বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ , ৩ শাবান ১৪৪৭

জীবনযাত্রা

দীর্ঘসময় দাঁড়ালে ভ্যারিকোস ভেইনসের ঝুঁকি

নিউজজি ডেস্ক ডিসেম্বর ৮, ২০২৫, ১৪:৫৭:৫৭

139
  • ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো পা। সারাদিন দেহের পুরো ভার বহন করা থেকে শুরু করে দাঁড়ানো, হাঁটা, দৌড়-সব কাজই এই দুই অঙ্গকে করতে হয়। তাই পায়ের ওপর সামান্য অতিরিক্ত চাপ পড়লেও তার প্রভাব সরাসরি নেমে আসে শিরায়।

এ অবস্থায় পায়ের শিরা ফুলে গিয়ে গাঢ় নীল রং ধারণ করে। অনেক সময় একাধিক শিরা জট পাকিয়ে বা পেঁচিয়ে উঠে ত্বকের ওপর স্পষ্টভাবে ভেসে ওঠে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকেই বলা হয় ‘ভ্যারিকোস ভেইনস’।

কাদের হয়

পুরুষদের মধ্যে এই রোগের প্রবণতা তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে যাদের দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে কাজ করতে হয় বা সারাদিন পায়ে ভর দিয়ে চলাফেরা করতে হয়, তাদের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। এছাড়া যারা স্বাভাবিক ওজনের তুলনায় অতিরিক্ত ওজনের, তারা সহজেই এ সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারেন।

বিক্রয়কর্মী, ট্রাফিক পুলিশ, বাস-ট্রেনের চালকের সহকারী, শিক্ষক—এ ধরনের পেশায় যারা দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকেন, তাদের মধ্যে ভ্যারিকোস ভেইনস হওয়ার হার বেশি।

নারীরাও এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। গর্ভাবস্থা, অতিরিক্ত ওজন বা বয়স বৃদ্ধিও এ সমস্যার কারণ হতে পারে। তাছাড়া পরিবারের কারো যদি এ রোগ থাকে, তাহলে বংশগত কারণে অন্য সদস্যরাও আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে হতে পারে ভ্যারিকোস ভেইনস

কিন্তু এই রোগ শুরু হয় কীভাবে? চিকিৎসকদের মতে, ভ্যারিকোস ভেইনস মূলত শরীরের রক্ত প্রবাহের সঙ্গে সম্পর্কিত। পায়ের শিরার ভেতরে থাকা ক্ষুদ্র ভাল্বগুলো রক্তকে ওপরের দিকে ঠেলে দিতে সাহায্য করে। কোনো কারণে এই ভাল্বগুলো দুর্বল হয়ে পড়লে বা ঠিকমতো কাজ না করলে রক্ত বিপরীত দিকে প্রবাহিত হতে থাকে। এর জেরে শিরা ধীরে ধীরে প্রসারিত হয়, ফুলে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত ত্বকের ওপর দৃশ্যমান হয়ে পড়ে। অনেক সময় এটি দেখতে মাকড়সার জালের মতো সবুজ বা নীল শিরার জট হিসেবে চোখে পড়ে।

লক্ষণগুলো কী

শুরুতে হালকা অস্বস্তি থাকলেও ধীরে ধীরে বিভিন্ন উপসর্গ প্রকাশ পেতে পারে। এতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে—পায়ে ব্যথা, হাঁটার সময় টান লাগা, মাংসপেশিতে খিঁচুনি বা দিনের শেষে পা ভারী হয়ে যাওয়া। অনেকের পা বা গোড়ালি ফুলে যাওয়ার সমস্যা হয়। ত্বকে শুষ্কতা বা চুলকানি দেখা দিতে পারে, এমনকি ছোটখাটো ক্ষতও সহজে সেরে ওঠে না।

এই রোগ প্রতিরোধ করবেন যেভাবে-

ভ্যারিকোস ভেইনস অনেক ক্ষেত্রে নীরব থাকে, অর্থাৎ কোনো দৃশ্যমান উপসর্গ নাও থাকতে পারে। এ ধরনের অবস্থায় আলাদা চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। তবে উপসর্গ দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি। পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনলে উপকার পাওয়া যায় এবং ভবিষ্যতের ঝুঁকিও কমে।

  • রক্ত সঞ্চালন সচল রাখতে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো নিয়মিত হাঁটা। প্রতিদিন অন্তত আধঘণ্টা হাঁটা পায়ের শিরায় রক্ত চলাচল বাড়ায় এবং পেশিকে সক্রিয় রাখে। পাশাপাশি শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং খাবারে সতর্ক থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
  • জুতার ক্ষেত্রে উচ্চ হিল পরিহার করা উচিত। ছোট হিল বা আরামদায়ক জুতা কাফের পেশির স্বাভাবিক নড়াচড়া বজায় রাখে, যা শিরার জন্য উপকারী।
  • দীর্ঘসময় একই ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে বা বসে থাকা রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে। প্রতি ৩০ মিনিট অন্তর শরীরের অবস্থান সামান্য পরিবর্তন করলে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে। পা ভাঁজ করে বা চেপে বসার অভ্যাস এড়িয়ে চলাই ভালো।

সূত্র: মায়ো ক্লিনিক, হিন্দুস্তান টাইমস ও অন্যান্য

 

নিউজজি/এস আর

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন