে মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করেন। নির্মাণ কাজের মাঝে খাবারের প্রয়োজনে ভাত রান্নার প্রস্তুতি নিলেও রান্না শেষ হওয়ার আগেই রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙ্গে পাখ-পাখালির কূঞ্জনে চারপাশ মুখরিত হয়ে উঠে। এই অবস্থায় মসজিদের কাজ অসমাপ্ত রেখেই দরবেশ চলে যান।

সকালে সবাই দেখতে পায় অসমাপ্ত মসজিদ, রান্না করা ভাত এবং পাশেই ভাতের ফ্যান গড়িয়ে সৃষ্টি হওয়া পুকুর। সেই থেকে উঁচু এই টিলার নাম হয় ভাতের ভিটা। আর ভাতের ফ্যান গড়িয়ে এক জায়গায় পুকুরের মত সৃষ্টি হয়েছে তার নাম দেওয়া হয় ফ্যানঘ্যালী পুকুর।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে খননকালীন এই স্থান থেকে গুপ্ত সাম্রাজ্যের একটি বৌদ্ধ সংঘ, ৪ ফুট লম্বা একটি হাত ও পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের মত বহুকক্ষবিশিষ্ট ছোট একটি ইমারতের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে। পরবর্তীতে ভাতের ভিটায় একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয় এবং স্থানীয়রা এখানে নিয়মিত নামায আদায় করেন।

যেভাবে যাবেন

ঢাকার গাবতলী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্স, জে আর পরিবহন, মেহেরপুর ডিলাক্স, রয়েল পরিবহন, হানিফ, সোহাগ ও ঈগল পরিবহনে মাগুরা যেতে পারবেন। মাগুরা জেলা থেকে যশোর-মাগুরা সড়ক হয়ে বাস ও ভ্যানে ভাতের ভিটায় পৌঁছাতে পারবেন।

কোথায় থাকবেন

মাগুরাতে রাত্রি যাপনের জন্য হোটেল ঈগল, হোটেল চলন্তিকা, হোটেল মণ্ডল আবাসিক, হোটেল চৌরঙ্গী, হোটেল সৈকতের মতো মধ্যম মানের আবাসিক হোটেল রয়েছে।

কোথায় খাবেন

ঝিনাইদহ-মাগুরা মহাসড়কের কাছে সাধারণ মানের রেস্তোরাঁ রয়েছে।

মাগুরা জেলার দর্শনীয় স্থান

মাগুরার অন্যান্য দর্শনীয় স্থানের মধ্যে শ্রীপুর জমিদার বাড়ি, মোকাররম আলী শাহ্ (রঃ) দরগাহ, কবি কাজী কাদের নওয়াজের বাড়ি, সিদ্বেশ্বরী মঠ ও রাজা সীতারাম রাজ প্রাসাদ অন্যতম।

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers