রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ , ২৪ সফর ১৪৪৮

জীবনযাত্রা

অফিসে অতিরিক্ত কাজের দিন কি শেষ

নিউজজি ডেস্ক জুলাই ২৮, ২০২৬, ১৩:৪২:১৯

92
  • সংগৃহীত

ঢাকা: একসময় কর্মক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের পরও অফিসে থাকা, ছুটির দিনেও ইমেইলের জবাব দেওয়া কিংবা নিজের দায়িত্বের বাইরে অতিরিক্ত কাজ করাকে পেশাগত নিষ্ঠা ও সাফল্যের লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তবে তরুণ প্রজন্মের কর্মীদের মধ্যে এ বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রসার এবং কাজের ধরনে পরিবর্তনের কারণে তরুণ পেশাজীবীরা এখন অপ্রয়োজনীয় ব্যস্ততা ও অতিরিক্ত কাজের চাপকে নতুন করে মূল্যায়ন করছেন। তারা মনে করছেন, শুধু বেশি সময় কাজ করাই দক্ষতা বা কর্মনিষ্ঠার প্রমাণ নয়।

গ্রেট প্লেস টু ওয়ার্ক ইন্ডিয়া ২০২৬-এর এক গবেষণায় উঠে এসেছে, কর্মীদের মধ্যে নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত প্রচেষ্টা দেওয়ার প্রবণতা কমছে। এই প্রবণতাকে বলা হচ্ছে ‘এফোর্ট রিসেশন’।

প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ভারতের প্রায় ৬৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠান (৩৮০টির মধ্যে ২৪০টি) গত এক বছরে এই ধরনের অতিরিক্ত প্রচেষ্টার পরিমাণ কমে যাওয়ার কথা জানিয়েছে, যা গড়ে প্রায় ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

গবেষণায় দেখা যায়, ভারতের মোট কর্মক্ষেত্রের প্রায় ২৬ শতাংশই এখন জেন-জি প্রজন্মের দখল, যা ২০২৩ সালের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এই তরুণরা দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করা বা সবসময় কাজের জন্য প্রস্তুত থাকার চেয়ে কাজের নমনীয়তা, ক্রমাগত শেখার সুযোগ, ক্যারিয়ারের অগ্রগতি, মানসিক কল্যাণ এবং অর্থপূর্ণ কাজকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে।

শিল্প খাত ভেদে এই পরিবর্তনের রূপ ভিন্ন। খুচরা বিক্রি বা রিটেইল খাতে এটি সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে, যেখানে ৮৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত প্রচেষ্টা কমেছে। এরপরেই রয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) ও পেশাদার সেবা খাত (উভয় ক্ষেত্রেই ৭৭ শতাংশ) এবং আবাসন খাত (৭১ শতাংশ)। সবচেয়ে স্থিতিশীল রয়েছে উৎপাদন খাত, যেখানে মাত্র ৪৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠান এই হ্রাসের কথা জানিয়েছে।

তবে গবেষণায় একটি বিষয় স্পষ্ট, কর্মীরা যখন অনুভব করেন যে তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সত্যিই তাদের পরোয়া করেন, তখন তাদের অতিরিক্ত কাজ করার প্রবণতা ৯৯ শতাংশে গিয়ে পৌঁছে; অন্যদিকে এই অনুভূতি না থাকলে তা নেমে আসে মাত্র ২৯ শতাংশে।

সংগঠন বিষয়ক মনোবিজ্ঞানী গুরলিন বারুয়া জানান, কাজের নীতির সংজ্ঞা বদলে যাচ্ছে। যদি অহেতুক দীর্ঘ সময় অফিসে থাকা বা ব্যস্ততার ভান করাকে কাজের নীতি ধরা হয়, তবে তা নিশ্চিতভাবেই কমছে। কিন্তু মানুষ এখন ঘণ্টার হিসাবের চেয়ে কাজের মানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এআই এবং রিমোট কাজের সুবিধার ফলে পেশাজীবীরা কাজের পেছনে শারীরিক সময়ের চেয়ে মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা এবং অর্থপূর্ণ আউটপুট দেওয়াকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তরুণ কর্মীরা এখনও অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে রাজি, তবে তার আগে তারা জানতে চান যে সেই বাড়তি প্রচেষ্টার আসল প্রভাব বা মূল্য কতটুকু। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

 

নিউজজি/এস আর

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers