বুধবার, ২ ডিসেম্বর ২০২০, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ , ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

অন্যান্য
  >
একুশে বইমেলা

বইমেলা হবে কি না ‘একটা সিদ্ধান্ত’ চায় প্রকাশনাগুলো

নিউজজি প্রতিবেদক ২৬ অক্টোবর , ২০২০, ১৭:২৭:১৭

  • ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: করোনা পরিস্থিতিতেও থেমে নেই মানুষের জীবনযাত্রা। ইতোমধ্যে সরকার বেশ কয়েক দফায় লকডাউন দিয়ে তা তুলে নিয়েছেন। ধীরে ধীরে কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে রাজধানী ঢাকায়। মানুষ ফিরেছেন তার কর্মস্থলে। কিন্তু এখনো শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে কেবল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হয়নি খোলা।

সেদিক থেকে বাঙালির প্রাণের মেলা ‘একুশে বইমেলা’ হবে কি হবে না তা একটু হলেও শঙ্কা থাকছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তার ওপর বিশেষজ্ঞরা আগেই ঘোষণা দিয়েছেন দেশে শীতের কারণে করোনার প্রকোপ বাড়তে পারে। এ অবস্থায় এর প্রভাব বইমেলায়ও পড়তে পারে বলে মনে করছেন তারা।

তবে দেশে এখন করোনার প্রকোপ যে অবস্থায় আছে তার আরো অবনতি না হলে আগামী অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০২১ যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছে আয়োজক সংস্থা বাংলা একাডেমি। তবে বর্তমান করোনা পরিস্থিতির যদি অবনতি হয় তাহলে সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে প্রতিষ্ঠানটি।

কিন্তু এই ‘যদিতে’ আপত্তি মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা সংস্থাগুলোর। প্রকাশনাগুলোর দাবি, মেলা হবে নাকি মেলা হবে না যেকোনো একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে বাংলা একাডেমিকে। মাঝামাঝি কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ নেই। কারণ প্রকাশনা সংস্থাগুলোর অর্থলগ্নির বিষয় আছে।

বাংলা একাডেমির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে করোনার পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০২১ যথাসময় অর্থাৎ আগামী ১ ফেব্রুয়ারি উদ্বোধন হবে। একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হবে মেলা। তবে করোনারোধে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় মেলার স্টল সংখ্যা গতবারের তুলনায় কমতে পারে। মেলায় আগত দর্শনার্থীদের কীভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রবেশাধিকার দেয়া যায় তারও পরিকল্পনা করা হচ্ছে। কিন্তু কোনো কারণে নভেম্বর-ডিসেম্বরে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করলে মেলার বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে বর্তমান করোনা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে যথাসময়ে মেলার আয়োজন করতে কোনো বাধা থাকবে না বলে জানিয়েছেন একাডেমির কর্তারা।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী গণমাধ্যমকে বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা বলতে পারি অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০২১ যথাসময়েই হবে। ১ ফেব্রুয়ারি মেলার উদ্বোধন হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই এবারের মেলা হবে। তবে নভেম্বর-ডিসেম্বরে করোনা পরিস্থিতি যদি আরো খারাপ হয়, তখন পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

স্থপতি কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী আরো বলেন, বর্তমান যে পরিস্থিতি তা অব্যাহত থাকলে আগামী বইমেলা আয়োজন করতে কোনো বাধা নেই। সেই অনুযায়ী আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। কীভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মেলার আয়োজন করা হবে আগামী এক মাসের মধ্যে এ নিয়ে বৈঠক করে বিস্তারিত জানানো হবে।

প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীলরা বলছেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে বসে মেলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বাংলা একাডেমিকে। কারণ এখন বাংলা একাডেমি বলল বইমেলা হবে। সেই অনুযায়ী আমরা অর্থলগ্নি করে মেলায় বই প্রকাশের প্রস্তুতি নিলাম। কিন্তু পরে সরকারের অনুমতি না পেয়ে বাংলা একাডেমি যদি বলে মেলা হবে না, তাহলে প্রকাশকদের যে ক্ষতি হবে তা অপূরণীয়। তাই মেলা হবে নাকি হবে না একটা সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মাঝামাঝি থাকার কোনো সুযোগ নেই। তবে বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে মানুষ স্বাভাবিক জীবন যাপন করছে। শপিং মল, সিনেমা হল খুলে দেয়া হয়েছে। ফলে বইমেলার আয়োজন করতে কোনো বাধা থাকতে পারে না।

অন্যপ্রকাশের স্বত্বাধিকারী মাজহারুল ইসলাম বলেন, করোনা পরিস্থিতি তো এখন স্বাভাবিক হয়ে আসছে। মানুষ স্বাভাবিক জীবনে অভ্যস্ত হয়ে আছে। বড় বড় শপিং মল খুলে দেয়া হয়েছে। এমনকি সিনেমা হলও খুলে দেয়া হয়েছে। কাজেই মেলা না হওয়ার কোনো কারণ দেখি না।

আগামী প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ওসমান গনি বলেন, বাংলা একাডেমি মেলার আয়োজনের কাজ শুরু করেছে এটা ঠিক। কিন্তু তারা যে কথাটা বলছে যে সরকার যদি কোনো সময় বন্ধ করে দেয় তাহলে এটাতে আমাদের কোনো আপত্তি করা যাবে না। এটা একটা নেগেটিভ বিষয়। এটাতে আমার অবজারভেশন হচ্ছে বাংলা একাডেমি সরকারসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষের পূর্ব অনুমতি না নিয়ে কাজ শুরু করেছে। বলা যেতে পারে যে তারা প্রধানমন্ত্রীর কোনো অনুমতি না নিয়ে কাজটা শুরু করেছে।

তিনি আরো বলেন, তাই বন্ধ করে দিলে আপত্তি করা যাবে না এই ধরনের কথা বলতে হচ্ছে তাদের। এখানে নেগেটিভ বিষয় হচ্ছে, মেলার আয়োজনের কাজ শুরু আগেই যার যার অনুমতি দরকার তা নিয়ে নিতে হবে। দ্বিতীয় বিষয় হচ্ছে, যখন একটা বইমেলা হয় তখন আমাদেরও একটা প্রস্তুতির বিষয় থাকে। এখন আমরা মেলার প্রস্তুতি নিলাম, তখন যদি মেলা না হয় তার ক্ষতিপূরণ কে দেবে?

বাংলা একাডেমির সূত্র জানায়, এবারের করোনার স্বাস্থ্যবিধির কারণে মেলার স্টলের সংখ্যা কিছুটা কমতে পারে। কিন্তু কত কমবে এই মুহূর্তে বলা কঠিন। কারণ গতবার মেলায় যারা অংশ নিয়েছে তাদের প্রত্যেকেই আগামী মেলায় অংশ নিতে আগ্রহী। ফলে কোনো প্রকাশনী প্রতিষ্ঠানকে বাদ দেয়া খুব সহজ বিষয় না। তাই নভেম্বর মাসে মেলার স্টলের ডিজাইন করার আগ পর্যন্ত আগামী মেলায় কতটি স্টল করা হবে তা এই মুহূর্তে বলা কঠিন।

এ বিষয়ে 'অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২০'-এর পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও বাংলা একাডেমির পরিচালক ড. জালাল আহমেদ বলেন, আগামী বইমেলায় স্টলের সংখ্যা কমলেও খুব একটা কমবে না। আরো মাসখানেক পরে যখন স্টলের ডিজাইন করতে যাবো এবং তখন যদি পরিস্থিতি আরো খারাপ হয় তখন হয়তো কিছু কমতে পারে। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে আগ্রহ দেখাচ্ছে তাকে স্টলের সংখ্যা কমার সম্ভাবনা খুবই কম।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ১০০ বই করার কথা রয়েছে বাংলা একাডেমির। এখন পর্যন্ত সংস্থাটি ২৭টি বই প্রকাশ করছে বলে দাবি প্রতিষ্ঠানটির।

এই বিষয়ে ড. জালাল আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে একশ বই করার কথা রয়েছে বাংলা একাডেমির। এরমধ্যে ২৭টি বই বেরিয়েছে। ৩ বছরে ১ শত বই করার কথা রয়েছে। সেইভাবে আমরা আগাচ্ছি। এবারের (আগামী) বইমেলায়ও বঙ্গবন্ধুর ওপর ২০ থেকে ২৫টি বই প্রকাশিত হবে।

প্রসঙ্গত, বাংলা একাডেমির তথ্য মতে অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০২০ এ মেলায় ৮২ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছিল। নতুন বই প্রকাশিত হয়েছিল ৪ হাজার ৯১৯টি। বাংলা একাডেমি প্রকাশ করেছিল ৪১টি নতুন বই। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমি অংশে সব মিলিয়ে ৫৬০টি প্রতিষ্ঠানকে ৮৭৩টি ইউনিট বা স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল।

নিউজজি/জেডকে

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
        









copyright © 2020 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers