মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ , ২ জিলহজ ১৪৪৭

অন্যান্য
  >
বিশ্বকাপ

আফগান ক্রিকেটের রূপকথার নেপথ্যে ভারতের অবদান

শামীম চৌধুরী ২৫ জুন , ২০২৪, ২৩:৫৭:১১

  • সেমিফাইনালে ওঠার আনন্দে আফগানিস্তানের রাজপথে লাখ লাখ মানুষ। ছবি-ইন্টারনেট

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম দুই আসরে (২০০৭ও ২০০৯) কোয়ালিফাই করতে পারেনি আফগানিস্তান। ২০১২ থেকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিয়মিত অংশ নেয়া আফগানিস্তানের সেরা সাফল্য এতোদিন ছিল ২০১৬ সালে সুপার টেন।

সেই আফগানিস্তান এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ রাউন্ড, সুপার এইটের হার্ডল পেরিয়ে পেয়েছে সেমিফাইনালের টিকিট! আফগান ক্রিকেটের এই অবিশ্বাস্য সাফল্য রূপকথাকেও মানাবে হার।

গায়ানায় নিউ জিল্যান্ডকে ৮৪ রানে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এই আসরে শুরু আফগান রূপকথা। সুপার টেন এ সেন্ট লুসিয়ায় ২০২১'র টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২১ রানে জয় ছিল আফগানিস্তান ক্রিকেট ইতিহাসে সেরা আপসেট। সমমানের প্রতিপক্ষ বাংলাদেশের বিপক্ষে ৮ রানে জয়ে রূপকথার গল্পই রচনা করেছে আফগানিস্তান।

বৈশ্বিক কোনো ক্রিকেট আসরে আফগানিস্তানের এমন সাফল্য এটাই প্রথম। তবে গত বছরের অক্টোবর-নভেম্বরে ভারতে অনুষ্ঠিত ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ ক্রিকেটেও এমন সাফল্যগাঁথার হাতছানি ছিল আফগানিস্তানের সামনে। বাংলাদেশের কাছে হার দিয়ে শুরু আইসিসির ওই মেগা আসরে ইংল্যান্ড, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে সেমির সম্ভাবনাও ছিল আফগানিস্তানের।

শেষ ২ ম্যাচের মধ্যে একটিতে জিততে পারলেই উঠে যেতো তারা সেমিতে। তবে মুম্বাইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩ রানে হার এবং আহমেদাবাদে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৫ উইকেটে হেরে সেমির স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে আফগানিস্তানের। তারপরও বিশ্বকাপের ওই আসরে বাংলাদেশের সর্বসাকূল্যে জয়ের সংখ্যা যেখানে ২টি, সেখানে আফগানিস্তানের জয় ৪টি! এই সাফল্যেই ক্রিকেট বিশ্বকে দিয়েছে আফগানিস্তান আগমনী বার্তা।

আইসিসির প্রথম ৮টি পূর্ণ সদস্য দেশের বাইরে আইসিসির কোনো মেগা ইভেন্টে সেমিফাইনালে ওঠার রেকর্ড এই নিয়ে তৃতীয়। ২০০৩ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে কেনিয়া, ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশের পর এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আন্ডারডগ আফগানিস্তান উঠল সেমিফাইনালে।

এমন গর্বিত ইতিহাস রচনা করায় কাবুল-কান্দাহারসহ পুরো আফগানিস্তানের প্রধান সড়কে নেমে এসেছে লাখ লাখ লোক। ক্রিকেট দলের সাফল্যে রাতভর উৎসব করেছে তারা। 

আফগান ক্রিকেটের এই রূপকথার পেছনে ভারতের অবদানকে কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার।

২০১৪ সালে ফরম্যাট ভেঙ্গে এশিয়া কাপে আফগানিস্তান খেলার সুযোগ পেয়েছে বিসিসিআই-এর তৎকালীন সভাপতি এবং এসিসির চেয়ারম্যান শ্রীনিবাসনের হস্তক্ষেপে। ২০১৭ সালে আফগানিস্তানের টেস্ট মর্যাদাপ্রাপ্তির পেছনেও অবদান ভারতের।

সর্বত্র যুদ্ধাবস্থা থাকায় অনিরাপদ আফগানিস্তানের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কার্যক্রম চালিয়ে নিতে প্রথমে ধর্মশালা, পরবর্তীতে দেরাদুনকে বরাদ্দ দিয়েছে বিসিসিআই। সেখান থেকেই নিবিড় অনুশীলন করে আইসিসির সূচি পালন করছে আফগানিস্তান। লালচাঁদ রাজপুত, মনোজ প্রভাকর, অজয় জাদেজারা আফগানিস্তানের কোচের ভূমিকা পালন করে দেখিয়েছেন এই দেশটিকে স্বপ্ন।      

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) সর্বশেষ আসরে যেখানে বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের মধ্যে প্রতিনিধিত্ব করেছেন শুধু মোস্তাফিজুর রহমান, সেখানে আফগানিস্তানের ৮ ক্রিকেটার খেলেছেন সর্বশেষ আইপিএলে। রশিদ খান আইপিএলের এক আসরে যে পরিমান সম্মানী পাচ্ছেন, আইপিএলে সব আসর মিলেও সাকিবের অঙ্ক তার চেয়ে কম! আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে সুসম্পর্কের কারণেই বিসিসিআই ক্রিকেট কুটনীতিতে আফগানিস্তানকে বাড়িয়েছে বন্ধুত্বের হাত। আফগানিস্তান টেস্ট অভিষেক হয়েছে বেঙ্গালুরুতে, আফগানিস্তান বেশ ক'টি হোম সিরিজ খেলেছে ভারতের মাটিতে স্রেফ বিসিসিআই-এর পরম বন্ধু বলেই।

আফগানিস্তানের তালেবানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের প্রধান, সুহেল শাহীন একটি গণমাধ্যমে ভারত সরকারের অবদানকে কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেছেন- ‘আফগানিস্তান ক্রিকেট দলের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভারতের ক্রমাগত সাহায্যের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। আমরা সত্যিই এর প্রশংসা করছি।’ 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers