বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ , ২৮ সফর ১৪৪৮

জীবনযাত্রা

কলকাতায় বাড়ছে করোনা, সতর্কবার্তা চিকিৎসকদের

নিউজজি ডেস্ক জুলাই ২২, ২০২৬, ১৪:১১:০২

106
  • সংগৃহীত

ঢাকা: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় আবারও বাড়তে শুরু করেছে কোভিড-১৯ সংক্রমণ। তবে শুধু করোনা নয়, একই সময়ে ইনফ্লুয়েঞ্জা, অ্যাডেনোভাইরাস ও রাইনোভাইরাসের সংক্রমণও বাড়ছে। ফলে কাশি, জ্বর, গলাব্যথা, সর্দি ও শরীরব্যথার মতো উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

সম্প্রতি কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ১০ বছর বয়সী এক শিশু কোভিড-১৯ পজিটিভ হয়ে ভর্তি হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। একই হাসপাতালে আরও তিনজন করোনা আক্রান্ত ভর্তি রয়েছেন। তাদের সবার মধ্যেই গলাব্যথা, জ্বর ও দীর্ঘস্থায়ী কাশির মতো সাধারণ কোভিড-১৯ এর উপসর্গ দেখা গেছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে কলকাতার ফোর্টিস হাসপাতালের পালমোনোলজিস্ট ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞ ডা. শুভজিৎ সেন এ বসিয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে মৌসুমি ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, বিশেষ করে ইনফ্লুয়েঞ্জা ও কোভিড-১৯ এর প্রকোপ বাড়ছে। আমাদের কাছে বর্তমানে তিনজন সার্স-কোভ-২ আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন। একজন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছাড়ছেন, আর দুজনের অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ায় আইসিইউতে ভর্তি করতে হয়েছিল। তবে চিকিৎসায় তারা সাড়া দিয়েছেন এবং এখন স্থিতিশীল আছেন। ডা. শুভজিৎ সেন জানান, আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ, অধিকাংশ রোগীর সংক্রমণই মৃদু। তবে বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে।

এবারের কোভিড-১৯ কতটা ভয়ংকর?

চিকিৎসকদের মতে, বর্তমানে যে কোভিড-১৯ সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে, তার ধরন অনেকটাই ওমিক্রন ঢেউয়ের মতো। অধিকাংশ রোগী বাসায় থেকেই বিশ্রাম, পর্যাপ্ত পানি পান এবং প্রয়োজনীয় ওষুধে সুস্থ হয়ে উঠছেন। খুব অল্প সংখ্যক রোগীর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে। তবে হাঁপানি, সিওপিডি, ইন্টারস্টিশিয়াল লাং ডিজিজ, দীর্ঘমেয়াদি লিভারের রোগ বা অন্য জটিল অসুস্থতায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বেশি।

যে লক্ষণগুলো দেখলে সতর্ক হতে হবে: বর্তমানে আক্রান্তদের মধ্যে যেসব উপসর্গ বেশি দেখা যাচ্ছে, সেগুলো হলো—

  • জ্বর
  • গলাব্যথা
  • কাশি
  • সর্দি বা নাক বন্ধ
  • হাঁচি
  • মাথাব্যথা
  • শরীরব্যথা
  • অতিরিক্ত ক্লান্তি

যাদের আগে থেকেই শ্বাসযন্ত্র বা অন্য দীর্ঘমেয়াদি রোগ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট ও রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ার মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে। এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

কারা সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকবেন: ডা. শুভজিৎ সেন জানান সবার জন্য সমান ঝুঁকি নেই। যাদের ঝুঁকি বেশি তারা হলে—

  • বয়স্ক ব্যক্তি
  • গর্ভবতী নারী
  • হাঁপানি বা দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি
  • দীর্ঘমেয়াদি লিভারের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি
  • দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি

এ ধরনের ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সামান্য ভাইরাস সংক্রমণও গুরুতর জটিলতার কারণ হতে পারে।

সতর্কতা

ডা. শুভজিৎ সেন জানান অনেকেই জ্বর, কাশি বা গলাব্যথাকে সাধারণ সর্দি-কাশি ভেবে অবহেলা করেন কিংবা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ওষুধ সেবন শুরু করেন। আর এটাই সবচেয় বড় ভুল। বিশেষ করে যাদের দীর্ঘমেয়াদি রোগ রয়েছে, তারা উপসর্গ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এতে বোঝা সহজ হবে এটি কোভিড-১৯, ইনফ্লুয়েঞ্জা নাকি অন্য কোনো ভাইরাসজনিত সংক্রমণ।

এছাড়া ভিড়ে গেলে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। সেইসঙ্গে নিয়মিত হাত ধোয়া, অপ্রয়োজনীয় জনসমাগম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। চিকিৎসকদের মতে, পরিস্থিতি এখনই উদ্বেগজনক নয়। তবে মৌসুমি ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় সচেতনতা ও সময়মতো চিকিৎসা নেয়া জরুরি। সচেতন থাকলে অনেক রোগের ঝুঁকি কমে যায়। 

 

নিউজজি/এস আর

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers