বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ , ৩ জিলহজ ১৪৪৭

অন্যান্য
  >
বিশ্বকাপ

ব্রায়ান লারা স্টেডিয়ামে কী আর একটি আফগান রূপকথা

শামীম চৌধুরী ২৬ জুন , ২০২৪, ২৩:০৬:৪৩

  • ব্রায়ান লারা স্টেডিয়াম। ছবি-ইন্টারনেট

যে দেশটির প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট শুরু ২০০৪ সালে এসিসি ট্রফিতে অংশগ্রহনের মধ্য দিয়ে, ২ দশকের মধ্যে সেই আফগানিস্তান করেছে অসাধ্য সাধন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নবম আসরে জায়ান্টদের বিদায় করে সেমিফাইনালিস্ট তারা।

৭ মাস আগে ভারতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে পাকিস্তান, ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে সেমির স্বপ্ন দেখা দলটি শেষ দুই ম্যাচের জয় হাতছাড়া করে সেমির কক্ষপথ থেকে ছিটকে গেছে।

সেই কষ্টটা এবার লাঘব করেছে রশিদ খানরা আফগান রূপকথার গল্প লিখে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রাক আলোচনায় আফগানিস্তানকে নিয়ে তেমন বড় কোনো সম্ভাবনা দেখেননি অধিকাংশ ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। ব্যতিক্রম ছিলেন শুধু একজন, তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ লিজেন্ডারি ব্রায়ান চার্লস লারা।

তিনিই শুধু আফগানিস্তানকে সেমিফাইনালে দেখার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিলেন। ক্যারিবিয়ান গ্রেটের সেই ভবিষ্যদ্বানী উদ্বুদ্ধ করেছে আফগান ক্রিকেট দলকে। সেই লারার নামে ত্রিনিদাদের তারুবায় স্টেডিয়ামে সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। লারাকে আর একটি জয় উপহার দিয়ে আফগান ক্রিকেটে রেনেঁসার গল্পটা লিখতে প্রত্যয়ী রশিদ খানরা।

সেন্ট ভিনসেন্টে বাংলাদেশকে সুপার এইটের শেষ ম্যাচে হারিয়ে সে প্রত্যয়ের কথাই শুনিয়েছেন আফগানিস্তান অধিনায়ক রশিদ খান- ‘একমাত্র ব্রায়ান লারাই আমাদের সেমিফাইনালে দেখেছিলেন। আমরা তাঁকে সঠিক প্রমাণ করেছি। আমরা যখন ওয়েলকাম পার্টিতে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করি, আমি তাঁকে বলেছিলাম, আমরা আপনাকে হতাশ করব না। সেমিফাইনালে যাওয়া আমাদের জন্য স্বপ্ন ছিল। আমরা যেভাবে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিলাম, নিউজিল্যান্ডকে হারানোর পরই আমাদের মধ্যে এ বিশ্বাস জন্মেছিল। আমরা দেশের মানুষকে সন্তুষ্ট করতে চেয়েছি। সেমিতে আমাদের পরিষ্কার চিন্তাভাবনা নিয়ে যেতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে আমরা যেন মঞ্চটা উদ্‌যাপন করি।’

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আফগানিস্তানের রেকর্ড ভালো নয় আফগানিস্তানের। ২টি মুখোমুখি লড়াইয়ে ২টিতেই হেরেছে আফগানিস্তান। ২০১০ সালে বারবাডোজে ৫৯ রানে হারের পর ২০১৬ সালে মুম্বাইয়ে ৩৭ রানে হেরেছে আফগানিস্তান দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে।

আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে শুধু দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ভারতের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত জয় নেই আফগানিস্তানের। এবার জয়ের বৃত্ত পূরণে অঙ্গীকার আফগানদের।

ত্রিনিদাদের রাজধানী পোর্ট অব স্পেন থেকে ৫০ মাইল দূরে ১৫ হাজার আসন বিশিষ্ট ব্রায়ান লারা স্টেডিয়ামের পিচ, আউটফিল্ড চেনা আফগানিস্তান দলেল। চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ রাউন্ডে পাপুয়া নিউ গিনির বিপক্ষে ৭ উইকেটে জয়ের অতীত আছে আফগানিস্তানের। বিপরীতে এই মাঠে খেলার অতীত নেই দক্ষিণ আফ্রিকার।

আইসিসির মেগা ইভেন্টগুলোতে নক আউট পর্বে চোকার্স অপবাদ থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা ১০ বছর পর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে। ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ভারতের কাছে ৬ উইকেটে হারের ছবিটা এবারও মনোবলে ধাক্কা দিতে পারে দক্ষিণ আফ্রিকার।

তা ধরে নিয়ে হারানোর কিছু নেই মন্ত্রে খেলতে শিষ্যদের দিয়েছেন নির্দেশনা দিয়েছেন আফগানিস্তানের কোচ জোনাথন ট্রট-‘আমাদের জন্য এটা নতুন একটা চ্যালেঞ্জ। আমি মনে করি এটি সেমিফাইনালে আমাদের বিপজ্জনক করে তোলে এমন একটি দল হিসাবে যেখানে হারানোর কিছু নেই। প্রতিপক্ষের উপর অনেক চাপ রয়েছে।’ দক্ষিণ আফ্রিকা কোচ রব ওয়াল্টার চোকার্স অপবাদ ঘুঁচিয়ে এবার ট্রফি জয়ের স্বপ্ন দেখছেন এই দলটিকে ঘিরে-‘ স্বপ্ন দেখা সবসময়ই দুর্দান্ত এবং আমি মনে করি দক্ষিণ আফ্রিকার প্রত্যেকেই সেই সময়ের স্বপ্ন দেখে যখন একটি ট্রফি তুলে নেওয়া হয়।’

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers