বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ , ২ রমজান ১৪৪৭

জীবনযাত্রা

সেফটি পিনের গোলাকার নকশার রহস্য

নিউজজি ডেস্ক জানুয়ারী ৮, ২০২৬, ১৩:৪৯:৫০

146
  • ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: নারীদের জীবনে সেফটি পিনের বিকল্প নেই। ওড়না ঠিকভাবে আটকে রাখতে, শাড়ির ভাঁজ ধরে রাখতে, হিজাব পরতে—এটি সবসময় কাজে আসে। এমনকি কখনও কখনও চটি ছিঁড়ে গেলে বা পায়ে কাঁটা ফুটলে সেফটি পিন উপকারী হয়। তাই নারীদের ব্যাগে এটি অত্যন্ত যত্নসহকারে রাখা হয়। যদি খেয়াল করেন, সেফটি পিনের এক প্রান্ত গোলাকার ও প্যাঁচানো থাকে। এটি কি শুধুই নকশা, নাকি এর পেছনে ইতিহাস লুকিয়ে আছে?

উত্তর জানতে হলে চোখ রাখতে হবে ইতিহাসের পাতায়। পোশাক আটকে রাখার প্রাচীন যন্ত্রের নাম ছিল টগল পিন। ধারণা করা হয়, প্রাচীন মিশরের প্রথম বৈদেশিক শাসকগোষ্ঠী হিকসসেরা এটি প্যালেস্টাইনে নিয়ে গিয়েছিল। টগল পিনের এক প্রান্তে ছোট একটি লুপ বা ছিদ্র থাকত। লুপের মধ্যে দড়ি বা সুতো দিয়ে পিনের এক প্রান্ত পোশাকে বাঁধা হতো, আর অন্য প্রান্ত দিয়ে পোশাকের আরেক অংশ আটকানো হতো। আজকের সেফটি পিনের গোলাকার, প্যাঁচানো প্রান্তটি সম্ভবত সেই প্রাচীন টগল পিনের নকশার বিবর্তন।

আরেক ধরনের প্রাচীন পোশাক আটকানোর যন্ত্র হলো ফিবুলা, যা দেখতে অনেকটা ব্রোচের মতো। গ্রিসের পেলোপনেসাস অঞ্চলে মাইসেনীয়রা খ্রিষ্টপূর্ব ১৪–১৩ শতকে এটি তৈরি করেছিল। ব্যবহারে এটি অনেকটা সেফটি পিনের মতো হওয়ায় ফিবুলাকে সেফটি পিনের পূর্বসূরি বলা হয়। তখন গ্রিক নারী ও পুরুষ উভয়েই টিউনিক (ঢিলেঢালা পোশাক) আটকাতে ফিবুলা ব্যবহার করতেন।

আধুনিক সেফটি পিনের উদ্ভাবক ছিলেন আমেরিকার যন্ত্রপ্রকৌশলী ওয়াল্টার হান্ট। ১৮৪৯ সালে তিনি একটি নতুন ধরনের সেফটি পিন তৈরি করেছিলেন, যার উপরের অংশে লুপ বা কীলক থাকত, যা সুচালো মাথাকে ঢেকে রাখত এবং পিন খোলা বা আহত হওয়ার ঝুঁকি কমাত। পিনের নিচের বাঁকানো অংশে একটি লুপ ছিল, যা স্প্রিংয়ের মতো কাজ করে পিনকে শক্তভাবে জায়গায় ধরে রাখত।ফলে, আধুনিক সেফটি পিনের নকশা এবং কার্যকারিতা প্রাচীন টগল পিন ও ফিবুলা থেকে বিবর্তিত হয়ে আজকের রূপ নিয়েছে।

ব্যবহারিক দিক থেকেও সেফটি পিনের নিচের ছিদ্রের বিশেষ গুরুত্ব আছে। যখন পিন দিয়ে কোনো জিনিস আটকে রাখা হয়, তখন মূল চাপ আসলে পিনের ক্লিপের উপরের অংশে পড়ে। এই গোল ছিদ্র চাপকে চারপাশে ছড়িয়ে দেয়, ফলে অতিরিক্ত চাপ পড়লেও পিনটি সহজে বেঁকে বা ভেঙে যায় না।

স্রষ্টা ওয়াল্টার হান্ট ঠিক এইভাবে সেফটি পিনের নকশা করেছিলেন। বহু বছর কেটে গেলেও এই যন্ত্রের নকশা বদলানোর কোনো প্রয়োজন পড়েনি। ওয়াল্টারের বুদ্ধিদীপ্ত নকশার কারণে আজও সেফটি পিনের ব্যবহার অটুট এবং এটি অতুলনীয় কার্যকরী।

 

 

নিউজজি/এস আর

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন