বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ , ২৮ সফর ১৪৪৮

জীবনযাত্রা

চোখে পানি পড়া ও চুলকানির কারণ জানালেন চিকিৎসক

নিউজজি ডেস্ক জুন ২৩, ২০২৬, ১৩:৩০:৫৮

144
  • সংগৃহীত

ঢাকা: আধুনিক জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তনের ফলে মানুষের কাজের ধরনেও ব্যাপক রূপান্তর এসেছে। বর্তমানে দীর্ঘ সময় ধরে কম্পিউটার স্ক্রিন বা মোবাইল ফোনে কাজ করতে হচ্ছে অনেককেই। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পরিবেশ দূষণের প্রভাব। এসব কারণেই চোখ দিয়ে পানি পড়া, চুলকানি কিংবা অস্বস্তির মতো সমস্যা এখন প্রায়ই দেখা দিচ্ছে।

এই বিষয়ে ভারতের গুরুগাঁওয়ের মারেনগো এশিয়া হাসপাতালের অপথালমোলজি বিভাগের ক্লিনিক্যাল ডিরেক্টর ডা. শিবাল ভরতিয়া এর পেছনের চমকপ্রদ কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। পাশাপাশি কখন এ ধরনের সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি, সে বিষয়েও তিনি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী তাহলে এ ব্যাপারে জেনে নেয়া যাক।

চোখ দিয়ে পানি পড়ে কেন:

ডা. শিবাল বলেন, চোখ দিয়ে অবিরত বা মাঝে মধ্যে পানি পড়া এবং একইসঙ্গে ‘ড্রাই আই’ বা শুষ্ক চোখের সমস্যা হওয়া, শুনতে পরস্পরবিরোধী মনে হতে পারে। তবে তা নয়। এর পেছনের কারণ বুঝতে পারলে চোখের যত্ন নেয়ার ক্ষেত্রে দৃষ্টিভঙ্গি একদমই বদলে যেতে পারে।

তিনি বলেন, চোখের ওপর যে পানির পাতলা স্তর বা টিয়ার ফিল্ম থাকে, তা শুধু পানি নয়। এরও তিনটি স্তর রয়েছে- তেল, পানি ও মিউকাস বা শ্লেষ্মা। তিনটি স্তর মিলে চোখের উপরিভাগকে মসৃণ ও স্থিতিশীল রাখে। এই স্তর ভেঙে গেলে বা নষ্ট হলে চোখ জরুরি সংকেত দিয়ে থাকে। মস্তিষ্ক তখন চোখকে সিক্ত করার জন্য জরুরি ভিত্তিতি প্রচুর পরিমাণ পানি ঝরায়। যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলায় হয় রিফ্লেক্স টিয়ারিং।

এ চিকিৎসক বলেন, এটি হচ্ছে একটি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া এবং এতে অতিরিক্ত পানি নিঃসৃত হলেও চোখের প্রকৃত আর্দ্রতা বা পিচ্ছিলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এর কোনো ভূমিকা নেই। এ কারণে চোখ একইসঙ্গে শুষ্ক থাকে, আবার কখনো পানিও পড়তে থাকে।

এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ:

স্ক্রিন টাইম অনেক কিছুই বদলে দিয়েছে। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার সময় স্বাভাবিকের থেকে প্রায় তিনগুণ কম চোখের পলক ফেলা হয়। এতে চোখের পাতার তেলের গ্রন্থিগুলো বন্ধ হয়ে যায়। চোখের পানির স্তর তৈরি হওয়ার থেকে বিপরীতে দ্রুত গতিতে শুকায় বা বাষ্পীভূত হয়। সঙ্গে বায়ুদূষণ, এসি পরিবেশে থাকা এবং দীর্ঘ যাতায়াত যোগ হয়েছে। এ কারণে, বিশেষ করে শহরের মানুষের মধ্যে ‘ড্রাই আই ডিজিজ’ বা চোখ শুষ্ক হওয়ার সমস্যা এখন সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যা অধিকাংশ সময় শনাক্ত করা সম্ভব হয় না।

কোন লক্ষণগুলোর দিকে খেয়াল রাখতে হবে:

  • চোখ দিয়ে পানি পড়া, যা সন্ধ্যার সময় বেড়ে যায়,
  • চোখ জ্বালাপোড়া বা সুই ফোটার মতো অনুভূতি হওয়া,
  • দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া, যা চোখের পলক ফেললে আবার পরিষ্কার হয়,
  • বাতাস বা এসির প্রতি সংবেদনশীলতা,
  • পর্যাপ্ত ঘুমের পরও চোখ ক্লান্ত হওয়া।

ডা. শিবালের মতে, এসবের মধ্যে কোনো লক্ষণ যদি দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে স্থায়ী হয়, তাহলে ল্যাবরেটরি বা ফার্মেসি থেকে কৃত্রিম চোখের ড্রপ বা আর্টিফিশিয়াল টিয়ার্স কিনে ব্যবহার করা যাবে না। বরং চোখের সঠিক ও পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা করে তবেই ওষুধ নিতে হবে।

প্রতিকার:

এ চিকিৎসক বলেন, চোখের পাতায় গরম সেঁক দেয়া, ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা, প্রিজারজেটিভ মুক্ত লুব্রিকেটিং ড্রপ ব্যবহার এবং সচেতনভাবে বিরতি নিয়ে চোখের পলক ফেলার মাধ্যমে স্ক্রিন টাইম কমিয়ে আনা হচ্ছে এই সমস্যা প্রতিকারের অন্যতম উপায়। তবে সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ড্রব বা হাসপাতালে গিয়ে সরাসরি তেলের গ্রন্থিগুলোর চিকিৎসা করানো প্রয়োজন।

 

নিউজজি/এস আর

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers