রবিবার, ৭ মার্চ ২০২১, ২২ ফাল্গুন ১৪২৭ , ২৩ রজব ১৪৪২

জীবনযাত্রা
  >
ফ্যাশন

পোশাকে রবীন্দ্রনাথের নায়িকারা

নিউজজি ডেস্ক ৬ আগস্ট , ২০১৮, ১৫:৩০:৪৫

  • পোশাকে রবীন্দ্রনাথের নায়িকারা

বাঙালির চিন্তাচেতনায় অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে আছেন রবীন্দ্রনাথের গল্পের নায়িকারাও। কৈশোরে হৈমন্তী গল্পের মধ্যদিয়ে ফ্যাশনের জগতে প্রবেশ, এরপর কবিগুরু তার প্রতিটি রচনায় নারী চরিত্রগুলোকে শোভিত করেছেন স্বমহিমায়। বিশেষ করে কবিগুরুর নায়িকাদের সাজপোশাকের আধুনিকতায় রবি ঠাকুরের রুচিবোধের প্রতিফলন ঘটেছে। তার সময়কার সেই ফ্যাশন স্টাইল একালের নারীদের কাছেও বেশ প্রিয়। বর্তমান সময়ে যে কেউই ঠাকুরবাড়ির সাজসজ্জা কিংবা কবিগুরু বিভিন্ন গল্পের নায়িকাদের সাজের সঙ্গে সমকালীন ফ্যাশনের মেলবন্ধন ঘটিয়ে ফ্যাশনের জগতে সৃষ্টি করতে পারেন একটু নতুননধারা। 

কবিগুরু তার রচিত ‘রক্তকরবী’র নারী চরিত্র নন্দিনীর মাধ্যমে চিরায়ত বাঙালি নারীর স্নিগ্ধ রূপটি ফুটিয়ে তুলেছেন। ছোট্ট হাতার কুঁচি দেয়া ব্লাউজের সঙ্গে দেশীয় তাঁতের শাড়ি, হাতে-কানে-গলায়-মাথায় রক্তকরবী ফুলের গহনা এবং পিঠজুড়ে খোলা চুল সবাইকে মুগ্ধ করে। 

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ফ্যাশন সচেতনতা ফুটে ওঠে তার উপন্যাস আর ছোটগল্পের পরতে পরতে। পোশাক-আশাক আর সাজসজ্জার নিখুঁত বর্ণনায় জীবন্ত হয়ে ওঠে চরিত্রগুলো। শেষের কবিতার লাবণ্য পাঠকের মনে স্থান করে নিয়েছে লাবণ্যময়ী এক নারী হয়ে। জন্মজয়ন্তীতে কেউ যদি লাবণ্য হয়ে উঠতে চান মন্দ হবে না। নৌকো-গলার ফুলহাতা ব্লাউজের সঙ্গে নকশি পাড়ের দেশী তাঁতের শাড়ি। মাঝখানে সিঁথি সাজিয়ে সামনে চুল সেট করে পেছনে লম্বা বেণি। কপালে ছোট একরঙা টিপ, কানে দুল, গলায় চিকন চেইনে ছোট্ট লকেট আর হাতে দু’গোছা চুড়ি। এ যেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষের কবিতার লাবণ্য। ‘চোখের বালি’র আশালতা বনেদি পরিবারের বউ। তার জাঁকজমকপূর্ণ পোশাক-আশাক, সাজসজ্জা আর চালচলনেই বোঝা যায়। সিল্কের কাপড়ে কুঁচি দেয়া থ্রি কোয়ার্টার হাতার ব্লাউজের সঙ্গে পরনে ঢাকাই মসলিন শাড়ি, কারুকার্যময় চওড়া পাড়ের তাঁতের শাড়ি। আঁচলে রূপার চাবির গোছা, গলায় লম্বা হার, হাতভর্তি সোনার চুড়ি, নাকে বড় নথ, পায়ে নূপুর, উঁচু চূড়ো খোঁপা। খোঁপায় রূপার নকশি কাঁটা। সব মিলিয়ে আশালতার সাজসজ্জায় আভিজাত্যের পাশাপাশি রুচিবোধেরও পরিচয় মেলে। যেটা এখনও কোনো নারীর আরোধ্য সাজ। অন্যদিকে ‘নষ্টনীড়’-এর নায়িকা চারুলতা। 

পরনে দেশী তাঁত অথবা ঐতিহ্যময় জামদানি শাড়ির সঙ্গে রঙবেরঙের লেইস লাগানো ফুলহাতার ব্লাউজ। গায়ে সোনার গহনা। হাতে চুড়ি, বালা, গলায় কয়েক লহরের চেইন, কানে দুল, নাকে নথ, আলতা পরা পায়ে মল, লম্বা সিঁথি কেটে সামনের দু’পাশের চুলগুলো একটু ঢেউ খেলিয়ে বেণি করে সেই বেণি পেঁচিয়ে খোঁপা বাঁধা। সেই খোঁপা আবার ছোট ছোট সোনালি কাঁটা দিয়ে সাজানো। তার সাজসজ্জা পোশাক-আশাকে শিক্ষিত সম্ভ্রান্ত পরিবারের রুচিশীলতার ছাপ প্রকাশ পায় সব সময়। 

‘মালঞ্চ’ নাটকের নীরজা চিত্রিত হন লেইসের সূচি দেয়া থ্রি কোয়ার্টার হাতার ব্লাউজের সঙ্গে চওড়া পাড়ের দামি তাঁতের শাড়ি। তার গায়ে থাকে সোনার গহনা, হাতভর্তি চুড়ি, কানে দুল, গলায় লম্বা হার, পায়ে আলতা। ‘সুভা’ গল্পে বাকপ্রতিবন্ধী সুভাকে পাত্রপক্ষ দেখতে আসে। সে সময়ের সাজের বর্ণনা করে কবিগুরু লিখেছেন, ‘সুভার মা একদিন সুভাকে খুব করিয়া সাজাইয়া দিলেন। আঁটিয়া চুল বাঁধিয়া, খোঁপায় জরির ফিতা দিয়া, অলংকারে আচ্ছন্ন করিয়া তাহার স্বাভাবিক শ্রী যথাসাধ্য বিলুপ্ত করিয়া দিলেন।’ লাইন দুটি পড়েই আঁচ করা যায় সুভার সৌন্দর্য। 

এছাড়াও করুণা উপন্যাসের করুণা, ‘বউ-ঠাকুরানীর হাট’ উপন্যাসের বিনোদিনী, ‘চোখের বালি’র বিনোদিনী, ‘গোরা’ উপন্যাসে সুচরিতা, চতুরঙ্গের ‘দামিনী’ ও ঘরেবাইরে’র বিমলা, ‘যোগাযোগ উপন্যাসের কুমুদিনী প্রত্যেকে এক স্বতন্ত্র সত্তায় উজ্জ্বল। রবীন্দ্র রচনার কালজয়ী এ চরিত্রগুলো জীবন্ত হয়ে ওঠে কবিগুরু নান্দনিক বর্ণনায়। 

আমাদের জীবনযাপনে সময়কে অতিক্রম করে নয় বরং অনুধাবন করেই আবর্তিত হচ্ছে রবীন্দ্র দর্শনের ধারাটি। মানস-চেতনায় মুক্তি ছিল তাই রবীন্দ্র-সাহিত্যের নারীরা উদার ভাবনার অনুসারী হয়ে অনন্য মহিমায় ভাস্বর হয়ে আছে। তারা অস্তিত্বের সংকটে বিপর্যস্ত, অন্তর্জগতের দুঃসহ অন্ধকারে নৈঃসঙ্গের মুখোমুখি তবুও তারা পরিবর্তনের অশেষ পথে চলমান।

ছবি ও তথ্য – ইন্টারনেট 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers