সোমবার, ২৭ জুন ২০২২, ১৩ আষাঢ় ১৪২৯ , ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

জীবনযাত্রা
  >
স্বাস্থ্য

প্রচণ্ড গরমে হিটস্ট্রোক, বাঁচবেন যেভাবে

নিউজজি ডেস্ক ২৪ মে , ২০১৭, ১৪:০৯:৫০

9K
  • প্রচণ্ড গরমে হিটস্ট্রোক, বাঁচবেন যেভাবে

ঢাকা: চলছে জ্যৈষ্ঠ মাস। এসময় পরিবেশের তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যায়। প্রচণ্ড গরমে আমাদের অবস্থাও হয় নাজেহাল। প্রচণ্ড দাবদাহে যে সব স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি হয় তার মধ্যে হিটস্ট্রোক অন্যতম।

হিটস্ট্রোক কী?

গরমের দিনের একটি মারাত্মক স্বাস্থ্যগত সমস্যার নাম হিটস্ট্রোক। চিকিৎসাশাস্ত্র অনুযায়ী প্রচণ্ড গরম আবহাওয়ায় শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে শরীরের তাপমাত্রা ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছাড়িয়ে গেলে তাকে হিটস্ট্রোক বলে।

স্বাভাবিক অবস্থায় রক্ত দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। কোনো কারণে শরীরের তাপমাত্রা বাড়তে থাকলে ত্বকের রক্তনালী প্রসারিত হয় এবং অতিরিক্ত তাপ পরিবেশে ছড়িয়ে দেয়। প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্র পরিবেশে অনেকক্ষণ থাকলে বা পরিশ্রম করলে তাপ নিয়ন্ত্রণ আর সম্ভব হয় না। এতে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত বিপদসীমা ছাড়িয়ে যায় এবং হিটস্ট্রোক দেখা দেয়।

প্রচণ্ড গরমে ও আর্দ্রতায় যে কারোরই হিটস্ট্রোক হতে পারে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে হিটস্ট্রোকের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। যেমন: শিশু ও বৃদ্ধদের তাপ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কম থাকায় হিটস্ট্রোকের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এ ছাড়া বয়স্ক ব্যক্তিরা প্রায়ই অন্যান্য রোগে ভুগে থাকেন কিংবা নানা ওষুধ সেবন করেন, যা হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। যারা দিনের বেলায় প্রচণ্ড রোদে কায়িক পরিশ্রম করেনতাদের ঝুঁকি বেশি। যেমন: কৃষক, শ্রমিক, রিকশাচালক। শরীরে পানিস্বল্পতা হলে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।

হিটস্ট্রোকের লক্ষণ:

মাথাব্যথা, ত্বক লাল হয়ে যাওয়া, ক্লান্ত হয়ে পড়া, বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া, মাংসপেশিতে ব্যথ্যা  ও হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে যাবে। তবে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা না নিলে রোগী অজ্ঞান হয়ে যাবে।

হিটস্ট্রোক প্রতিরোধ করবেন যেভাবে:

* রোদ থেকে দূরে থাকতে হবে। কাজ করুন খোলা হাওয়া কিংবা স্বস্তিকর পরিবেশে।

* গরমের সময় সারা দিনই একটু পর পর প্রচুর পানি পান করুন। প্রচণ্ড গরমে এর পরিমাণ হতে পারে তিন লিটারেরও বেশি।

* ঢিলেঢালা ও হালকা রঙের সুতির পোশাক পরুন।

* একাধিকবার গোসল করুন। রোদে বের হলে ছাতা ব্যবহার করুন।

* শিশু ও বয়স্কদের হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি। তাই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

* প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে সতর্ক হোন। প্রস্রাবের রং খেয়াল করুন। গাঢ় রঙের হলে আরো বেশি করে পানি পান করুন।

হিটস্ট্রোক হলে:

* রোগীকে ফ্যানের বা এসির নিচে ঠাণ্ডা পরিবেশে আনতে হবে। রাস্তাঘাটে হিটস্ট্রোক হলে হাতপাখা বা পেপার দিয়ে জোরে বাতাস করতে হবে।

* সঙ্গে সঙ্গে রোগীকে পর্যাপ্ত পানি পান করাতে হবে।

* দ্রুত শরীরের তাপমাত্রা কমানো জরুরি। এ জন্য মাথা ও শরীরে বেশি করে পানি ঢালতে পারেন।

* রোগীকে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিতে হবে।

 

নিউজজি/টিএফ

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন