সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ২ কার্তিক ১৪২৮ , ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জীবনযাত্রা

জ্বর হলে যেভাবে বুঝবেন করোনা নাকি ডেঙ্গু

নিউজজি ডেস্ক সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২১, ২০:১০:৫১

82
  • ছবি: ইন্টারনেট থেকে

ঢাকা: প্রায় গত দেড় বছর ধরে জ্বর শব্দটি শুনলেই সবার মধ্যে যেন আতঙ্ক শুরু হয়ে যায়। এখন জ্বর এলে আর আগের মতো স্থির থাকা যায় না। জ্বর বা শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া কেবল একটি উপসর্গ। এর কারণ করোনা অথবা ডেঙ্গু। কারো জ্বর হয়েছে শুনলেই চিকিৎসকরা সাবধানতার জন্য করোনা পরীক্ষার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে আলাদা থাকতে বলছেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে বর্ষাকাল এলেই ডেঙ্গু জ্বরের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাটাও থেকে যায়।

করোনা নিয়ে বিগত দেড় বছর ধরে সারা বিশ্বে তোলপাড় অবস্থা। সবাই যখন করানার সঙ্গে লড়াই করতে ব্যস্ত; এরইমধ্যে যুক্ত হয়েছে ডেঙ্গু। ভাদ্র মাসে গুমোট গরম আবার আচমকা বৃষ্টি। তাতে মাঝে মধ্যেই জ্বর। জ্বর হলেই আবার করোনার আতঙ্ক। কিন্তু সত্যিই কি করোনা হয়েছে? নাকি ডেঙ্গু হলো? বুঝবেন কীভাবে?

শরতের শুরুতে জ্বরের প্রকোপ কিছুটা বাড়ে। জ্বর কোনো রোগ নয়, রোগের উপসর্গ। কোনো সংক্রমণ হলে আমাদের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে জীবাণু তাড়ানোর চেষ্টা করে। তাই জ্বর হয়।

ভারতের বেলেঘাটা আই ডি হাসপাতালের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ যোগীরাজ রায় জানান, ইদানীং করোনার পাশাপাশি মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু বা ম্যালেরিয়ার কারণে জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে। অতিমারির ভয়ে জ্বর এলে অনেকেই করোনা পরীক্ষা করাচ্ছেন। কিন্তু সবার তো করোনা হচ্ছে না। অন্য কোনো রোগ হয়েছে কি না, কীভাবে বুঝবেন?

তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু ও করোনা জ্বরের কিছু পার্থক্য আছে। একটু সচেতন হলেই দুই জ্বরকে আলাদা করা খুব কঠিন নয়। ডেঙ্গু হলে শরীরজুড়ে খুব ব্যথা হয়। তাই আগে ডেঙ্গুর প্রচলিত নাম ছিল হাড়ভাঙা জ্বর। সঙ্গে শরীরের বিভিন্ন অংশের ত্বক লাল হয়ে প্রদাহ হতে পারে।’ করোনা জ্বরেও গা-হাত-পায়ে ব্যথা হতে পারে। তবে ডেঙ্গুর তুলনায় কম। করোনায় ত্বক লাল হয়ে প্রদাহও বিশেষ হয় না।

যোগীরাজের বলেন, ‘অতিমারি শুরুর প্রথম দিকে জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও গলাব্যথার মতো উপসর্গ নিয়ে রোগীরা আসতেন। কিন্তু ডেঙ্গুতে এই ধরনের উপসর্গ খুব একটা দেখা যায় না। তবে দুটি রোগের ক্ষেত্রেই মৃদু উপসর্গে রোগ নির্ণয় করা জটিল। এখন আতঙ্ক এত বেড়ে গেছে, চিকিৎসকরা অনেক সময় বাড়তি পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন।’

আরেক শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ জয়দীপ চৌধুরী জানান, ‘ডেঙ্গু কিংবা করোনার কারণে জ্বর হলে প্রথম দিকে রোগ নির্ণয় করা বেশ মুশকিল। শিশুদের জ্বর হলে গোড়াতেই অ্যান্টিবায়োটিক বা আইব্রুফেন জাতীয় জ্বর কমানোর ওষুধ দেওয়া অনুচিত। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, জ্বর কমানোর সেরা দাওয়াই রোগীকে হাল্কা গরম পানিতে গোসল করানো।’

এই বিশেষজ্ঞের কথায়, শিশুদের জ্বর হলে অবশ্যই চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রাখতে হবে। বাড়িতে নিজেদের ইচ্ছা মতো চিকিৎসা করানো যাবে না। তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু বা করোনার ভয়ে অনেক অভিভাবক শিশুদের হাসপাতালে ভর্তির জন্য দৌড়দৌড়ি শুরু করেন। কিন্তু তার প্রয়োজন নেই। আবহাওয়া পরিবর্তনে সাধারণ ভাইরাল জ্বর হতে পারে। শিশুদের যাবতীয় টিকা দিয়ে সাবধানে রাখতে হবে।’- আনন্দবাজার পত্রিকা

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
        
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers