রবিবার, ৭ মার্চ ২০২১, ২২ ফাল্গুন ১৪২৭ , ২৩ রজব ১৪৪২

জীবনযাত্রা
  >
ফ্যাশন

এক পায়ে নূপুর তোমার

নিউজজি ডেস্ক ৬ নভেম্বর , ২০১৮, ১২:৫৭:৪৮

  • এক পায়ে নূপুর তোমার

গহনার ধরন বদলে গেলেও এর ব্যবহার কমেনি এতটুকু, বরং গহনার নিত্যনতুন ধারা উঠে এসেছে আধুনিক নারীর পায়ে। পায়ের গহনায় এখন সোনা, রুপা ছাড়াও কাঠ, কড়ি, সুতা, পুঁতি, বিডস প্রভৃতি ব্যবহার হচ্ছে। আবার নূপুর ছাড়াও পায়েল, আংটি, খাড়–, চেইনও এখন পায়ের গহনায় বেশ জনিপ্রয়। বর্তমান সময়ে পায়েলের ঝুনঝুনিতেও এসেছে পরিবর্তন। কোনোটিতে একটি, আবার কোনোটিতে একসঙ্গে অনেক ঝুনঝুনি ব্যবহার হচ্ছে। 

আজকাল কম ঝুনঝুনি দেওয়া পায়েল মেয়েরা পরছে বেশি। কেবল এক পায়ে পায়েল পরার ফ্যাশন কিছুদিন আগেও প্রবল জনপ্রিয় ছিল। সেটি যে হারিয়ে গেছে, তা নয়। বরং পাশাপাশি আরও বৈচিত্র্য উঠে এসেছে নূপুর পরার ঢঙে। আজকাল ইচ্ছামতো নূপুর, পায়েল পরছে মেয়েরা। কখনো এক পায়ে, কখনো বা দুই পায়ে। আবার এক পায়ে একাধিক নূপুর কিংবা পায়েল বা দুই পায়ে দুই ধরনের নূপুর, পায়েল পরতেও দেখা যাচ্ছে।

নূপুর এমন একটি গহনা , যা প্রায় সব পোশাকের সঙ্গেই মানিয়ে যায়। সোনা-রুপার চাহিদা সব সময়ই রয়েছে। হাল ফ্যাশনে মুক্তা ও ক্রিস্টালের পাথরের নূপুর ফ্যাশনে আভিজাত্য ছড়িয়েছে। এটি বয়স্ক এবং অল্প বয়সী সবাইকে ভীষণভাবে মানিয়ে যাচ্ছে। 

কড়ি, ঝিনুক, শামুকের নূপুর ফ্যাশনপ্রেমীদের কাছে এখন বেশ জনপ্রিয়। রুপার ওপর অ্যান্টিক করা, ক্রিস্টাল বসানো নূপুরও এসব বেশ গর্জিয়াস। ইন্ডিয়ান কটক রুপার তৈরি ভারী নূপুরের চাহিদাও রয়েছে। তবে চকচকে পাথরের কারুকাজের নূপুরই সবচেয়ে বেশি চলছে এখন। পাথরের রঙ আর ডিজাইনেও রয়েছে ভিন্নতা। 

নূপুর ছাড়াও পায়েল বা অ্যাংলেট বেশ কয়েক বছর ধরে ফ্যাশনে জনপ্রিয়। সোনা বা রুপা ছাড়াও পুঁতি, বিডস, সুতা, কাচ, কড়ি, কাঠ, প্লাস্টিকসহ নানাকিছুর তৈরি পায়েল হাল ফ্যাশনে ট্রেন্ডি। পায়েল বা অ্যাংলেটের নকশায়ও রয়েছে বৈচিত্র্য। ফুল, পাখি, চাঁদ, তারা, ত্রিভুজ, হার্টসহ নানা শেপে নানা নকশায় তৈরি হচ্ছে পায়েল। মিনা করা রঙবেরঙের স্টোন বসানো ভারী পায়েলও পছন্দ অনেকের। কিছু পায়েলের চেইনে রয়েছে ঝালর বসানো, সঙ্গে যোগ হয়েছে হরেক রঙের স্টোন। সাদা পাথরের পায়েলও পছন্দের শীর্ষে রয়েছে। পাথরের তৈরি অ্যান্টিক পায়েলও এখন মেয়েদের পছন্দ। 

নূপুর, পায়েল ছাড়াও পায়ের গহনা য় খাড়–, খাড়–জাতীয় পায়েল, আংটি, মল, ঘুঙুর, পাশুলি, বাঁকমল, পাদকটম ইত্যাদি ঐতিহ্যবাহী এবং আদিবাসী গহনা ও অনেকের কাছে এক্সকুসিভ পায়ের গহনা হিসেবে পরিচিত। পশ্চিমা পোশাকের সঙ্গে এক পায়ে সুতার পায়েল দারুণ মানানসই। রঙিন বিডসের নূপুর আর পায়েল মানিয়ে যাবে সব ধরনের পোশাকের সঙ্গে। শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে ঝকঝকে পাথর বসানো এক লাইনের সরু পায়েল পরতে পারেন। লং স্কার্টের সঙ্গে পায়ের গহনা দারুণ মানানসই। টপস, জিন্স বা ক্যাপ্রির সঙ্গে নানা রঙের কয়েকটি নূপুর একসঙ্গে পরা যেতে পারে। তবে তা এক পায়ে পরলেই ভালো লাগবে। রঙিন সুতা ও পুঁতির মিশেলে তৈরি নূপুর পরতে পারেন টপস কিংবা ফতুয়ার সঙ্গে। আভিজাত্যের ছোঁয়া আনতে জমকালো শাড়ি কিংবা লেহেঙ্গার সঙ্গে পরতে পারেন খাড়– বা মোটা পায়েল। 

পা সাজাতে রকমারি আংটিও এখন মেয়েদের নিত্যকার সাজের অংশ। আজকাল একটি বা দুটি আঙুলে মোটা ধরনের আংটি পরছে মেয়েরা। মেটালের ওপর রঙিন পাথর দেওয়া বা একটি ঘণ্টি বসানো পায়ের আংটি এখন জনপ্রিয়। 

জুতার সঙ্গে মিলিয়ে পায়ের গহনা না পরলে ভালো দেখায় না। উঁচু হিল কিংবা ফিতা দেওয়া স্যান্ডেলের সঙ্গে পায়েল ভালো লাগবে না। পরলে যেন খুব হালকা নকশার হয়, সেদিকে লক্ষ রাখুন। ফিপ-ফপ ধরনের জুতার সঙ্গে নূপুর দারুণ মানানসই। চটি বা খোলা ধরনের স্যান্ডেলের সঙ্গে ভালো লাগবে সব ধরনের পায়ের গহনা । 

সাধারণ নকশার সোনার নুপূর বানাতে চাইলে এক ভরি সোনা ও রুপার ক্ষেত্রে দুই ভরির প্রয়োজন হবে। বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসে পুঁতি, বিডস, কড়ি, সুতার পায়েল পাবেন ১০০ থেকে ৩০০ টাকায়, খাড়– ২০০ থেকে ৬০০, অ্যান্টিক, কপার পায়েল, নূপুর ১৫০ থেকে ৫০০, চিকন স্টোন কিংবা ঝালর দেওয়া পায়েল ১০০ থেকে ২৫০ ও পায়ের আংটি ১২০ থেকে ৩০০ টাকা। 

বিভিন্ন শপিংমলে পাবেন নানা ধরনের পায়ের গহনা । তবে একটু ভিন্ন ধরনের পায়ের গহনা কিনতে যেতে পারেন মায়াসির, আড়ং,পিরান, যাত্রা, বিবিয়ানা, বিশ্বরঙসহ বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসে। এ ছাড়া হলমার্ক, আর্চিসসহ বিভিন্ন গিফট গ্যালারিতেও পাবেন নানা রকম পায়ের গহনা ।

ছবি ও তথ্য – ইন্টারনেট 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers