শনিবার, ৮ মে ২০২১, ২৫ বৈশাখ ১৪২৮ , ২৫ রমজান ১৪৪২

অন্যান্য
  >
করোনাভাইরাস

করোনাক্রান্তদের অর্ধেকই উপসর্গহীন

নিউজজি ডেস্ক ১০ এপ্রিল , ২০২১, ১২:২৭:২৩

  • ছবি : ইন্টারনেট থেকে

ঢাকা: করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের অর্ধেকের শরীরেই এখনও কোনো লক্ষণ বা উপসর্গ নেই। আর যাদের উপসর্গ বা লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে, তাদের অবসন্নতা, মাথা ব্যথা ও কফ হয়েছে। ব্রিটেনে ১০ হাজার করোনা আক্রান্তের মধ্যে করা সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় এ ধরনের একটি চিত্র ফুটে উঠেছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, বাংলাদেশেও উপসর্গহীন সংক্রমণ এখন প্রায়ই দেখা যাচ্ছে। কোনো উপসর্গ নেই কিন্তু অবসন্নতা, মাথাব্যথার কারণে মানুষ নিজে থেকেই পরীক্ষা করাতে এলে নিজেদের করোনায় আক্রান্ত হতে দেখছেন। এ অবস্থায় চিকিৎসকরা প্রথম থেকে বলে আসা স্বাস্থ্যবিধি মানার কথাই বলছেন।

তারা বলছেন, সবচেয়ে ভালো হয় ভাইরাসটি থেকে বেঁচে থাকা এবং বাইরে বের হলে অবশ্যই মানসম্পন্ন মাস্ক ব্যবহার করা। এ ছাড়া যথাসম্ভব ভিড় এড়িয়ে চলতে হবে এবং ঘন ঘন হাত ধুয়ে নিতে হবে। হাত ধুতে না পারলে স্যানিটাইজার দিয়ে হাত মুছে নিতে হবে এবং ঘন ঘন। একটু পর পর মুখে, নাকে ও চোখে হাত দিয়ে স্পর্শ করা বন্ধ করতে হবে। থুতু দিয়ে টাকা বা কাগজ গোনা বন্ধ করতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়াই প্রমাণ করছে যে গরমে ভাইরাসটির সংক্রমণ ক্ষমতা হ্রাস পায় না। গরম পানি পান করলেও ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়া যায় না। কারণ এটি কোষে গিয়ে শরীরের ক্ষতি করে। এ কারণে গরম ভাপ নেয়ারও দরকার নেই।

তারা বলছেন, ২০০৩ সালে জাপানে সার্স ভাইরাসের মহামারির সময় তারা মুখে হাত দেয়া বন্ধ করে এবং হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলেছে। ফলে জাপানে সার্স ভাইরাসে সংক্রমণ কমে যায়।

চিকিৎসকরা হার্ড ইমিউনিটি গড়ে তোলার কথা বলছেন। আর সে জন্য জনসংখ্যা ৭০ শতাংশ টিকার আওতায় আনতে হবে। ভারতের সিরাম থেকে টিকার প্রথম চালানের পর দ্বিতীয় চালানে অর্ধেকেরও কম টিকা এসেছে। এরপর মার্চ মাসে আরেকটি চালান আসার কথা থাকলেও তারা মার্চে আর কোনো টিকা পাঠায়নি। আমাদের উচিত টিকা সংগ্রহে অন্য কোম্পানিগুলোর সাথে যোগাযোগ করা এবং সিরামকে টিকা দিতে বাধ্য করা।

অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা ৩০ বছরের নিচের কাউকে দেয়া যাবে না বলে ব্রিটেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রধান সুপারিশ করেছেন। ৩০ বছরের নিচের বয়সীদের দেয়া হলে ভয়াবহ জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাটি নিরাপদ, বয়স্কদের জন্য এটা বিশেষ উপকারী। তবে এই টিকাটি নিলে প্রতি ১০ লাখে একজনের রক্ত জমাট বাঁধার (ব্লাড ক্লট) আশঙ্কা রয়েছে।

ব্রিটেনের ভ্যাক্সিনেশন অ্যান্ড ইমিউনাইজেন বিষয়ক যৌথ কমিটি বলছে, অতএব যারা টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন তাদের উচিত দ্বিতীয় ডোজ নিয়ে নেয়া তারা যে বয়সেরই হোক। কারণ করোনার বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য টিকাটি গুরুত্বপূর্ণ।

রক্তে স্বল্প পরিমাণ সাদা কণিকা থাকায় ব্রিটেনের যে গুটি কয়েকজনের রক্ত জমা বেঁধেছে কেবল তাদেরই উচিত দ্বিতীয় ডোজের টিকা না নেয়া। এর বাইরে অন্য সবারই উচিত দ্বিতীয় ডোজ টিকা নেয়া। এ ছাড়া অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নিলেই যে ব্লাড ক্লট হচ্ছে এর কোনো তথ্যভিত্তিক প্রমাণ নেই। যাদের এ ধরনের সমস্যা রয়েছে দ্বিতীয় ডোজ নেয়ার আগে তাদের উচিত চিকিৎসকদের তা জানানো।

ব্রিটেনের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নেয়ার পর যাদের চার দিনের বেশি মাথাব্যথা ও চোখে ঝাপসা দেখার সমস্যা থাকবে তাদের ধরে নিতে হবে যে তাদের ব্রেইনে ব্লাড ক্লটের একটি সংযোগ থাকতে পারে। কিন্তু এটা রক্তের অন্য শিরার বন্ধ (ব্লক) হওয়ার সাথে সম্পর্কিতও হতে পারে যার কারণে পা ফুলে যেতে পারে, টিকা নেয়ার স্থানটিতে রক্ত জমাট বেঁধে যেতে পারে। এ কারণে পেটে অথবা বুকে ব্যথা হতে পারে এবং একই সাথে শ্বাসকষ্টও হতে পারে।

ব্রিটেনে প্রথম ডোজ টিকা নেয়ার পর যে ৭৯ জনের ব্লাড ক্লটের ঘটনা ঘটেছে সে দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দ্বিতীয় ডোজ নেয়ার পর কারো ব্লাড ক্লটের কোনো ঘটনা দেখতে পায়নি।

জেসিভিআইয়ের প্রফেসর এডাম ফিন বলেন, প্রকৃত অবস্থার হয়তো পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু দ্বিতীয় ডোজ নেয়ার পর কোনো সমস্যা হয়েছে এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers