বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ , ২ রমজান ১৪৪৭

জীবনযাত্রা

নাক বন্ধ হলে স্বস্তি পাওয়ার ৮টি কার্যকর উপায়

নিউজজি ডেস্ক জানুয়ারী ৫, ২০২৬, ১৫:৫০:৫৬

173
  • ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: শীত, ধুলাবালি, ঠান্ডা লাগা বা অ্যালার্জি—যে কারণে হোক না কেন, নাক বন্ধ হয়ে গেলে দৈনন্দিন কাজকর্মও কঠিন হয়ে ওঠে। ঠিকমতো শ্বাস নিতে না পারা, রাতে ঘুমের ব্যাঘাত, বা মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা—এই সমস্যাগুলো অনেকেরই পরিচিত। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই অবস্থাকে বলা হয় নাসাল কনজেশন।

নাকের ভেতরের টিস্যু ফোলা এবং অতিরিক্ত মিউকাস জমার কারণে এই সমস্যা দেখা দেয়। সাধারণত সর্দি-কাশি বা ফ্লু সেরে গেলে নাক বন্ধ হওয়ার সমস্যা নিজে থেকেই কমে যায়। তবে, তার আগে যদি কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যায়, তা হলে তা বেশ আরামদায়ক হয়।

সুখবর হলো, কিছু বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত ও নিরাপদ উপায় আছে, যা দ্রুত নাক খুলতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, নাক খোলার জন্য নিচের ৮টি কার্যকর কৌশল অনুসরণ করা যেতে পারে।

১. স্যালাইন দিয়ে নাক ধোয়া

নাক পরিষ্কার করতে স্যালাইন পানি ব্যবহার করুন। এতে ভেতরে জমে থাকা মিউকাস, ধুলা ও অ্যালার্জেন বের হয়ে যায়। নেটি পট, স্কুইজ বোতল বা স্যালাইন স্প্রে ব্যবহার করা যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি নাকের বাতাস চলাচল স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে। ফুটানো ঠান্ডা পানি বা ডিস্টিল্ড পানি ব্যবহার করুন, নইলে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকতে পারে।

২. ভাপ বা উষ্ণ আর্দ্রতা

গরম পানির ভাপ নিলে নাকের ভিতরের মিউকাস নরম হয় এবং সহজে বের হয়। গরম পানিতে গোসল করলেও একই উপকার পাওয়া যায়। চাইলে নাক বা কপালে হালকা গরম সেঁক দিলে সাইনাসের চাপও কমে।

৩. পর্যাপ্ত পানি পান করুন

শরীর হাইড্রেটেড থাকলে মিউকাস পাতলা হয় এবং সহজে বের হয়। পানি, হারবাল চা বা গরম স্যুপ নাক বন্ধের অস্বস্তি কমাতে খুব কার্যকর।

৪. ডিকনজেস্ট্যান্ট ব্যবহার (সাবধানে)

নাকের স্প্রে বা ডিকনজেস্ট্যান্ট ওষুধ রক্তনালি সঙ্কুচিত করে দ্রুত আরাম দেয়। তবে এগুলো ৩–৫ দিনের বেশি ব্যবহার করবেন না, কারণ বেশি ব্যবহার করলে নাক আরও বেশি বন্ধ হতে পারে। হৃদরোগ বা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে অবশ্যই ডাক্তারকে দেখানো জরুরি।

৫. হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করুন

শীতকালে বা শুষ্ক আবহাওয়ায় ঘরের বাতাস নাকের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। হিউমিডিফায়ার বাতাসে আর্দ্রতা যোগ করে নাকের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

৬. ঘুমানোর সময় মাথা উঁচু রাখুন

শুয়ে থাকলে নাক বেশি বন্ধ হতে পারে। অতিরিক্ত একটি বালিশ ব্যবহার করে মাথা একটু উঁচু রাখলে মিউকাস সহজে নিচে নেমে যায় এবং রাতে শ্বাস নেওয়া সহজ হয়।

৭. সমস্যা বাড়ানো জিনিস এড়িয়ে চলুন

ধূমপান, ধুলা, তীব্র সুগন্ধি, ধোঁয়া বা দূষণ নাকের টিস্যু ফুলিয়ে দেয়। বিশেষ করে অ্যালার্জির সময় এগুলো এড়িয়ে চললে সমস্যা অনেক কমে।

৮. নাক জোরে ঝাড়বেন না

অনেকে মনে করেন, জোরে নাক ঝাড়লেই আরাম মেলে। আসলে এতে মিউকাস আরও ভিতরে চলে যেতে পারে। হালকা হাতে, এক পাশে নাক ঝাড়াই নিরাপদ।

নাক বন্ধ হওয়া ছোট সমস্যা মনে হলেও এটি ঘুম, কাজ ও মনোযোগ সবকিছুর ওপর প্রভাব ফেলে। স্যালাইন রিন্স, ভাপ নেওয়া, পানি পান ও সঠিকভাবে ওষুধ ব্যবহারের মতো সহজ অভ্যাসগুলো দ্রুত আরাম দিতে পারে। তবে এক সপ্তাহের বেশি নাক বন্ধ থাকলে, সঙ্গে জ্বর, মুখে ব্যথা বা সবুজ রঙের স্রাব দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সঠিক যত্ন নিলে নাক বন্ধের সমস্যা আর আপনার গতিরোধ করবে না শ্বাস নিন স্বস্তিতে, থাকুন স্বাভাবিক।

সূত্র: এনডিটিভি

 

 

নিউজজি/এস আর

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন