বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ , ৩ জিলহজ ১৪৪৭

অন্যান্য
  >
বিশ্বকাপ

সান্ত্বনার জয়ও পায়নি বাংলাদেশ, জিতে সেমিতে আফগানিস্তান

শামীম চৌধুরী ২৫ জুন , ২০২৪, ১১:৪৬:২৭

  • বাংলাদেশকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠার আনন্দে কোচ জোনাথন ট্রটকে জড়িয়ে ধরেছেন আফগান অধিনায়ক রশিদ খান। ছবি-ক্রিকইনফো

আফগানিস্তান : ১১৫/৫ (২০.০ ওভারে)

বাংলাদেশ :  ১০৫/১০ (১৭.৫ ওভারে)

ফল : ডাকওয়ার্থ-লুইস মেথডে বাংলাদেশ ৮ রানে পরাজিত।

প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ : নাভিন উল হক (আফগানিস্তান)।

সুপার এইটে অস্ট্রেলিয়া-ভারতের কাছে হেরেও সেমিফাইনালের সম্ভাবনা ছিল বাংলাদেশের। সেন্ট লুসিয়ায় অস্ট্রেলিয়াকে ২৪ রানে ভারত হারিয়ে দেয়ায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে সেন্ট ভিনসেন্টে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচটি হয়ে দাঁড়িয়েছিল এসিড টেস্ট।

জিতলেই চলবে না, মেলাতে হবে সমীকরণ। এই সমীকরণের ম্যাচে টসে হেরে ফিল্ডিংয়ে নেমে লেগ স্পিনার রিশাদের উইকেট টেকিং বোলিংয়ের (৪-০-২৬-৩) এর পাশে তাসকিন (৪-১-১২-১), মোস্তাফিজ (৪-০-১৭-১), সাকিবের (৪-০-১৯-০) মিতব্যয়ী বোলিংয়ে আফগানিস্তানকে ১১৫/৫-এ আটকে দিয়ে সেমির স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। 

আফগানিস্তানের দেয়া লক্ষ্য পেরিয়ে যেতে হবে ১২.১ ওভারে। তবে দফায় দফায় বৃষ্টিতে বাধাগ্রস্ত ম্যাচ এবং আফগান ফিল্ডারদের নাটকে এই লক্ষ্য পূরণ হয়নি বাংলাদেশের। এমনকি জয়ের সান্ত্বনাও পায়নি বাংলাদেশ দল।

পেসার নাভিন উল হক (৪/২৬) এবং লেগ স্পিনার রশিদ খানের (৪/২৩) বোলিংয়ে ১৯ ওভারে ১১৪ রানের টার্গেটে বাংলাদেশ হেরে গেছে ৮ রানে। বাংলাদেশকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসে এই প্রথম সেমিফাইনালের টিকিট পেয়েছে আফগানিস্তান।  

এই ম্যাচে টসে হেরে ফিল্ডিংয়ে নেমে শুরু থেকে আফগানিস্তানকে উইেকেটে আটকে ফেলেছে বাংলাদেশ বোলাররা। ১২০ টি ডেলিভারির মধ্যে ৬৬টি ডট দিয়েছে বাংলাদেশ। ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে আফগানিস্তানকে অ্যাডভান্টেজ নিতে দেয়নি বাংলাদেশ বোলাররা। ২৭/০-তে আটকে রেখেছে।

শেষ পাওয়ার প্লে-তে ৩৫ রান যোগ করতে আফগানিস্তান হারিয়েছে ৪ উইকেট। শেষ ওভারে তানজিম হাসান সাকিব রশিদ খানের হাতে খেয়েছেন ২টি ছক্কা। ওই ওভারের ১৫ রান খরচ না হলে বাংলাদেশের সামনে টার্গেটটা আরও সহজ হতে পারত। ওপেনিং জুটিতে আফগানিস্তানক ৫৯ করলেও খেলতে হয়েছে তাদেরকে ৬৪টি বল।

ওপেনার গুরবাজ করেছেন সর্বোচ্চ ৪৩ রান। তাকে খেলতে হয়েছে ৫৫টি বল। যে ইনিংসে ৩টি চারের পাশে ছিল ১টি ছক্কা। এই ম্যাচে ফিল্ডিংয়ে তাড়াহুড়া করে ২টি ক্যাচ ড্রপ করেছে বাংলাদেশ ফিল্ডাররা। আফগানিস্তানের দুই ব্যাটার এক এন্ডে চলে আসার পরও রান আউট করতে পারেনি বাংলাদেশ। 

২০২১ সালে ওমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সাকিবের ১১ উইকেটের রেকর্ড ছিল এতদিন সংক্ষিপ্ত সংস্করণের ক্রিকেটে বৈশ্বিক কোনো আসরে বাংলাদেশ বোলারদের মধ্যে সেরা।

এই ম্যাচে লেগ স্পিনার রিশাদ ছাড়িয়ে গেছেন সাকিবের ৪ বছরের আগের কৃতি। নিজের দ্বিতীয় ওভারের ৪র্থ বলে আফগান ওপেনার ইব্রাহিম জাদরানকে লং অফে ক্যাচ দিতে বাধ্য করে (২৯ বলে ১ বাউন্ডারিতে ১৮) রিশাদ চলমান আসরে ১২তম উইকেট শিকারে সাকিবের কৃতিত্বকে ছাড়িয়ে নতুন ইতিহাস রচনা করেছেন।

শুধু সাকিবকে টপকে যাননি, এক ওভারের শেষ স্পেলে (১-০-৫-২) গুরবাজ (৫৫ বলে ৪৩) এবং গুলবাদিন নাইবকে (৩ বলে ৪) শিকার করে নিজের কৃতিত্বটা ছাড়িয়ে রিশাদের শিকারসংখ্যা উন্নীত হয়েছে এই আসরে ১৪ উইকেট।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বাধিক ১৬টি উইকেটের কৃতিত্ব শুধু শ্রীলঙ্কার হাসারাঙ্গার, ২০২১ সালে। ২০১২ সালে অজন্থা মেন্ডিজ ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হাসারাঙ্গা এবং চলমান বিশ্বকাপে আর্শদ্বীপও ফজলহক ফারুকী ১৫টি করে উইকেট শিকার করেছেন ইতোমধ্যে। তাদের পেছনে রিশাদের শিকারসংখ্যা এই আসরে ১৪টি। 

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সবার আগে উইকেটের হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করা সাকিবের সামনে ছিল আর একটি মাইলফলকের হাতছানি। ১ উইকেট পেলে সাউদির পর দ্বিতীয় বোলার হিসেবে ১৫০ উইকেট পূর্ণ করার সুযোগ ছিল সাকিবের। তবে লাকি ভেন্যু সেন্ট ভিনসেন্টে উইকেটহীন কাটানোয় (৪-০-১৯-০) এই মাইলস্টোনে বেড়েছে সাকিবের অপেক্ষা।

সেমিফাইনালের টিকিট পেতে ১২.১ ওভারে ১১৬ রানের টার্গেটটা কঠিন মনে হলেও সুপার এইটে জয়ের সান্ত্বনা পেতে ২০ ওভারে এই টার্গেট পেরুনো কঠিন কিছু ছিল না। এমনকি বৃষ্টিতে পরিবর্তিত টার্গেট যখন ১৯ ওভারে নেমে এসেছে ১১৪, তখনও কঠিন মনে হয়নি। তবে লিটন (৪৯ বলে ৫ চার, ১ ছক্কায় ৫৪) ছাড়া অন্য কোনো ব্যাটার দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট করতে পারেননি।  

বাংলাদেশের টপ এবং মিডল অর্ডাররা এই টার্গেট কঠিন করে দিয়েছেন। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে ফজলহক ফারুকির ইনসুইং ডেলিভারিতে এলবিডাব্লু হয়েছেন তানজিদ হাসান তামিম (৩ বলে ০)। সর্বশেষ ৪ ইনিংসে এটি তানজিদের তৃতীয় ডাক। এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ডাকের রেকর্ড ছুঁলেন তিনি। এবারই উগান্ডার রজার মুকাসা শূন্যতে আউট হন তিনবার।

পরের ওভারে নাভিন উল হক এক বলের ব্যবধানে শিকার করেছেন মূল্যবান দুই উইকেট। শান্ত ডিপ স্কোয়ার লেগে (৫ বলে ৫), সাকিব রিটার্ন ক্যাচ দিয়ে পেয়েছেন গোল্ডেন ডাক (০ বলে ১)। রশিদ খানের প্রথম ওভারে সৌম্য বোল্ড আউট হয়েছেন (১০ বলে ১০)। ২ রানের মাথায় জীবন ফিরে পাওয়া হৃদয়কে ফিরিয়ে দিয়েছেন রশিদ খান নিজের দ্বিতীয় ওভারে। তাকে সুইপ করতে যেয়ে ডিপ স্কোয়ার লেগে দিয়েছেন হৃদয় ক্যাচ (৯ বলে ২ বাউন্ডারিতে ১৪)। ৯২ ম্যাচে দেড়শ উইকেট পূর্ণ করে এই মাইলস্টোনে দ্রুততম রশিদ খান।

রশিদ খানের পরের ওভারে পর পর দুই বলে মাহমুদউল্লাহ (৯ বলে ৬) উইকেটের পেছনে এবং রিশাদ বোল্ড (১ বলে ০) হয়েছেন। এই দুটি উইকেটে ম্যাচটি বাংলাদেশের হাতের মুঠো থেকে বেরিয়ে গেছে। ১৮তম ওভারে নাভিন উল হক পর পর দুই বলে তাসকিন (৯ বলে ২) এবং মোস্তাফিজকে (১ বলে ০) ফিরিয়ে দিলে সেমিতে ওঠার আনন্দে উৎসবে ফেটে পড়ে আফগানিস্তান।

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers